ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

বরিশালে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক, পুলিশ বলছে গুজব
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৯, ৭:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 125

বরিশালে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক, পুলিশ বলছে গুজব

বরিশালে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক, পুলিশ বলছে গুজব

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে- এমন খবরে গোটা বরিশালে পিনিক সৃষ্টি করেছে। বলা যায় গুজব এতটাই ভর করেছে যে চরম উৎকণ্ঠিত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। মানুষের মুখে মুখে একই আলোচনা এই গুজবের ডালপালা আরও প্রসারিত হওয়ায় এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী শূন্য অবস্থা দাড়িয়েছে। অভিভাবকেরা কোন ভাবেই তাদের সন্তানদের স্কুলে দিতে সাহস পাচ্ছেন না।

জেলা প্রশাসন এই গুজবকে ¯্রফে মিথ্যে বলে বরিশালবাসীকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে। যদিও শহরের গির্জা মহল্লা এলাকায় একজন নারী এক শিশুকে ধরে নিয়ে যেতে টানা হেচড়া করার ঘটনায় জনতা ঘেরাউ দিয়ে তাকে আটক করে। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত হয় ওই শিশুটি নারীর স্বজন। এটাকে একটি উদাহরণ হিসেবে রুপ দিয়ে নগরীতে গুজব জোরালো রুপ ধারণ করে। পুলিশ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে এই গুজবে কান না দেওয়ার আহবান রেখে মাঠপর্যায় নজিবিহীন তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

উল্লেখ চলতি মাসের শুরুতে বরিশালের আশপাশ জেলাসমূহ থেকে এই গুজবের উৎপত্তি হয় বলে জানা যায়। নবনির্মিত পদ্মা সেতুতে মানুষের কয়েক হাজার মাথার প্রয়োজন, এমন অনুমাননির্ভর গুজব ছড়িয়ে মাঠে ছেলে ধরা নেমেছে বলে হৈইচই ফেলে দেয়। এক কান দুই কান হতে হতে এই গুজব গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত জোরালো আকার ধারণ করে।

বিস্ময়কর বিষয় হল- এ ধরনের কোন ঘটনার সত্যতা না মিললেও মানুষকে কোন ভাবেই নিবৃত করা যাচ্ছে না। অথচ মানুষ এলোপাতাড়ি বক্তব্য দিয়ে বলছে- শিশু অপহরণ এবং মাথা কেটে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোথায় ঘটেছে বা কে অপহৃত হয়েছে এ ধরনের প্রশ্নের কোন যথার্থ উত্তর নেই। বিষয়টিকে প্রথমে সহজভাবে নেওয়া হলেও এখন আর সহজ নেই। চারিদিকে একই কথা ছেলে ধরা মাঠে নেমেছে।

উদ্বুদ্ব এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান। তিনি শতভাগ নিশ্চিত করে সময়ের আলোকে বলেন- এই গুজবের কোন ভিত্তি নেই।

সম্ভাবত কোন একটি মহল পিনিক সৃষ্টি করতে এই বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে। এজন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মানুষকে সচেতন করতে প্রতিটি থানা পুলিশকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে।

থানা ও ডিবি পুলিশ দিনরাত যেভাবে মাঠে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় গুজবের বিপরীতে উৎকণ্ঠিত শহরবাসী কতটা ভীতসন্ত্রস্ত। এরই মাঝে নগরীর গির্জা মহল্লায় এক নারী তার স্বজন শিশুকে নিয়ে টানা হেচড়া করলে হৈইচৈই পড়ে যায়। যদিও ওই শিশু এবং নারী নিকট আত্মীয়। কিন্তু শিশুটি উৎপাত করায় তিনি বাড়িতে নিয়ে ফিরতে চাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরে ধাওয়া দেয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়- গুজবে ভাসমান জনতা ওই নারীকে ধাওয়া করলে তিনি একটি মাঝারে আশ্রয় নেন। অমনি এই খবর গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে, একজন ছেলে ধরা আটক হয়েছে। পুলিশ তাদের উদ্দেশ ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দিলেও জনতার মন থেকে এ গুজবের রেখাপাত মুছতে পারছে না।

বরং একেক সময়ে এক এক প্রান্ত থেকে অনুরুপ খবর আসছে ছেলে ধরা এইমাত্র প্রবেশ করেছে। পুলিশও নিশ্চিত হতে ছুটছে সেই খবরের পিছনে। পরে দেখা যায় সবই অন্তসার শূণ্য। নগরীর সর্বত্রই উৎকণ্ঠিত মানুষের একই আলোচনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী হ্রাস পাওয়ায় এক উদ্বুদ্ব পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যা সামাল দিতে পুলিশের এখন গলদগর্ম অবস্থা। তবুও পুলিশ মানুষকে গুজব থেকে সরিয়ে আনতে এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

জানা গেছে এদিকে আজ পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এমন খবর ভিত্তিহীন বলে গুজবে কান না দেওয়ার আহবান রেখেছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রঙঢঙে এই গুজবকে আরও প্রসারিত করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ সেখানে নিরুপায়। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোটা জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে গুজব নিরসনে বিভিন্নমুখী প্রচারণা শুরু করেছে বলে শোনা গেছে।

বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। তবে কোনো এলাকায় সন্দেহজনক নতুন লোক দেখলে পুলিশকে জানানোর জন্যও আহ্বান জানাচ্ছি।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]