ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

আর কোনো ‘রাজিব ট্র্যাজেডি’ যেন না হয় : হাইকোর্ট
দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.০৬.২০১৯ ১০:৪৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

সড়কে ঘাতক দুই বাসচালকের রেষারেষিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব হোসেন। মৃত্যুর প্রায় ১৫ মাস পর এলো রায়। নিহত রাজিবের পরিবারকে দু’মাসের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে রাজিবের পরিবারের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কার্যকর হবে রায়।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী দু’মাসের মধ্যে রাজিব হোসেনের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন। দুই ভাইকে ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে ১৯ মে চ‚ড়ান্ত শুনানির পর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য ২৩ মে দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু ওইদিন একটি বিষয়ে প্রশ্ন ওঠায় রায়ের দিন পিছিয়ে ২০ জুন নির্ধারণ করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আদালত কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তার মধ্যে তিনটি নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে বলেছেন। সেগুলো হলোÑ যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে কোনো গণপরিবহন যাত্রী তুলতে পারবে না, স্টপেজ ছাড়া রাস্তায় গণপরিবহনের দরজা বন্ধ রাখতে হবে। চালকরা মাদকসেবন করে কি না তার জন্য নিয়মিতভাবে ডোপ টেস্ট করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও সংরক্ষিত এলাকায় অন্য কোনো পরিবহন হর্ন বাজাতে পারবে না। রায় ঘোষণার সময় দুই খালার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাজিবের দুই ভাই। পরে ছোটভাই মেহেদী হাসান বাপ্পী সাংবাদিকদের বলে, আমার মতো যাতে আর কারোর ভাই যেন সড়কে প্রাণ না হারায়। ভাই ফিরে আসবে না, তবে সড়কে যেন শৃঙ্খলা আসে।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বরিশাল থেকে মোবাইল ফোনে রাজিব হোসেনের মামা জাহিদুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানান, আদালত যাতে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তদারকি করেন। আমার ভাগ্নে দুটির যাতে অর্থের অভাবে পড়ালেখাটা বন্ধ না হয়ে যায়।
রাজিবের বড় খালা জাহানারা বেগম সময়ের আলোকে জানান, নিম্ন আদালতে যে মামলা চলছে তা দ্রæত নিষ্পত্তি হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক ঘাতক চালকদের। মেজ খালা খাদিজা বেগমের একই চাওয়াÑ যাতে আর কোনো পরিবারে এমন ‘রাজিব ট্র্যাজেডি’ তৈরি না হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল শিক্ষার্থী রাজিব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়ে ছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎ করেই পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে পেরিয়ে যাওয়ার বা ওভারটেক করার জন্য বাঁদিকে গা ঘেঁষে চলে। দুই বাসের চাপে রাজিবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাজিব হোসেন।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoye[email protected]