ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

বিশ্ব সংগীত দিবস কাল আমাদের গান কোন পথে?
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 61

কাল বিশ্ব সংগীত দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের ২১ তারিখ দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম ইউরোপে পালন করা হয় এই সংগীত দিবস। পরবর্তীতে সারাবিশ্ব সংগীত দিবস পালন শুরু করে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সংগীত দিবসে বাংলাদেশের বর্তমান সংগীত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন দেশের কয়েকজন গুণী সংগীত ব্যক্তিত্ব। লিখেছেন নিপু বড়–য়া

বাংলাদেশের সংগীত রুচিশীলতার থেকে সরে যাচ্ছে : ফেরদৌস ওয়াহিদ
ওয়ার্ল্ড মিউজিক তার গতিতেই চলছে। ঝুটঝামেলাবিহীন চলছে। বাংলাদেশের সংগীত রুচিশীলতার থেকে সরে যাচ্ছে। এটি কবে ঠিক হবে জানি না, আশা করি দ্রæতই ঠিক হয়ে যাবে। মানুষ অতিরিক্ত অস্থিরতায় ভুগছে। মানুষ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে চলে এসেছে। অডিও সিডি থেকে ইউটিউবে চলে এসেছে। অনলাইনের বিষয়গুলো মানুষ ধরতে পারেনি। শ্রোতাকে দ্রæত আকর্ষিত করার জন্য সস্তার কাজগুলো বেশি হচ্ছে। এতে হয়তো কয়েকজন মানুষের লাভ হতে পারে, কিন্তু দেশের সংস্কৃতির বিকাশটা কম হচ্ছে। এটা আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। সুস্থতা ছাড়া কোনো কিছুরই বিকাশ ঘটে না। সংগীত জগৎ মানুষের মনের শান্তির জগৎ, সেখান থেকে তা চলে গেছে উগ্র শান্তিতে। আমি বিশ্বাস করি একসময় স্যাটেল ডাউন করবে সব কিছু। আমরা শাম্মী আখতার থেকে শুরু করে শাহনাজ রহমতুল্লাহর মতো অনেক কালজয়ী শিল্পীকে হারিয়ে ফেললাম।
ভালো বাণীর অভাব সুরের অভাব : ফকির আলমগীর
সংগীতের একটি সোনালি অতীত ছিল। এখন প্রযুক্তির সঙ্গে এটির খাপ খাইয়ে নিতে একটু সময় লাগছে। আমাদের সংগীতের পঞ্চাশ দশক থেকে শুরু করে আশির দশকেও একটা সোনালি অতীত ছিল। বারবার এ সংগীত দিবস আসে আমাদেরকে জানান দিতে, আমাদেরও একটি সুন্দর অতীত ছিল। উপমহাদেশে রাগ সংগীত থেকে শুরু করে আমাদের ব্যান্ড ঘুরে সংগীতের যে সমৃদ্ধতা সেটি কিন্তু কম নয়। আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগীত একটি বিশেষ ভ‚মিকা পালন করেছে। আজ অবদি এটি করে চলেছে। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে আমার মনে হয় ভালো বাণীর অভাব, সুরের অভাব প্রকট। এখন আর সেই সিডি-ক্যাসেটের যুগ নেই; কেমন যেন ইউটিউব কেন্দ্রিক রাতারাতি তারকা হয়ে যাচ্ছে। ট্যালেন্ট হান্টের নামে তাড়াতাড়ি তারকা সৃষ্টি হচ্ছে। সংগীতশিল্পী সৃষ্টি হচ্ছে না, গীতিকার সৃষ্টি হচ্ছে না, আমাদের ভালো ভালো গায়ক সৃষ্টি হচ্ছে না।
আমার মাকে আমি অলঙ্কৃত করতে পারি : কুমার বিশ্বজিৎ
