ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

নগর উন্নয়নে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ
আনিসুর রহমান দিপু
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের হাত থেকে বাঁচাতে সরকার যে পরিকল্পিত নগরায়ণের নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক ঘটনা। পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে যে, আবাদযোগ্য জমি হ্রাস এবং অপরিকল্পিত নগরারণের ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসার উপক্রম হয়েছে। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের মোট জমির পরিমাণ হলো ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমি রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এর এক চতুর্থাংশ এখন হুমকির মুখে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে, দিনে ২২০ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। বছরে কমছে ৮২ হাজার হেক্টর জমি। এ ছাড়া বছরে নদীতে বিলীন হওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার হেক্টর। বিগত ৩৭ বছরে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, স্থাপনা। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিবেশ বিরাজ করছে আবাদি ভ‚মিকে ঘিরে। এই অবস্থার এখনই অবসান না হলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখ করার যৌক্তিকতাও হারিয়ে ফেলতে পারে। যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ চিত্রের আভাস দিচ্ছে। সব থেকে আশঙ্কার দিকটি হলোÑ গ্রামীণ কর্ম অবকাঠামো গড়ে না ওঠার ফলে ঢাকা আজ জনসংখ্যার চাপে পড়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রামগঞ্জে কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে গ্রামের মানুষ হয়ে পড়েছে শহরমুখী। যার নেতিবাচক প্রভাবে ইতোমধ্যে নগর জীবনের সুব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। যানজট, পানি নিষ্কাশনে চরম অব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণসহ সবকিছুই এক অসহনীয় পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। আছে শব্দদূষণ, কালো ধোঁয়া থেকে উদগীরিত বিষাক্ত সিসা নির্গমণÑ যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।
এই যখন ঢাকার অবস্থা ঠিক সেই মুহূর্তে গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা যায় যে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি করে ‘জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতিমালার এক খসড়া চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নগরমুখী জনস্রোত ঠেকাতে গ্রামগঞ্জে কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ। এ ছাড়া সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গ্রামের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ ছায়াঘেরা, সুনিবিড় আবহ বজায় রেখে শহরের সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে গ্রামকে শহর করার যে প্রতিশ্রæতি রয়েছে সেটার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে দেশের গ্রামাঞ্চলকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সেখানে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ, কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণ-বিপণনের আধুনিক সুব্যবস্থার দিকটিই রয়েছে পরিকল্পনার মূল অংশে। এই পরিকল্পনা একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে যুগ যুগ ধরে উপেক্ষিত হলেও বর্তমান সরকার উদ্যোগটি নিয়েছেÑ যা অবশ্যই ধন্যবাদযোগ্য। তবে এটিও লক্ষ রাখতে হবে যেন এই উদ্যোগ দ্রæত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের দরজায় দ্রæততম সময়ের মধ্যে এর সুফল পৌঁছে যায়।
তাহলে দেশ একটি অর্থনৈতিক স্থিতি ও গতিশীল বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে সক্ষম হবে। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় যে, হেলথ কমিউনিটি প্রোগ্রাম, একটি বাড়ি-একটি খামার, সারা দেশকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতার অন্তর্ভুক্তিকরণ, পরিবেশবান্ধব প্রকৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে যুগোপযোগী করা, বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন, মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা, বেতন কাঠামো বাড়িয়ে পুনঃনির্ধারণসহ ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা, জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ মানবিক এবং জাগতিক নানা প্রেক্ষাপটকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে অগ্রসরমান পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে কার্যকরী উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতঃপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার রেখে এসেছে। এবারের চলতি মেয়াদেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে পারবেÑ এমন প্রত্যাশা করাটা খুব বেশি কিছু নয়। শুধু লক্ষ্যে স্থির এবং উদ্যোগ ও বাস্তবায়নই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আর সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাটাও এ উদ্যোগের এক মৌলিক অধ্যায়। সরকার যেন এ দিকটার প্রতিও থাকে সচেতনÑ সেটিও বিবেচনায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নের মডেল হিসেবেও বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করেছে। অতি সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিশ্বের যে কয়টি বড় শহর বসবাসের জন্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকা সেই শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে প্রথম সারিতে। এবং আরেক গবেষণা মতে দেশের ভেতরে সব থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ শহর হলো নারায়ণগঞ্জ। তারপর ঢাকা এবং গাজীপুর। এমতাবস্থায় নগর উন্নয়ন যেন শুধু অট্টালিকা, ইমারত নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এ উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবুজায়ন, পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ, অবৈধভাবে ঢাকার খাল দখলমুক্ত এবং চারপাশের নদীগুলোকে রক্ষা খুবই জরুরি। উল্লেখ্য, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি কঠোর ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই নদীর প্রবাহ বন্ধ করা চলবে না।
পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ঢাকার অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার, ইউলুপ নির্মাণসহ বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসী যানজট থেকে অনেকাংশে নিষ্কৃতি পাবে বলে নগরবিদদের অভিমত। দেশরতœ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশকে উন্নয়ন ধারায় অন্তর্ভুক্ত করে যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এর সুফল যুগ যুগ ধরে দেশবাসী ভোগ করবে এবং বাংলাদেশের চেহারাটা ইউরোপতুল্য হয়ে উঠবে এটাই বাস্তবতার আলোকে এক স্বপ্নের বাস্তবিক দর্শন।
ষ আইনজীবী; সদস্য
    জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]