ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

বাঁচতে হলে খাদ্যের মান ফিরিয়ে আনতেই হবে
ড. এমএ মাননান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 52

মাত্র ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার বিশিষ্ট ১৬ কোটি ৪৬ লাখ লোকের দেশে এমনিতেই আছি হাজারো সমস্যা নিয়ে। প্রায় ৫ কোটি লোক থ্যালাসেমিয়া এবং আরও প্রায় ৫ কোটি (৩০ শতাংশ) ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। ৫০ শতাংশ মানুষের লিভারে ন্যাশ (চর্বি জমার পর সৃষ্ট প্রদাহ)। শহরাঞ্চলে হরেক রকম দূষণের ছোবলÑ বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, নদীদূষণ, আলোদূষণ, শব্দদূষণ,
কৃষিজমিতে ভারী ধাতুর দূষণ, চারদিকে সব মিলিয়ে পরিবেশদূষণ। ইদানীং শোনা যাচ্ছে পাশের বঙ্গোপসাগরটাও নাকি প্লাস্টিকদূষণে আক্রান্ত, অন্যান্য সব সাগর-মহাসাগরের মতো। শহরের খাল-নালাগুলো অনেক আগেই হাওয়া। নদীগুলো ধুঁকে ধুঁকে মরছে শিল্পবর্জ্য আর দখলের অনাচারে। গ্রামে-শহরে সর্বত্র আরও আছে বহুবিধ বিপত্তি। নারী-শিশু নিপীড়নের আতঙ্ক, মিডিয়াতে প্রায় প্রতিদিনই কিশোরী-তরুণী-গৃহবধূ ধর্ষণের ভয়াবহ খবর, হাতুড়ে-বৈদ্য-ওঝার অপচিকিৎসা আর অপঘাতে মৃত্যু, নীরব চাঁদাবাজি, প্রকাশ্য মাস্তানি, ঘুষ-দুর্নীতি। চালের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কালো কাচের ভয়ঙ্কর মাইক্রোবাসে সক্রিয় অপহরণকারী চক্র। গাড়ির চাপায় পিষ্ট হচ্ছে পথচারী আর সংঘর্ষে মরছে গাড়িযাত্রী। গাড়ি আর মোটরসাইকেলের বুস্টারজনিত শব্দ-অত্যাচার, সঙ্গে মানসিক যন্ত্রণা। ফুটপাথ দখলে, পথচারী রাস্তায়। ভাঙছে সংসার আর যৌথ পরিবার। শহরে গ্রামে তালাকের হিড়িক, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক ভঙ্গুরতার মুখোমুখি। যৌতুকের ছোবলতো আছেই। দাম না পেয়ে ধানচাষ ছেড়ে চলে যাচ্ছে কৃষক অন্য কিছুতে আর লোকসান দিতে দিতে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সোনালি আঁশের দেশের পাটকলগুলো, বেকার হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শ্রমিক। টেনশনে চলছে জীবন। উন্নয়ন হচ্ছে চারদিকে; ছোট ছোট সমস্যাগুলোর দিকে তাকিয়েও দেখছে না কেউ সঠিকভাবে। একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যার নজরে এলেই বাপের মতোই দরাজ দিল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি সমস্যা সমাধানের পথে। বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা এতে কি একটুও লজ্জায় পড়েন না? কামনা করি, তাদের দুচোখ থেকে অচিরেই লজ্জার মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়–ক আর সে বৃষ্টির পানিতে দেশবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে অবগাহন করুক।
কিন্তু এখনতো জীবনটা বাঁচিয়ে রাখাটাই হয়ে উঠেছে কঠিন, জীবন-বাঁচানোর অপরিহার্য উপাদান খাদ্যপণ্যে ভেজালের কারণে। আমে কার্বাইড, তরমুজে স্যাকারিনের ইনজেকশন, আনারসে স্পিরিটি, টসটসে লিচুতে স্পিরিট-রঙ, ডাবে বেহুঁশ করার ইনজেকশন, পচা আটাসহ চিনি আর কাপড়ের বিষাক্ত রঙ ও ফিটকিরি মিশিয়ে তৈরি গুড় আর মেয়াদোত্তীর্ণ আটার সঙ্গে চিনি-ফালাডি পাউডার-ভিনেগার-কাপড়ের রঙ ও বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ট্যাং আর পোড়া মবিলে ভাজা জিলাপি। গুঁড়া মসলায় যে কত রকমের ভয়ঙ্কর জিনিস মেশানো হয় তা জানলে কেউ বাজারের গুঁড়া মসলা খাবেই না। এসব ভেজাল খাদ্যদ্রব্য খাওয়া মানেই কিডনি, লিভার সিরোসিস, জন্ডিস আর ক্যানসারকে স্বাগত জানানো।