এখন বিশ্বায়নের যুগ, বিশ্বসংগীতটাও কারও একক নয়। সেখানে একটি ব্যাপার লক্ষণীয়, এখনও সারা বিশ্বে পাশ্চাত্যটাই প্রাধান্য বিস্তার করছে। এর থেকে বের হতে হলে নিজের সংগীতকে আরও বেশি প্রসার, প্রচার এবং সেটা আমাদের অস্তিত্ব এবং শিকড়ের সঙ্গে তৈরি করতে হবে। প্রতিটি জাতির বড় পরিচয় হচ্ছে তার কালচার। সুতরাং আমার অস্তিত্ব যদি আমি না রাখি, আমি যদি প্রতিযোগিতায় নেমে অন্য সংস্কৃতিকে প্রমোট করি তাহলে একদিন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের অস্তিত্ব থেকে বিচ্যুত হবে এবং গর্বের জায়গাটি থাকবে না। আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ব সংগীতে একটি সমান্তরাল অবস্থান নিতে হলে নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই সেই ঝান্ডাটা নিতে হবে।  এটা ৮০/২০ হতে পারে অথবা ৬৫/৩৫ হতে পারে। কিন্তু ওদেরটা ৬০ ভাগ আমাদেরটা ৪০ ভাগ এটা হলে হবে না। এটা সো কলড আধুনিকতা হবে কিন্তু নিজের অস্তিত্ব থাকবে না। নিজের পরিচয়টা হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়। সংগীত যদি মায়ের মতো হয়, আমার মাকে আমি অলঙ্কৃত করতে পারি।
ভালোর সঙ্গে মন্দ
থাকবেই : রবি চৌধুরী
আসলে একজন গানের মানুষ হিসেবে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছি বাংলা গানকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। আমি মনে করি, গানের কোনো ভাষা নেই। আমার নিজের গাওয়া একটি গান, ১৯৯৯ সালে কাতারের মঞ্চে গেয়েছে ইয়েমেনের একটি লোক। ‘তোমরা দেখলে পাগল বলো/ আসল পাগল চিনলে না/ লম্বা চুল রাখিলে ও মন পাগল বলে না’ গানটা গেয়েছিল এবং মাতিয়েছিল স্টেজ। যেখানে আমাদের বাংলাদেশের অনেকেই ছিল। আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। সে রকম বিশ্ব দরবারে আমাদের বাংলা সংগীত অনেকদূর এগিয়ে যাবে আমি এটিই প্রত্যাশা করি। টেকনোলজি যেদিকে যাবে সেদিকেই আমাদের যেতে হবে। এখন বিশ্ব সংগীতে বিশ্বায়নের যুগে সবাই সবার কাছ থেকে আহরণ করছে। এটা আগেও হয়েছে, কিন্তু আমাদের নিজস্বতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আমাদের অংশটুকু সর্বাগ্রে রেখে। ভালো-মন্দ সবসময়ই থাকে। ভালোর সঙ্গে মন্দ থাকবেই। আমরা ভালোটাকে বেছে নেব।
অনিশ্চিত একটি জায়গায় চলে
এসেছে : বাপ্পা মজুমদার
আমাদের আর্টিস্টদের কাজের যে ক্ষেত্র, এটি আরও স্বীকৃত একটি জায়গায় থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। আমরা যে প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি এখানে নীতিমালা বিষয়ক কিছু ব্যাপার আছে ওগুলো থাকা প্রয়োজন। রেকর্ডিং থেকে এখন তেমন কিছু আসে না। রেকর্ডিংয়ের যে কনসেপ্টটা ছিল, অ্যালবাম কনসেপ্ট বা গান রিলিজ করার কনসেপ্ট। আগে তো এখানে কিছুটা হলেও একটা অর্থনৈতিক ব্যাপার জড়িত ছিল। আমরা অ্যালবাম করতাম, অ্যালবাম বাবদ আর্টিস্টরা কিছু টাকা পেত। সেই জায়গাটা একদম ন্যারো হয়ে গেছে। অনিশ্চিত একটি জায়গায় চলে এসেছে। আমার কাছে মনে হয় আরও বেশি পেশাগতভাবে এই জায়গাটিকে দেখা দরকার। সরকারি-বেসরকারি সব জায়গা থেকেই বিষয়টা নিশ্চিত জায়গায় আসা দরকার বলে আমি মনে করি। তবে আমার কাছে মনে হয় একটি সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন। কন্টেন্ট যেগুলো হচ্ছে এগুলোর কীভাবে মানি জেনারেট হচ্ছে বা আদৌ কোনো টাকা আসছে কি না এ বিষয়গুলোর একটি পরিচ্ছন্ন ধারণা প্রত্যেকের থাকা দরকার বলে আমি মনে করি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]