ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯ ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯

রোগীর সেবা-শুশ্রুষা বড় ইবাদত
মেহেদী হাসান সাকিফ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

অসুস্থ ও রোগী দেখতে যাওয়া ও তার সেবাশুশ্রƒষা করা অনেক বড় একটি ইবাদত। এ সম্বন্ধে হাদিসে বিরাট ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোগীর সাক্ষাতে গিয়ে তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় অথবা তার কোনো ভাইয়ের সাক্ষাতে যায়Ñ সে ব্যক্তিকে এক আহŸানকারী আহŸান করে বলেনÑ সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ওই যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে।’ (তিরমিজি : ১৬৩৩)। অন্য হাদিসে তিনি আরও বলেন, ‘যখনই কোনো ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলায় কোনো রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, তখনই তার সঙ্গে ৭০ হাজার ফেরেশতা বের হয়ে সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। আর যে ব্যক্তি সকালবেলায় রোগীকে দেখা করতে আসে সে ব্যক্তির সঙ্গেও ৭০ হাজার ফেরেশতা বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন।’ (বোখারি : ৫৭১৭)
অমুসলিমরা অসুস্থ হলেও আমাদের প্রিয় নবী (সা.) তাদের দেখতে যেতেন, তাদের সেবা করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক ইহুদি গোলাম নবী করিম (সা.)-এর খেদমত করত। যখন সে অসুস্থ হলো, তখন মহানবী (সা.) তাকে দেখতে গেলেন, তার মাথার দিকে বসলেন আর তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর! তখন সে তার পিতার দিকে দেখল। পিতা বললেন, তুমি আবুল কাসেমের অনুসরণ কর। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করল। তখন নবী (সা.) এই বলে বের হলেনÑ আল্লাহর শোকরিয়া, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’ (বুখারি : ১২৫৬)
রোগী দেখতে গেলে অনেক সময় কিছু ত্রæটি হয়ে যায়। অনেক সময় আমাদের অজান্তেই কিছু বিষয় রোগী ও তার আতœীয়-স্বজনদের কষ্টের কারণ হয়ে থাকে। রোগী দেখার বেশ কিছু আদব রয়েছে আমরা যেগুলো অনুসরণে সহজেই এসব অনাকাক্সিক্ষত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। যেমনÑ ১. অজুসহকারে রোগী দেখতে যাওয়া। এ মর্মে হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো অসুস্থ মুসলমান ভাইকে দেখতে যায়Ñ তাকে জাহান্নাম থেকে ৬০ বছরের পথ দূরে রাখা হবে।’ (আবু দাউদ : ৩০৯৭); ২. রোগীর অবস্থা বুঝে শরীরে হাত রেখে রোগের কথা জিজ্ঞাসা করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শুশ্রƒষার পূর্ণতা হলো- রোগীর কপালে বা শরীরে হাত রেখে জিজ্ঞেস করা, কেমন আছেন? এবং তখন এই দোয়া পড়াÑ লা বাসা তাহুরুন ইনশা আল্লাহ।’ (বুখারি: ১০/১১৮); ৩. রোগী কিছু খেতে চাইলে এবং তা তার জন্য ক্ষতিকর না হলে খেতে দেওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোগী যদি কিছু খেতে চায় তবে তাকে খেতে দেওয়া উচিত।’ (বুখারি : ১০/১১৮); ৪. রোগীর সামনে উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সুন্নত হলোÑ ‘রোগীর পাশে কম সময় বসা এবং উঁচু আওয়াজে কথা না বলা;’ ৫. রোগীর জন্য দোয়া করা। বিভিন্ন দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো রোগীর
কাছে গিয়ে নিম্নের দোয়াটি সাতবার পাঠ করলে মৃত্যুরোগ ছাড়া
রোগ থেকে সে সুস্থ হয়ে উঠবে। দোয়াটি হলোÑ আসআলুল্লাহাল আজিম, রাব্বাল আরশিল
আজিম, আই ইয়াশফিয়াকা।’ (আবু দাউদ : ৩১০৬)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]