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা যেসব শিশুদের অন্তরে, সেসব শিশুরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। ভেজাল-নকল খাদ্যের কারণে শ্বাসকষ্ট, বমি, চর্মরোগ, শরীরে দ্রæত পানি চলে আসাসহ বহু রোগে ভোগে শিশুরা। শিশুদের প্রিয় আইসক্রিম তৈরি হয় এমন কিছু চিহ্নিত কারখানায় যেগুলো পয়জনিং কারখানারই নামান্তরÑ এগুলোতে আইসক্রিমে মেশানো হয় লিভার-কিডনি বিধ্বংসী আর ক্যানসার সৃষ্টিকারী ঘনচিনি, পামঅয়েল এবং রঙ। বাড়িঘর নির্মাণের উপকরণ আর কাঠ জোড়া লাগানোর কাজে ব্যবহৃত বর্ণহীন ঝাঁঝালো গন্ধের ফরমালডিহাইড সহকারে তৈরি হচ্ছে বেবিশ্যাম্পু। যে তরল দুধ শিশুরা খাবে তা তৈরি করা হয় শ্যাম্পু আর রাসায়নিক কেমিক্যাল দিয়ে। মানহীন পানিতে বাজার সয়লাব। ওয়াসার পানির ওপর তো ভরসাই নেই নগরবাসীর। ভেজাল আর নকল খাদ্য থেকে ধীরলয়ে ঢুকছে বিষ মানুষের শরীরে আর সবার অজান্তেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে জীবনীশক্তিসহ নারীদের প্রজনন ক্ষমতা।
শুধু মানুষের খাদ্য নয়, পশুপাখির খাদ্য আর ওষুধেও ভেজাল। অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি হচ্ছে কেমিক্যাল আর বিভিন্ন সলিউশন মেশানো পোল্ট্রি-ফিশারি-গবাদিপশুর ভিটামিন এবং অ্যান্টিবায়োটিক। ভেজালের পাশাপাশি উপদ্রব রয়েছে আরও ক্ষতিকর কিছুরÑ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, পণ্যের মোড়কে ওজন, মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না দেওয়া, ওজনযন্ত্রের ভেরিফিকেশন সনদ না গ্রহণ করা ইত্যাদি। এসব সহ বিষযুক্ত ভেজাল খাদ্যে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। গোটা বাংলাদেশ এখন ভেজাল খাদ্যের ভাগাড়। ভেজালের মহামারী চারদিকে। কারা এসব করছে? এরা অসাধু শিল্পপতি, উৎপাদনকারী, কৃষক, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, মজুদদার আর পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী। ভেজাল দিচ্ছে বা করছে তারা অতি মুনাফার লোভে, রাতারাতি ধনী হওয়ার বিকৃত আকাক্সক্ষায়, সমাজে প্রতাপশালী হওয়ার নীচ প্রত্যাশায়। ভেজালের রাজ্যে আরেক সংযোজন ভেজাল টাকার ছড়াছড়ি। খাদ্যে ভেজালের মতো জাল টাকার ‘ব্যবসায়ীরা’ও ভয়ঙ্কর অপরাধী, এরা অর্থনীতির পেটে ছুরি চালায় নির্বিকার চিত্তে।
খাদ্যে ভেজাল দিয়ে, নকল পণ্য তৈরি করে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে নিম্নমানের উপাদান মিশিয়ে এবং প্রায় সব রকমের খাদ্যবস্তুতে কীটনাশক আর ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক বিষাক্ত খাদ্যপরিবেশ। প্রায় অর্ধশত দেশ ঘুরে কোথাও দেখিনি এমন ভীতিকর খাদ্য-সমাবেশ। এমনকি সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত, হানাহানিরত দেশগুলোতেও নয়। এমনটি কেন হচ্ছে আমাদের এ সোনার বাংলায়? কারণটি বিজ্ঞজনদের জানা নয়, এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই।
দেশবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা-সহযোগিতায় সরকার অর্থনীতির ক্ষেত্রে অর্জন করেছে অনেক, বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদনে। ধান, মাছ আর সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে। দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলেও সঠিক মূল্য না পাওয়ায় উৎপাদকদের রাস্তায় দুধ ঢেলে দিয়ে প্রতিবাদ করতে হয়। কারণ কী? মূল কারণ দুধে ভেজাল। ভেজালের আশঙ্কা আর ক্ষতির ভয়ে জনগণ দুধ কিনতে চায় না। ভেজালকারীরা তো সব অর্জন ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছে আর একই সঙ্গে মলিন করে দিচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি। অর্জনের কোনো দাম থাকে না যদি সে অর্জন জনগণের কোনো কাজে না লাগে। উন্নয়নের কারণে আয় বেড়ে কী হবে যদি সে আয় দিয়ে নিরাপদ খাদ্য না কেনা যায়! ভোক্তারা এখন চোখ দিচ্ছে