ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

নড়াইল বাস টার্মিনাল ময়লার ভাগাড়
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৯, ১:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

নড়াইল বাস টার্মিনাল ময়লার ভাগাড়

নড়াইল বাস টার্মিনাল ময়লার ভাগাড়


নড়াইল শহরের প্রবেশদার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বর জুড়ে থরে থরে নানা ময়লা-আবর্জনায় স্তুপ। শহরের বাসাবাড়ি ও বাজার থেকে এনে এসব ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হয়েছে। এখন থেকে ছড়াচ্ছে প্রচন্ড দুর্গন্ধ। এলাকার পরিবশেটাই এখন দুর্গন্ধময়। যাত্রী ও পথচারীরা এখান দিয়ে চলেন নাক চেপে। স্থানীয় লোকজনের নাভিশ্বাস অবস্থা।

ময়লা-আবর্জনায় ঠাসা টার্মিনালের সামনের চত্বরটি। নড়াইল জেলা শহরের একমাত্র ময়লার ভাগাড় এটি। শহরের সবগুলো বাজারের সবধরনের আবর্জনা, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ের ময়লা এবং বাসাবাড়ি আবর্জনা এখানে ফেলা হয়।

নড়াইল শহরের লাগোয়া পশ্চিমে নড়াইল-যশোর সড়কের পাশে এ বাস টার্মিনাল। ওই সড়কটি এশিয়ান হাইওয়েরও অংশ। টার্মিনালের সামনের চত্বরে আছে ছোট্ট ডোবা। এর সঙ্গে লাগোয়া ওই সড়ক। ওই ডোবায় ফেলা হয় আবর্জনা। ডোবা ছাপিয়ে এখন টার্মিনাল চত্বর থেকে সড়ক পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যাত্রী ও পথচারীরা নাক চেপে এখান দিয়ে চলেন। টার্মিনাল ঘিরে গড়ে উঠেছে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ মেরামতের ২৪টি কারখানা। দুর্গন্ধের কারণে এ কারখানার কর্মীরা নাকে ও মুখে গামছা বা মাস্ক বেধে কাজ করেন। আছে একটি মাত্র চায়ের দোকান। দুর্গন্ধের ফলে সেখানে বসেন না পথচারী, যাত্রী বা স্থানীয় লোকজন। এমনকি দুর্গন্ধ ঠেকাতে টার্মিনালের দোতলায় শ্রমিক কার্যালয়ের দরজা-জানালা বন্ধ করে বসেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

৬জুনলাই শনিবার ময়লার ভ্যানে করে এখানে ময়লা ফেলতে এসেছিলেন শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি এনজিওর শ্রমিক বুলবুল ইসলাম ও ইউনুছ শেখ। তারা জানান, প্রায় তিন বছর ধরে তারা এখানে শহরের ময়লা ফেলছেন। শহরে আর কোনো বিকল্প ভাগাড় নেই।

স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকেরা জানান, দ্বিতল ভবন তৈরি করে ২০০৪ সালে এ বাস টার্মিনাল চালু হয়। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যন্ত্রাংশ মেরামত কারখানার মালিক মো. কালাচাঁন বলেন, ‘বাতাস বিভিন্নমুখী ঘুরপাক খায়, তার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধের দুর্ভোগ এ চত্বরের সবাইকে পোহাতে হয়। এখানে অবস্থানকারীরা মাঝে মাঝেই অসুস্থ হচ্ছেন। এ কারণে অন্যকোনো দোকানপাট এখানে বসে না। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এখানে থাকি।’

এখানের একমাত্র চায়ের দোকানদার বলেন, ‘দুর্গন্ধের জন্য যাত্রী ও পথচারীরা এ চায়ের দোকানে বসেন না।’ ট্রাকচালক রমজান মোল্যা বলেন, ট্রাক মেরামতের জন্য বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়। দুর্গন্ধে থাকা দায়।’ বাস টার্মিনাল মসজিদের মোয়াজ্জিন আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে বসে থাকা যায় না। এলাকার লোকজনেরও নাভিশ্বাস অবস্থা। এলাকাবাসী বিষয়টি মেয়র ও জেলা প্রশাসনকে বারবার বললেও এর কোনো পদক্ষেপ নেই।’
জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, ‘যাত্রীরা এখানে বসবে, দাঁড়াবে দুর্গন্ধের জন্য সে উপায় নেই। বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির এই জুন মাসের সভায়ও তুলেছিলাম। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’  

এ বিষয়ে নড়াইলের মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, ‘ভাগাড় তৈরির জন্য জায়গা পাচ্ছি না। বাইরে জমি কিনে করব, সেক্ষেত্রে পৌরসভার তহবিল নেই। তবু চেষ্টা করছি বিকল্প ব্যবস্থা করতে।’

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, নড়াইল শহরে ঢুকতেই এ দৃশ্য দেখছেন বাইরের লোকজন, এতে জেলা সর্ম্পকে ধারণা খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া লোকজনের দুর্ভোগতো আছেই। বিকল্প জায়গার অভাব। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।    




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]