ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

সাফল্য
পাঁচবিবিতে পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী দুই বন্ধু
রাশেদুজ্জামান জয়পুরহাট থেকে
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.০৬.২০১৯ ১১:০১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

সততার সঙ্গে চেষ্টা আর পরিশ্রম করলে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। এটি প্রমাণ করেছে জয়পুরহাটের দুই তরুণ বন্ধু। পড়াশোনা শেষ করে ওরা চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা না করে সৎপথে দেশেই ভালো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করে শুরুতেই সফল দুই বন্ধু। আশাতীত ফলন আর ভালো বাজার থাকায় এখন লাভের স্বপ্ন দেখছে তারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগও মনে করছে পেয়ারা চাষের এ সাফল্য স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে এলাকার অন্য কৃষকদের।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার কেশবপুরের বিএ পাস করা মারুফ আহম্মেদ ও গুলশান মোড়ের এইচএসসি পাস করা জার্জিস ইসলাম নামে দুই বন্ধু শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি উদ্বুদ্ধ হয় পেয়ারা চাষের মাধ্যমে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ডিসেম্বরে প্রথম বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পাঁচবিবি উপজেলার কলন্দপুর এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমি বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সাত বছরের জন্য পত্তন নিয়ে শুরু করে পেয়ারা চাষ। এরপর নাটোর থেকে তারা আড়াই হাজার উন্নত জাতের থাই-৩ পেয়ারা গাছের চারা প্রতিটি ৭০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে রোপণ করে ওই বাগানে। ঠিকমতো পরিচর্যার করে চার মাস পর থেকেই ফলন আসা শুরু করলেও তারা নয় মাস পর থেকেই ফলন নেওয়া শুরু করে প্রতি সপ্তাহে ৩৫-৪০ মণ পেয়ারা বিক্রি করে এবং ওই বছরেই মণপ্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা করে প্রথম চালানে বিক্রি করে নয়শ’ মণ পেয়ারা ও দ্বিতীয় চালানে বিক্রি করে ৪০০ মণ পেয়ারা।
দুই বন্ধু পেয়ারা বিক্রির টাকা নিজেরা না নিয়ে বাগানে পর্যায়ক্রমে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন বাগান থেকে সপ্তাহে ২০-২৫ মণ পেয়ারা তারা ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। বাজার অনুপাতে প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে। আশানুরূপ পেয়ারা ফল আসায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন এখন তাদের চোখে। নিজেরা পরিচর্যা করার পাশাপাশি বাগানে লোকও নিয়োগ করেছে। এতে করে ওই এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলার কলন্দপুর এলাকার কৃষক গণেশ পাহান, গোলজার রহমান ও জয়পুরহাট সদর উপজেলার সবুজনগর মÐলপাড়া এলাকার কৃষক তরিকুল ইসলাম সুইট জানান, জয়পুরহাটের আবহাওয়া পেয়ারা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দুই বন্ধুর লাভজনক পেয়ারা চাষ দেখে আমরাও উদ্বুদ্ধ হয়ে পেয়ারা চাষ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পেয়ারা চাষি দুই বন্ধু মারুফ ও জার্জিস জানায়, আমরা দুই বন্ধু মিলে নাটোরে একটি বাগান পরিদর্শন করে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১২ বিঘা জায়গার ওপর ২ হাজার ৫শ’ চারা রোপণ করি। এই বাগানে আমরা বিষমুক্ত পলিব্যাগে ফল উৎপাদন করছি, রাসায়নিক কোনো পদার্থ এখানে ব্যবহার করা হয় না। ট্রাইকোডার্মা মিশ্রিত গোবর সার প্রয়োগ করা হয়, তবে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও ব্যাংক থেকে বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা ও ঋণের সুবিধা থাকলেও এখনও পর্যন্ত কেউ আমাদের সে সুযোগ-সুবিধা দেয়নি। পেয়ারা লাভজনক ব্যবসা হলেও এর উৎপাদন খরচও বেশি, তাই সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া গেলে আরও বড় পরিসরে বাগান করার ইচ্ছা আমাদের আছে। ১২ বিঘা জমির পেয়ারা বাগানে বছরে ২৫-৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে ৬০-৭০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলেও জানায় তারা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা তাদের দেওয়া হয়। দুজন বেকার যুবকের উদ্যোগে গড়ে তোলা এই সফল পেয়ারা বাগান এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম করবে বলেও মনে করেন কৃষি বিভাগের ওই কর্মকর্তা।
বেকার আর আজকের স্বাবলম্বী যুবক মারুফ ও জার্জিস এই দৃষ্টান্ত এখন বেকার যুবকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। আত্মনির্ভরশীল এসব যুবককে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করে জয়পুরহাটবাসী।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]