ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

হত্যা মামলার বিচার শুরু : সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুন
১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.০৬.২০১৯ ১০:৪৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ১৬ আসামির বিচার শুরু হয়েছে, যার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ২৭ জুন। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মেদ জানান, মামলার ১৬ আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ ছাড়া আগামী ২৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা এই শুনানি হয়। শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মেদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, আদালত বাদী ও আসামি পক্ষের সব আইনজীবীর বক্তব্য শুনেছেন। আসামিপক্ষ জামিনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছে। বাদীপক্ষ এর বিরোধিতা করে যুক্তি দেখায়। সব শুনে আদালত বিচার শুরুর আদেশ দেন।
২৭ জুন নুসরাতের ভাই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান, নুসরাতের বান্ধবী নিশাত ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা সাক্ষ্য দেবেন।
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে মৃত্যুশয্যায় নুসরাত বলে গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এই মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অন্য পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাইবার আইনে মামলা হওয়ার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের শুনানি : পিপি হাফেজ আহাম্মেদ জানান, বেলা ১১টায় সব আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ আসামি ও তাদের আইনজীবীরা, বাদিপক্ষের আইনজীবী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, মানবাধিকার নেত্রীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ মামলার নথি আদালতে উপস্থাপন করে অভিযোগ গঠনের জন্য বিচারকের কাছে আবেদন করে। আসামিদের আইনজীবীরা এ মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের বৈধতার বিষয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা মামলার ধারার (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৪(১) ও ৩০ ধারা) বিষয়ে আদালতের আপত্তি জানান। পরে আসামিরা তাদের বক্তব্য শুনতে বিচারকের কাছে আর্জি জানায়। আদালত একে একে ১৬ আসামির বক্তব্য শোনেন। তাদের মধ্যে ১২ আসামি ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে। আদালত তাদের আবেদন মামলার নথিতে সংযুক্ত করে। পরে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন আদালত। আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, আসামিপক্ষ হত্যার উপকরণ কেরোসিনকে দাহ্য পদার্থ নয় বলে জানালে বাদীপক্ষ তাদের যুক্তি তুলে ধরে। বাদীপক্ষ এই সাত সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরে।
আদালতে বাদীপক্ষ এই মামলায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আসামি করার জন্য আবেদন করে। বিচারক বাদীপক্ষকে অবগত করেন, ‘ইতঃপূর্বে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। নুসরাত হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা যেহেতু অভিযোগপত্রে ওসিকে আসামি করেননি, সেজন্য এ অবস্থায় ওসিকে এ মামলায় যুক্ত করার উপায় নেই।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী হানিফ মজুমদার বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাপ প্রয়োগ করে আসামিদের জবানবন্দি নিয়েছেন। আদালতে আসামিদের জামিন আবেদন করলেও আদালত তাতে সাড়া দেননি। আসামিরা ন্যায়বিচার পায়নি। এজন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]