ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

শিশু সামিয়া হত্যা: আসামি হারুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯, ৯:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 208

শিশু সামিয়া হত্যা: আসামি হারুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

শিশু সামিয়া হত্যা: আসামি হারুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামি হারুন অর রশিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আরজুন আসামিকে হাজির করেন। এসময় আসামি হারুন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকরোক্তি রেকর্ডের শেষে আসামিকে কারাগারে প্রেরনের আদেশ দেন আদালত। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

গত ৭ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ আসামি হারুনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা আট তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা আছে তার সঙ্গে খেলা করতে। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে অত্যন্ত পাশবিকভাবে সায়মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সায়মা চিৎকার করলে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি লাগিয়ে টেনে নিয়ে যায় রান্নাঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় পালিয়ে যায় হারুন।

জানা যায়, গত ৫ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাদীর মেয়ে সামিয়া আফরিন সায়মা তার মাকে খেলার কথা বলে প্রতিবেশী মনির হোসেনের ফ্ল্যাটে যায়। তিনি মাগরিবের নামাজ শেষে ছেলে-মেয়েদের জন্য নাস্তা কিনে বাসায় আসেন এবং তার স্ত্রীর কাছে মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করেন। তার স্ত্রীকে তাকে জানান, পাশের বাসায় খেলতে গেছে।  সাড়ে ৭ টা বেজে গেলেও সামিয়া বাসায় ফিরে না আসায় তার মা তাকে ওই বাসায় খুঁজতে যায়। সেখানে সামিয়াকে না পেয়ে তারা সবাই তাকে খুঁজতে থাকে। বিল্ডিং এর ৯ম তলা সব সময় তালা দেয়া থাকে। অনেক খোঁজা-খুঁজির পর ৯ম তলার একটি ফ্ল্যাটের মূল দরজা খোলা পেয়ে তিনি সেখানে ঢুকেন। দেখতে পান, সামিয়ার পায়ের স্যান্ডেল দুটি পড়ে আছে। স্যান্ডেল দেখে সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে গিয়ে রান্নাঘরে  সামিয়াকে খুঁজে পান। জীবিত নয়, ধর্ষিত ও রক্তাক্ত সামিয়ার লাশ। 

এদিন রাতেই সামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]