ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

বিটুমিন পোড়া গন্ধে পাঠদান ব্যাহত
আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 51

শ্রমিকদের থাকার জন্য দখলে নেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ। এ কারণে গরমে গাদাগাদি করে একটি কক্ষেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসেন ৩ শিক্ষক। এভাবেই পাঠ চলে ৩ শ্রেণির। এর মধ্যে বিটুমিন পোড়া গন্ধ-বিষাক্ত ধোঁয়া ও বিভিন্ন মেশিনের বিকট শব্দে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। কোমলমতি শিক্ষার্থীরে পড়তে হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অনেক সময় শব্দের কারণে শিক্ষকদের বক্তব্য শুনতে পায় না শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ দখলে নিয়ে রাখা হয়েছে পাথরের স্ত‚প, বিটুমিনের ড্রামের সারি। তৈরি করা হচ্ছে পাথর-বিটুমিনের মিশ্রণ। ওই যন্ত্রের পাশে স্থাপন করা হয়েছে বিটুমিন গলানোর কয়েকটি চুলা। মিশ্রণযন্ত্র ও চুলার দাউদাউ আগুন, কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রতিটি কক্ষে। এ বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়া ও গন্ধে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকদিন ধরে ঝালকাঠির রাজাপুরের ১২২নং মফেজ উদ্দিন মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ ও পাঠদানের একটি কক্ষ এবং সলেমান হাসেমিয়া হাফেজিয়া এতিমখানার (মাদ্রাসা) বিদ্যালয়ের দখলের চিত্র এটি।
এভাবে কাজ চলবে আরও সপ্তাহ খানেক। ওই মাঠে নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন যন্ত্র রেখে রাস্তা সংস্কারের কাজ করাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রাজাপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা মজিবর। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছে এ যাত না। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।
বিদ্যালয়ের একাধিম শিক্ষার্থী বলে, ‘পিচ পোড়া গন্ধ ও কালো ধোঁয়ার কারণে অনেক সময় ক্লাসে বসে থাকা যায় না। আগে বিরতির সময় আমরা মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন বিদ্যালয়ের মাঠে পিচ পোড়ানোর কাজ চলায় খেলাধুলা করতে পারি না। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।’
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিকসহ আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন নেছা বলেন, ‘দেড় মাস বন্ধের পর শনিবার স্কুল খোলার পর দেখি বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখা, স্কুলের একটি কক্ষ শ্রমিকদের থাকার জন্য দখলে নেওয়া এবং বিদ্যালয় মাঠে রাস্তার মিশ্রণ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য কেউ তার কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেয়নি। শনিবার ধোঁয়া ও শব্দের কারণে ক্লাস করাতে না পেরে ছুটি দিয়েছিলাম এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। পরে ইউএনও স্যারের মোবাইলে কল দিয়েছিলাম তিনি রিসিভ করেননি।
সড়ক সংস্কারের কাজের দায়িত্বে থাকা (সাইড কন্ট্রাক্টর) মোকলেচুর রহমান বলেন, এলাকায় অন্য কোনো ফাঁকা মাঠ বা জায়গা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করতে বলেছেন ঠিকাদার। এ ব্যাপারে ঠিকাদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রাজাপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা মজিবর সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, ‘কোথাও ফাঁকা জায়গা বা মাঠ নেই, আর কাজও অল্প তাই ওই মাঠে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]