ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯ ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯

অসহনীয় যানজট, সবাইকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১২:০৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: রাশেদুজ্জামান

ছবি: রাশেদুজ্জামান

বাসা থেকে পা বাড়ালেই নিজ গন্তবে যেতে যানজটের মধ্যে পড়েন না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। কি দিনে কি রাতে সব খানে সব রাস্তায় যেন এক সমান। সকাল থেকে দিনের সময় যত গড়াতে থাকে, ততই অসহনীয় যানজটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে নগরবাসীর। এক সময় পুরান ঢাকায় এই চিত্র ছিল নিত্যদিনের। কিন্তু এখন চিত্র ঠিক তার উল্টো। 

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টা। কাকরাইল মসজিদ থেকে একেবারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফোয়ারা পর্যন্ত গাড়ি পৌঁছাতে সময় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ মিনিট। একই দিনে বেলা সাড়ে ৩টা। শাহবাগ বঙ্গবন্ধু হাসপাতাল থেকে শেরাটন হোটেল পর্যন্ত সব ধরনের গাড়ির জট। একেবারে ২৫ মিনিট সব গাড়ি থেমে আছে। কখন সিগন্যাল ছাড়বে কেউ কিছু বলতে পারছে না। 

মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগে গাড়ির পথ মাত্র ৫ মিনিটের। কিন্তু এখন সে পথ হয়ে গেছে ১৫ মিনিটের। বুধবার এই পথ হয়ে গিয়েছিল ২৫ থেকে ৩৫ মিনিটের। যে কারণে অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে পায়ে হাঁটা দিয়েছিল। অবশ্য সেদিন হোটেল শেরাটনে বিদেশি মেহমানের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার ছিল। অন্যান্য দিন এই পথ হয়ে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ মিনিটের। একইভাবে শাহবাগ থেকে প্রেসক্লাবে আসতে সময় নিয়েছে ৩০ মিনিট। বুধবার রাত প্রায় ৯টায় মগবাজার থেকে মালিবাগের পথ হয়ে গিয়েছিল ২৫ মিনিট। একই রাজারবাগ বা শান্তিনগর যেতে ফ্লাইওভারে গাড়ির যানজট ছিল অসহনীয়।

ফ্লাইওভারের যানজট নিয়ে একাধিক গাড়িচালক জানিয়েছে, মালিবাগ-মৌচাক-বাংলামোটরের ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পে যথেষ্ট ক্রটি রয়েছে। ইস্কাটন পর্যন্ত এসে ফ্লাইওভার তেমন যানজট নিরসনে কাজে দেয়নি। বরং এটি যদি বাংলামোটর পার করে দিত তাহলে জট কমত। বাংলামোটরের চৌরাস্তায় দুটি উইং করে দিলেই যে যার গন্তব্যে যেতে পারত। একইভাবে মালিবাগ থেকে চৌধুরীপাড়ায় যে ফ্লাইওভার করা হয়েছে তাতে বেশিরভাগ মানুষের কোনো কাজে আসেনি। কারণ বাসের যাত্রীদের জন্য মালিবাগ মোড় কিংবা মৌচাক নামার কোনো পথ রাখা হয়নি। যে বাস আসে নিচ দিয়ে। ফলে যানজট না কমে বরং আরও বেড়ে গেল।

মৌচাক থেকে মগবাজার মোড় কত দূর? কিন্তু পার হতে সময় নেয় অনেক। একইভাবে মগবাজার থেকে বাংলামোটর পথ পেরোতে সময় নেয় ২০ থেকে ২৫ মিনিট। একইভাবে বাংলমোটর থেকে মগবাজার পার হতে সময় অনেক অপচয় হচ্ছে। অবশ্য ভিআইপিদের কারণে মিন্টু রোড থেকে মগবাজার রেলগেট পথে অল্প সময়ে পার করা হচ্ছে। এতে নাকাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একইভাবে মালিবাগ মোড় থেকে পথে পথে জট। প্রথম জট হচ্ছে সিআইডি ও এসবি অফিস। এখানে যেকোনো কর্মকর্তা আসা যাওয়ার জন্য অল্প সময়ের জন্য হলেও, রাস্তা বন্ধ করতে হয়। এরপর শান্তিনগর পার হতে অনেক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এই ফ্লাইওভার যদি একেবারে কাকরাইল পর্যন্ত টেনে দুটো উইং করে দেওয়া যেত তা হলে এত ভোগান্তিতে পড়তে হতো না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এমআর টি, বিআরটিসহ নানাধরনের উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকায় ঢাকা মহানগরী যানজট মুক্ত করা বেশ সময় সাপেক্ষ। তবে সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য কি করা যায় সে ব্যাপারে অনেকর কাছে পরামর্শ চান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন, প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান বাস দিয়েই উল্লেখ যোগ্যগুলোতে কোম্পানি গঠন করা যায় কিনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব বলেছেন, বর্তমান রাস্তায় চলাচলরত বাসের ৬০ শতাংশ বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠা নামা বন্ধ রাখছে। জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বলেছেন, ফুটপাথ অবৈধ দখলদারমুক্ত রাখা প্রয়োজন। তবে রাজউকের একটি সুসংবাদ দিয়েছেন। আর তা হলো, ৭০টি ইন্টারসেকশনে অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হচ্ছে। এটি চালু হলে ট্রাফিক জ্যাম কম হবে। নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পুলিশের সক্রিয়তা প্রয়োজন। সভায় গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রী বলেছেন, মালিবাগ থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত এসএ পরিবহনের গাড়ি রাস্তার ওপর রাখার কারণে সবসময় যানজট হয়। ওই গাড়িগুলো যেন পাকিং না করে এটি নিশ্চিত করার জন্য তিনি পুলিশ কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানান। সড়ক পরিবহন সচিব বলেছেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঢাকায় অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ফুটপাথে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করার কার্যক্রম উদ্যোগের প্রস্তাব দেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর থেকে অবৈধ যানবাহন দূর করাসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়রকে আহ্বায়ক করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটি ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অবৈধ যানবাহন শনাক্ত করে তা ধ্বংস করবে। একই সঙ্গে ঢাকার পাশর্^বর্তী জেলার যানবাহন মহানগরীতে প্রবেশ বন্ধ করবে। এ ছাড়াও যেখানে সেখানে পাকিং বন্ধ করবে। মতিঝিলে একটি পাকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তা এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]