ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫৪ পিএম আপডেট: ১০.০৭.২০১৯ ৩:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে  ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আশুলিয়ার মির্জানগরে রাতের আধাঁরে কানাডিয়ান কলেজের সীমানা প্রাচীর ও অফিসের আসবাবপত্র, প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাংচুরসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীর মাধ্যমে কানাডিয়ান কলেজে ভাংচুর ও লটপাটের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল আউয়াল বলেন, মির্জানগর এলাকার গনস্বাস্থ্য ফার্মাসিটিউক্যাল এর বিপরীতে জনৈক মোহাম্মদ আলী গংদের মালিকানা ৪.২৪ একর জমির একাংশে দুই বছর আগে গড়ে ওঠে কানাডিয়ান কলেজটি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীতে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে সেমি পাকা টিনসেড ঘরে চলছিলো এর কার্যক্রম। বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদৈর বেঁধে বুলডোজার দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ১১৭০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীরটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এরপর কলেজটির অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে স্টিলের আলমারী থেকে নগদ অর্থ ও শিক্ষার্থীদের সনদপত্রসহ প্রযোজনীয় কাগজপত্র লুটে নেয়।

নিরাপত্তকর্মী আব্দুল হান্নান বলেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমি তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় শেষে কোরআন তেলাওয়াত করছিলাম। এমন সময় কয়েকজন যুবক গেইটের উপর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে আমি তাদের পরিচয় জানতে চাই। এসময় তারা আমাকে মারধর করতে থাকে একপর্যায়ে তাদের সাথে আরো শতাধিক সন্ত্রাসী হাতে বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কলেজের সামনে জড়ো হয়। তারা আমার হাত ও পা চেয়ারের সাথে বেঁধে ফেলে। আমার চিৎকারে অন্যান্য নিরপত্তকর্মী ও আয়া এগিয়ে আসলে তাদেরও হাত পা বেঁধে ফেলে। এরপর বুলডোজোর দিয়ে প্রথমে গেইটটি ভাঙ্গে, তারপর একে একে পুরো সীমানা প্রাচীরটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আরো জানান, রাতের আধাঁরে সন্ত্রাসীদের পরিচয় জানতে পারিনি। তাদের পড়নে ছিলো প্যান্ট,শার্ট,গ্যাঞ্জি বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে হবে। একে অপরের নাম ধরে ডাকলে মঞ্জু, লিটন ও কালাম এই তিনটি নাম স্পষ্ট শুনেতে পেয়েছি।  

জমির মালিক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে গনস্বাস্থ্যের মালিক ডা. জাফর উল্লাহ আমার জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে তার ও গনস্বাস্থ্যের রেজিষ্ট্রার দেলোয়ার হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলী মোর্তজা বাবু ও আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানাসহ আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। গত কয়েকদিন পূর্বেও দেলোয়ার হোসেন আমাকে হত্যার হুমকি দেয়, এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি রয়েছে। পূর্ব শত্রæতার জের ধরেই বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমার মালিকানাধীন জমির সীমানা প্রাচীরসহ কলেজের অভ্যন্তরে ঢুকে লুটপাট ও ভাংচুর করেছে।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা কলেজ ভবনের প্রতিটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে বৈদ্যুতিক ফ্যান, সোফা সেট, দামী আসাবাবপত্র দুটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এমনকি কলেজের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরসহ শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সনদপত্র, ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তিকৃত ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ২৮টি বৈদ্যুতিক ফ্যান, ৫ সেট সোফা, ৩০টি চেয়ার, আয়ার কক্ষ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ১টি স্বর্নের চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১টি আংটি ও ২৫টি নতুন শাড়ী কাপড় লুটে নেয়। এঘটনার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিচার দাবী করে বলেন, ডা. জাফর উল্লাহ নামে মুক্তিযোদ্ধা হলেও কাজে কর্মে মুক্তিযোদ্ধের বিরোধীদের সাথে সরকার পতনের নীলনকশা করছেন। তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, ভাংচুর ও লুটপটের ঘটনায় র‌্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিরুপন করেই আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।

গনস্বাস্থ্য ও গনবিশ^বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ও সহকারী রেজিষ্ট্রারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে জানতে চাইলে গনবিশ^বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলী মোর্তজা বাবু বলেন, আমি এসব বিষয়ের সাথে জড়িত নই। বিশ^বিদ্যালয়ের জমির বিষয়টি দেখেন ষ্ট্রাষ্টি বোর্ডের লোকজন।

ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার দাস। তিনি বলেন, কানাডিয়ান কলেজের সীমানা প্রাচীর, অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের সতত্যা পাওয়া গেছে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিকের পক্ষ থেকে অভিযোগ দয়ের করলে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করেনি।
 
 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]