ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ ৪ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯

হজের সফরে নারী-পুরুষের অবস্থান
মুফতী শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামের বিধান সর্বজনীন। নারীরা মানব জাতির প্রায় অর্ধেক। নারীদের ইবাদতের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘যে সৎকর্ম করবে সে পুরুষ বা নারী যদি বিশ^াসী হয়, তবে আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব।’ (সুরা নাহল : আয়াত ৯৭)। নারীদের নিরাপত্তার জন্য সফরে মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকার বিধান রয়েছে। সে মতে হজের সফরে নারীদের সঙ্গে পুরুষ সফরসঙ্গী থাকেন। বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের কর্মসম্পাদন ও অবস্থান কখনও একত্রে কখনও ভিন্ন বা স্বতন্ত্রভাবে করতে হয়।
বাসা বা বাড়ি থেকে ইহরামের নিয়ত না করে অথবা ইহরামের নিয়ত করে একত্রে যেতে পারবেন। ব্যালটি বা সরকারিভাবে যারা হজে যাবেন তারা ঢাকা হজ ক্যাম্পে অবস্থানকালে নারী-পুরুষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করতে হয়। তবে দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ করা যায়। নন ব্যালটি বা বেসরকারি এজেন্সিসমূহের হাজিরা হজ ক্যাম্পে যেতে হয় না।
ঢাকা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন একই সঙ্গে। বিমানে একত্রে থাকতে পারবেন। হজের সময় বিমানে নির্ধারিত আসন সংখ্যা অনুযায়ী বসা হয় না, যার যার সুবিধামতো বসা যায়। জেদ্দা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন একই সঙ্গে। জেদ্দা থেকে মক্কা শরীফ বা মদিনা শরীফ, মক্কা শরীফ থেকে মদিনা শরীফ ও মদিনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ এবং মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা বাসে নারী-পুরুষ একই সঙ্গে যাতায়াত করবেন। মক্কা শরীফ ও মদিনা শরীফের হোটেলে নারী ও পুরুষ পাশাপাশি কক্ষে আলাদা, তবে যদি একই পরিবারের লোক মাহরাম একই কক্ষের আসন সংখ্যার সমান থাকেনÑ তবে একত্রে থাকতে পারেন।
প্রথম ওমরাহটি (তওয়াফ ও সায়ী) সবাই (নারী-পুরুষ) একত্রে আদায় করবেন। মক্কা শরীফ অবস্থানকালে মসজিদে আসা-যাওয়া ও তাওয়াফ এবং অতিরিক্ত ওমরাহ নারী-পুরুষ একত্রে বা ইচ্ছা করলে আলাদা আলাদাভাবে অথবা নারীরা দলবদ্ধভাবে করতে পারেন।
মিনায় নারী ও পুরুষ পাশাপাশি তাঁবুতে বা একই তাঁবুতে (মাঝে পর্দা দিয়ে) পাশাপাশি অবস্থান করবেন। দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা হবে। নারী-পুরুষদের বাথরুম আলাদা। আরাফাতে নারী-পুরুষ একই তাঁবুতে মাঝে পর্দা টানিয়ে পাশাপাশি অবস্থান করবেন। মুজদালিফায় সবাই একত্রে থাকবেন, এখানে তাঁবু নাই, সামিয়ানাও নাই, এমনকি কার্পেট, ফরাশ, মাদুরও নাই। জামারাতে শয়তানকে পাথর মারতে যাওয়া নারী-পুরুষ একত্রে করা যাবে। সম্মিলিতভাবে বা ছোট দলে ও এককভাবে যার যেভাবে সুবিধা।
মক্কা মুকাররমায় কাবা শরীফে মসজিদুল হারামে নারীদের নামাজের নির্ধারিত জায়গা থাকলেও তওয়াফের কারণে তা পরিপূর্ণরূপে প্রতিপালিত হয় না। তওয়াফরত নারীরা পুরুষদের সঙ্গেই কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। মদিনা শরীফে মসজিদে নববীতে নারী-পুরুষ একত্রে থাকতে পারবেন না। নারীদের বসার, নামাজের ও ইবাদতের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা আছে। রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের এবং রওজা শরীফ জিয়ারতেরও নারী-পুরুষের জন্য আলাদা সময় নির্ধারিত আছে। নারীরা মক্কা শরীফের কবরস্থান জান্নাতুল মুআল্লা এবং মদিনা শরীফের কবরস্থান জান্নাতুল বাকী বাইরে থেকে জিয়ারত করতে পারবেন; ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। মসজিদে কোবা, মসজিদে কিবলাতাঈন ও অন্যান্য জিয়ারতের স্থানে নারী-পুরুষ সবাই একই সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে নারীদের অজু, ইস্তিঞ্জা ও নামাজের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। অহুদ ও বদর জিয়ারতে নারী-পুরুষ সবাই যেতে পারেন। কেনাকাটা ও মার্কেটে নারী-পুরুষ একত্রে যেতে পারবেন। তবে বিশেষ কিছু মার্কেটে আলাদা নারী অঙ্গন থাকে, যেখানে শুধু নারীদের পণ্য সামগ্রীই থাকে। সেখানে পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ।
মক্কা শরীফে ও মদিনা শরীফে আপনার আবাসনের হোটেলে হয়তো যার যার কক্ষে খাবার দেওয়া হবে, নয়তো খাবার কক্ষে। খাবার কক্ষে নারী-পুরুষ একত্রে যার যার মতো করে খাবার গ্রহণ করেন। আপনি চাইলে রুমে নিয়েও খেতে পারেন। বাইরের হোটেলগুলোতে নাস্তা ও খাবার-দাবার নারী-পুরুষ সবাই একত্রে যার যার মতো গ্রহণ করতে হয়।
আপনি চাইলে বাইরের হোটেল থেকে খাবার কিনে রুমে এনে খেতে পারেন। এতে এক খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট হয়। কারণ সেখানে তরকারি কিনলে রুটি ফ্রি (দুটি বা চারটি রুটি নিতে পারেন), আর একটির বেশি রুটি খাওয়া একজনের জন্য কঠিন; আর একবাটি তরকারিতে দুজনের হয়ে যায়।
ইহরাম অবস্থায় বিভিন্ন বিধিনিষেধের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী সুলভ আচরণ নিষিদ্ধ। হজের সফরে ইহরাম ছাড়া অবস্থায় তা নিষিদ্ধ নয়। তামাত্তু হজে প্রথম ওমরার ইহরাম ঢাকা থেকে করলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধা হয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। হজের ইহরাম ৮ জিলহজ থেকে ১০ জিলহজ মাত্র তিনদিন থাকে। অবশিষ্ট সম্পূর্ণ সফরটি আপনি ইহরাম মুক্ত। মাঝে ওমরাহ করতে চাইলে হোটেল থেকে ইহরামের কাপড় পরে, তানয়ীমে আয়শা মসজিদে গিয়ে ইহরামের নিয়ত করে এসে তওয়াফ সায়ী করে তা সম্পন্ন করতে মাত্র তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এর আগে-পরে আপনি ইহরাম মুক্ত থাকছেন। তবে ইফরাদ ও কিরান হজকারীরা ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়ার পর ১০ জিলহজ পর্যন্ত ইহরামে থাকবেন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সূফীজম




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]