ই-পেপার  বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯

প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত
রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ ব্যাহত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১২:৩৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ ব্যাহত

রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ ব্যাহত

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছীতে তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ট্রেন যোগাযোগে বিপর্যয় ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর লাইনচ্যুত বগির সবগুলো উদ্ধার করে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এদিকে, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর গাফিলতিকে। দুর্ঘটনার পর বুধবার রাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পক্ষ। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছির দিঘলকান্দি ঢালানের কাছে তেলবাহী ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়। তেলবাহী ট্রেনটি খুলনা থেকে রাজশাহীর হরিয়ান হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে যাবার কথা ছিল। ট্রেনটির মাঝখান থেকে ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বন্ধ হয়ে যায় রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) খন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান, লাইন সংস্কার কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণেই তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, এখানে লাইন সংস্কার চলছিল। পুরনো সিøপার পরিবর্তন করে পাথর দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু যারা সংস্কার কাজ করছে, তারা সিøপারের সঙ্গে লাইন আটকানো কয়েকটি পিন (ডগস্পাইক) খুলে রেখেছিল। পাথর ফেলার পর সেটা ঢেকে যায়, ফলে তা কারও চোখে পড়েনি। তাতেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রেলের কর্মকর্তারা জানান, ৩১টি তেলের বগি নিয়ে খুলনা থেকে রাজশাহীর হরিয়ান হয়ে রহনপুর যাচ্ছিল তেলবাহী ট্রেনটি। প্রতিটি বগিতে ছিল ৫০ হাজার লিটার তেল। প্রতিটি বগির ওজন ৫০ টন। পিন খোলা থাকায় অতিরিক্ত চাপে লাইন সরে যায়। ফলে ৯টি বগি লাইন ছেড়ে বেরিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজে একটু বেশি সময় লাগছে বলে জানিয়েছে উদ্ধার সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, লাইনচ্যুত বগিগুলোর উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার রাতেই বাতিল করা হয় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধুমকেতু ট্রেনের যাত্রা। এরপর বৃহস্পতিবার সকালের আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা, সাগরদাঁড়ি, সিল্কসিটি, কপোতাক্ষ ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনেরও যাত্রা বাতিল করা হয়। এসব ট্রেনের যাত্রীদের টিকেটের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তারা প্রায় সাত হাজার যাত্রীকে ২৬ লাখ টাকারও বেশি ফেরত দিয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত লাইনচ্যুত ৮টি বগির মধ্যে ছয়টিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্রেন দিয়ে লাইনচ্যুত বগিগুলোকে শূন্যে উঠিয়ে লাইনে স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সংস্কার করা হচ্ছে রেললাইন। বাকি দুটি বগি রাত ১০টার মধ্যে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন রেলের কর্মকর্তারা।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বুধবার রাতে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়। ফলে উদ্ধার কাজে গতি আসেনি। আশা করছি, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]