দেশি পণ্য ছেড়ে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের দিকে, বিশেষ করে শিশুখাদ্যে। নির্ভর করতে চাইছে বিদেশি পণ্যের ওপর। তবে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, আমদানিকৃত পণ্যের মানের ব্যাপারে কোনো সত্যায়ন করছে কি কোনো মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান? বিএসটিআই-এর তালিকাভুক্ত ২০টি আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য ব্যতীত অন্যান্য আমাদনিকৃত খাদ্যপণ্যের গুণগত মান কোনো প্রতিষ্ঠান যাচাই করে দেখছে বলে অন্তত আমি তো জানি না। এর জন্য আইনি কাঠামো যেমন নেই, তেমনি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানও নেই। যদি থাকত তাহলে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর আমদানিকৃত শিল্পলবণ (সোডিয়াম সালফেট) খাবার লবণ হিসেবে বাজারে দেদার বিক্রি হতো না। বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য উৎপাদকদের অন্য দেশে পণ্য রফতানি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় মান মেনে পণ্য উৎপাদন করতে হয়। সে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা পণ্যগুলোর মান যাচাই করে নিয়মিত এবং মানের ব্যত্যয় ঘটলেই ব্যবস্থা নেয় সঙ্গে সঙ্গে। আমাদের দেশে এ রকম ব্যবস্থা থাকবে না কেন?
বাঙালিদের সামর্থ্য সীমিত বটে, তবে আকাক্সক্ষাও বিপুল নয়। পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ভালো মানের খাবার কিনে খেতে চাওয়া একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ দেশে এ অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে কারা? এক কথায় সবাই বলবে, খাদ্যপণে-ওষুধে ভেজালকারীরা। এ ভেজালকারী কারা? এরা বিকৃত মানসিকতার এক শ্রেণির উৎপাদনকারী। এরা প্রতাপশালী, প্রভাবশালী, ক্ষমতাধর আর ঘুষ প্রদানে পারঙ্গম। এরা অন্যায় করে আবার প্রভাব আর অর্থ খাটিয়ে নিজেদের বিচারবহিভর্‚ত করে রাখে। এদের মতো সমান অপরাধী তারাও যারা ঘুষ নিয়ে আর প্রভাবিত হয়ে এদের ভেজাল দেওয়ার মতো পাপের কাজে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে। পাপ করে দুপক্ষই, সুতরাং শাস্তিও হতে হবে দুপক্ষেরই, সমানে সমানে। এরা সবাই খুনি। লোকচক্ষুর আড়ালে এরা মারছে অগণিত মানুষ, খাদ্যে-ওষুধে ভেজাল দিয়ে আর নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে।
ভেজাল প্রতিরোধের জন্য রয়েছে অনেক আইন (ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, নিরাপদ খাদ্য আইন, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন...) কিন্তু নেই শক্ত মনিটরিং ব্যবস্থা। মান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিতের জন্য রয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান (সিটি করপোরেশন, খাদ্য অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বিএসটিআই...)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তো আছেই। এদের মধ্যে প্রচুর সমন্বয়হীনতা। ভেজালের রাজ্যে প্রভাবশালীদের পদচারণার কারণে ভেজাল আর নকল পণ্যের বিস্তার বন্ধের জন্য প্রয়োজন ‘মজবুত’ রাজনৈতিক-প্রশাসনিক নিয়ত আর সুষ্ঠু পরিকল্পনা। একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির পর বানাতে হবে বার্ষিক পরিকল্পনা। লক্ষ্য হতে হবে সুস্পষ্ট। