ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

টাইগার বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ
রাজু আহাম্মেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২১.০৬.২০১৯ ১:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 42

টাইগার বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ

টাইগার বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ

কখনও বাতাসে ভাসিয়ে, কখনও মাটিতে গড়িয়ে ডেভিড ওয়ার্নার একের পর এক বল সীমানাছাড়া করছেন, বারবার টিভি ক্যামেরা ঘুরে যাচ্ছিল সাব্বির রহমানের দিকে। ম্যাচের পঞ্চম ওভারে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ ফেলে তিনিই যে নতুন জীবন দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারকে। ওয়ার্নার তখন ১০ রানে ছিলেন। পরে এ বাঁহাতিকে থামিয়েছেন সৌম্য সরকার, ততক্ষণে তার নামের পাশে জমা ১৬৬ রান। জীবন পেয়ে টাইগার বোলারদের রীতিমতো কচুকাটা করেছেন ওয়ার্নার। অ্যারন ফিঞ্চ, উসমান খাজা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরাও তাল মিলিয়েছেন। তাদের সামনে রীতিমতো অসহায় ঠেকেছে সাকিব-রুবেল-মোস্তাফিজদের।

ট্রেন্ট ব্রিজের উইকেট ছিল ন্যাড়া। বাদামি রঙের ওই উইকেট দেখে আগের দিনই মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছিলেন, প্রচুর রান হবে। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচে যেমনটা দেখা গিয়েছিল। পাকিস্তানের ৩৪৮ রান তাড়ায় ৩৩৪ পর্যন্ত গিয়েছিল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলাররা তাই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু ওয়ার্নার-ফিঞ্চ-খাজারা এমন তান্ডব চালাবেন, ৩৮১ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়বে অস্ট্রেলিয়া, এভাবে নাস্তানাবুদ হতে হবে মাশরাফি ব্রিডেগকে সেটা ভাবনায় ছিল না কারও। শুরুতে অবশ্য আঁটসাঁট বোলিংই করেছেন মাশরাফি-মোস্তাফিজরা। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ফিঞ্চ-ওয়ার্নারদের ব্যাট চওড়া হয়েছে ততই।

১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল বিনা উইকেটে ৫৩ আর ২০ ওভারে ১১৭। উইকেটের দেখা না মিললেও এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। ৩০ ওভারে ১৬৮ রানটাকেও বেশি মনে হয়নি। ধারণা ছিল, ৩২০-৩৩০ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে বেঁধে রাখা যাবে। সেই ধারণা এভাবে ভুল প্রমাণিত হবে, সেটা ছিল ভাবনার বাইরে। অভাবনীয় কান্ডের মূলে ছিলেন এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া ওয়ার্নার। ১১০ বলে ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর অজি ওপেনার ছেলেখেলায় মাতেন টাইগার বোলারদের নিয়ে। দলীয় ১২১ রানের মাথায় দলপতি ফিঞ্চ (৫৩) বিদায় নেওয়ার পর উইকেটে আসা উসমান খাজাও (৭২ বলে ৮৯) রানের ফোয়ারা ছোটাতে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়ার রানোৎবের মূলে ছিল দ্বিতীয় উইকেটে ওয়ার্নার-খাজার ১৯৩ রানের জুটি। এরপর ম্যাক্সওয়েল (১০ বলে ৩২) আর দলে ফেরা মার্কাস স্টয়নিসের (১১ বলে ১৭) তান্ডব, অজিদের রানটাকে ফুলিয়ে- ফেপিয়ে তোলে আরও। ৩১ থেকে ৪০, এই ১০ ওভারে ৮২ এবং শেষ ১০ ওভারে ১৩১ রান দিয়েছে টাইগার বোলাররা, অজি ব্যাটারদের বেধড়ক পিটুনি নীরবে সহ্য করে গেছে। দোষটা তাদেরই। একে ট্রেন্ট ব্রিজের উইকেটের আচরণ ছিল বিমাতাসুলভ, তারপরও নিয়ম করেই আলগা বল দিয়ে গেছেন রুবেল-মোস্তাফিজরা। তারই ফায়দা তুলেছে অজিরা।

পিঠের পুরনো ব্যথাটা জেগে উঠায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা হয়নি এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯ উইকেট শিকার করা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার জায়গা নিয়ে একাদশে ফেরা রুবেল শুরুতে ভালোই করেছেন। প্রথম ৫ ওভারে মোটে ২১ রান দিয়েছিলেন ডানহাতি পেসার। কিন্তু ছন্দটা শেষতক ধরে রাখতে পারেননি। পরের ৪ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৬২ রান! সবমিলে ৯ ওভারে ৮৩। পাত্তা পাননি সাকিবও। ৬ ওভারে ৫০ রান দিয়েছেন। তাকে যেভাবে ওয়ার্নার-খাজারা খেললেন, বুঝতে বাকি রইল না হোমওয়ার্কটা ঠিকঠাকই সেড়েই ময়দানে নেমেছিলেন তারা।

সাকিবকে মোকাবেলার কৌশল নির্ধারণে নেটে বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগারকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন অজি কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। বুঝা গেল, ভুল করেননি তিনি। মোস্তাফিজ-মিরাজকে নিয়ে করা পরিকল্পনারও সঠিক বাস্তবায়ন করেছে তার শিষ্যরা। মিরাজ ১০ ওভার বল করে ৫৯ রান দিয়েছেন, ছিলেন উইকেটশূন্য। মোস্তাফিজ একটি উইকেট নিয়েছেন, ৯ ওভারে দিয়েছেন ৬৯ রান। মাশরাফি ৮ ওভারে দিয়েছেন ৫৬ রান। ছিলেন উইকেটশূন্য। এদিন টাইগারদের সফল বোলার ছিলেন সৌম্য সরকার। ৫৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন এই পার্টটাইমার, যা তার ক্যারিয়ারসেরা। তিনি ম্যাচে বল করবেন, সেটা হয়তো ভাবেনি অজিরা।
তাতে অবশ্য বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। সৌম্যর উইকেটপ্রাপ্তি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলেছে সামান্যই। ৪০০ ছোঁয়ার যে সম্ভাবনা জাগিয়েছিল তারা, সেটাই কেবল বাস্তবরূপ পায়নি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]