ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

ইসলামী পর্যটনকে বিশ্বব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১২:১৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী পর্যটনকে বিশ্বব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইসলামী পর্যটনকে বিশ্বব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ববাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ববাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক প্রয়াস ও রোডম্যাপের প্রয়োজন। কারণ এর বাজার বার্ষিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ তা ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে। বাসস।

তিনি বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঢাকা দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি মুসলিম উম্মাহর একসঙ্গে কাজ করা একান্তভাবে প্রয়োজন। যাতে আমরা সারা বিশ্বে সবার সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে চলতে পারি। নিজেদের যেকোনো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি। যাতে করে অন্য কেউ মুসলমানদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে না পারে।’

তিনি আন্তঃওআইসি পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটির সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পর্যটনকেন্দ্রিক খাতগুলোর মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মুসলিম পর্যটক এবং পাশ্চাত্য দেশগুলোর জন্য বিশ্বের সববৃহৎ বালুময় সমুদ্রতট কক্সবাজারে পৃথক পর্যটন স্পট তৈরির প্রস্তাব করেন। তিনি বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নৌ-ট্যুরিজম রুট তৈরির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুুল মোমেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আর এ এম ওবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী, মন্ত্রণালয়টির সচিব এম মহিবুল হক এবং ওআইসির সহকারী মহাসচিব মুসা কুলাকলিকায়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ৪শ বছরের প্রাচীন নগরী ঢাকার মুসলিম ঐতিহ্য ও নিদর্শন নিয়ে একটি অডিও ভিজুয়াল পেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দফতর ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনার, ক‚টনৈতিক মিশনের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং অনুষ্ঠানে যোগদানকারী প্রায় ৩০টি দেশের পর্যটনমন্ত্রী ও তাদের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় ওআইসির পর্যটনমন্ত্রীদের দশম সম্মেলনে গৃহীত ঢাকা ঘোষণায় ঢাকাকে ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ৪ ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে শীর্ষস্থান দখল করে ঢাকা। সম্মেলনে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজারবাইজানের ‘গাবালা’কে ২০২০ সালের সিটি অব ট্যুরিজম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকাকে সিটি অব ট্যুরিজম ঘোষণাকে উদযাপনের জন্য এই দুই দিন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুসলিম নিদর্শনগুলো পরিদর্শন, কনসার্ট এবং হাতিরঝিলে লেজার শো এবং আতশবাজীর প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, এর আগে ২০১৮ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওআইসি সদস্যভুক্ত পর্যটনমন্ত্রীদের দশম সম্মেলনে গৃহীত ঢাকা ঘোষণায় আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ইসলামী পর্যটন জনপ্রিয় করার গুরুত্ব স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে পর্যটন খাতে দক্ষতা, উন্নয়ন ও সার্টিফিকেশনের জন্য একটি ইনস্টিটিউট স্থাপনের গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটননগরী কক্সাজারে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। জিডিপি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে উন্নীত, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন লাভের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের সমপর্যায়ে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির লক্ষ্যপূরণে সক্ষম হব। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, প্রাচীন ও আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইসলামিক স্থাপনা ইত্যাদি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীরতীরে প্রায় চারশত বছরের প্রাচীন শহর ঢাকা গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য সুপ্রসিদ্ধ। এখানে রয়েছে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হল, ঢাকার অদূরের পানাম নগরসহ উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।’ তিনি বলেন, নগর হিসেবে ঢাকা শুধু পুরনো নয়, এ নগরকে ঘিরে শিল্পী বা সৃজনশীল মানুষের বিপুল সমাবেশ হয়েছিল। যেমন ঢাকার মসলিন, যা সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত ছিল। বর্তমানে ভৌগোলিক নির্দেশক অর্জন করায় ঢাকার জামদানি শাড়ি সারা বিশ্বে আমাদের পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার শহর ঢাকায় ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আগমনের জন্য তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং ২০১৯ সালের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের পর্যটননগরী হিসেবে ঢাকাকে নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা এবং আনন্দ প্রকাশ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]