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রণয়ন করতে হবে বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল। কৌশলগুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে মাঠে নামতে হবে বিস্তারিত ‘বাস্তবায়ন ও মনিটরিং পরিকল্পনা’ নিয়ে। থাকতে হবে সঠিক সুপারভিশন প্ল্যান। আর বাস্তবায়নের জন্য তৈরি করতে হবে নিবেদিত-প্রাণ একদল চৌকস প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী, যারা চাকরির খাতিরে চাকরি করবে না, কাজ করবে দেশসেবার মনোবৃত্তি নিয়ে, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে থাকবে প্রফেশনালিজমের ছোঁয়া। একই সঙ্গে তৈরি করতে হবে জনসচেতনতা। জনগণ ভেজাল সম্পর্কে, এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত হলে এবং তাদের পণ্য সম্পর্কিত জ্ঞান বৃদ্ধি পেলে এমনিতেই ভেজাল পণ্য এবং এগুলোর উৎপাদকদের বয়কট করবে, পণ্য কেনা বন্ধ করে দিবে। জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। প্রয়োজনে পার্লামেন্টের সামনে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করতে হবে ওসব প্রতিষ্ঠান-প্রধানদের। সর্বোপরি থাকতে হবে রাজনৈতিক কমিটমেন্টÑ মুখে মুখে নয়, কমিটমেন্টের বিষয়টা দৃশ্যমান হতে হবে রাজনীতিক আর রাষ্ট্রের কর্ণধারদের কাজকর্মে। যথাবিহিত সুশিক্ষার বিষয়টিকেও আমলে আনতে হবে। সঠিক ও সুশিক্ষার প্রয়োজন উৎপাদকদের, ভোক্তাদের আর নিয়ন্ত্রকদের। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে এর কোনো বিকল্প দেখছি না।
স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে ভেজালবিরোধী অভিযান স্বল্প সময়ের জন্য কিছুটা সুফল বয়ে আনে ঠিকই কিন্তু এ ফল দীর্ঘমেয়াদি হয় না। এবারের রমজানে ভেজালের উপদ্রব থেকে জনগণকে রক্ষার লক্ষ্যে জোরেসোরে চালানো হয় অভিযান। কিন্তু ভেজালকারী আর নকলবিদরা যেন আগে থেকেই বোঝে, কয়েক দিন পর এসব ‘হাঙ্গামা’ আর থাকবে না। তাই রমজানের পরে আবারও ভেজাল-নকলে সয়লাব হয় বাজার। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার রমজানে ভেজালের বিরুদ্ধে যে  অভিযান শুরু করেছিল তা সারা বছরই চলমান রাখবে। ম্যাজিস্ট্রেটসহ যেসব কর্মকর্তা ভেজালবিরোধী অভিযানে যুক্ত থাকে তাদেরকে সরকারের উচ্চ মহল প্রটেকশন দেবে, তাদের ট্রান্সফার করা হবে না ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেবে (যেরূপ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ারের ব্যাপারে করা হয়) এবং কেউ রাজনীতির নামে কিংবা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন অভিযানে হস্তক্ষেপ না করতে পারে সে বিষয়টিও নজর রাখবে। হাইকোর্টের আদেশ পালনে যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা গড়িমসি করে (কয়েক দিন আগেই এমনটি হয়েছে) তাদের ব্যাপারে জনগণকেও সোচ্চার হতে হবে। হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখানোর মতো ধৃষ্টতা যারা দেখায় তাদের ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নাই। আর, যেসব উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ভেজাল পণ্যের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে তাদের জনগণের নিকট প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে হবে; প্রতিজ্ঞা করাতে হবে যে, তারা আর এরূপ জঘন্য অপরাধ করবে না। তাদের স্মরণে রাখতে হবে, জনগণের আদালত অনেক কঠিন আদালত। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনগণ রুখে দাঁড়ালে পালানোর জায়গা থাকবে না। আমাদের আস্থা আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর, যিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘খাদ্যের মান ফিরে না আসা পর্যন্ত ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।’ আমরা জনগণ আছি তার সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা যা অতীতে বলেছেন তা করে দেখিয়েছেন তিনি নির্ভরযোগ্য, তার কথার ওপর ভরসা করা যায়।
ষ শিক্ষাবিদ, কলাম লেখক
     উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]