ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ ৪ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯

মাশরাফি-সাকিবের বিকল্প নেই!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১২:৩৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মাশরাফি-সাকিবের বিকল্প নেই!

মাশরাফি-সাকিবের বিকল্প নেই!

বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি। চলছে, যদিও সেই বিশ্বকাপে টিম বাংলাদেশ দর্শক বনে গেছে সেমিফাইনালের লড়াই শুরুর আগেই। তবে এখনও আলোচনায় আছে সাকিব আর হাসানের নাম। ব্যাটে-বলে এমনই পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার, বিশেষজ্ঞরা তো সুরে সুর মিলিয়ে বলে যাচ্ছেন সাকিবই এ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্ষেত্রে হিসাবটা ঠিক উল্টো। এ বিশ্বকাপে সব থেকে বাজে পারফরমারদের অন্যতম তিনি। সাকল্যে একটি উইকেট পেলেও টাইগার দলপতি অদম্য মানসিকতা নিয়ে খেলে গেছেন দল আর দেশের জন্য।

মাশরাফি আর সাকিব বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই রত্ন। বছরের পর বছর ধরে পারফর্ম করে আসছেন তারা। চোটাঘাত আর বয়সের কারণে মাশরাফির পারফরম্যান্সের ধার কিছুটা কমেছে ঠিক, তবে তার নেতৃত্বগুণ ক্ষুরধার। এ গুণটাই মাশরাফিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। অন্যদিকে সাকিব শিখরে পৌঁছেছেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। তার কোনো বিকল্প নেই। ‘খেলোয়াড় সাকিব’র যেমন বিকল্প বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেই, তেমনি বিকল্প নেই ‘অধিনায়ক মাশরাফি’র। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ঘটা করেই বলে দিয়েছেন এ কথা।

বিশ্বকাপে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ভাসছেন প্রশংসা-বানে। অন্যদিকে বিশ্বকাপেই ব্যাপক সমালোচিত বোলার মাশরাফি। বাংলাদেশের এ দলে তার জায়গা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন দেশ-বিদেশের অনেকে। বিসিবি সভাপতিও প্রশ্নটাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তিনি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত খেলোয়াড় মাশরাফির থেকে অধিনায়ক মাশরাফিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন দল নির্বাচনে, ‘মাশরাফি (দলে) খেলোয়াড় হিসেবে তো আসে না। কিন্তু যদি অধিনায়ক বলেন, তাহলে ওর মতো অধিনায়ক আমরা কোথাও পাব না।’

ইংল্যান্ডে মাশরাফি যে তার সেরাটা দিতে পারবেন না, বিসিবি আর টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি তা আগে থেকেই জানত। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান তেমনটাই জানিয়েছেন। লন্ডনের চিসউইক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘ইন্টার পার্লামেন্টরি ক্রিকেট’ দেখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে সে ভালো করতে পারেনি। আমরা কিন্তু আগেই জানতাম, তার ভালো করার কথা নয়। এ কন্ডিশনে, পিচে সে ভালো করবে এটা আমরা আশাও করিনি। সে চোট পেয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ফাইনাল ম্যাচ থেকে সে গ্রেড-টু টিয়ার নিয়ে খেলছে।’

মাশরাফি পারফর্ম করুক আর নাই করুক, মাঠে তার উপস্থিতিই অনুপ্রাণিত করে দলকে। তাই দুই পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়েও প্রতিটি ম্যাচে খেলে গেছেন তিনি। বিশ্রাম নেওয়ার ভাবনা এসেছিল তার মনে, তাকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভেবেছিল টিম ম্যানেজমেন্টও। মাশরাফির লড়াকু মানসিকতায় সেটা ভাবনার পর্যায়েই থেকে গেছে, বাস্তবরূপ পায়নি। এ প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘সে লড়াকু একজন খেলোয়াড়। তবে দুয়েকবার কথা হয়েছিল যে সে বিশ্রাম নেবে। সে নিজেও ঠিক করেছিল। তারপরে তার মনে হয়েছে ‘আমি সারা জীবন দেশের জন্য লড়াই করলাম, এখন শেষ দুই ম্যাচে বসে পড়ব? আমি তো ইনজুরি নিয়েই খেলি।’ আসলে এ মানসিকতা সব ক্রিকেটারের থাকা দরকার।

এমন একজনের বিকল্প কি আর পাওয়া যাবে? নাজমুল হাসান পরিষ্কার বলে দিলেন, অধিনায়ক মাশরাফির বিকল্প নেই, তেমনি বিকল্প নেই খেলোয়াড় সাকিবের, ‘আমি সবসময় বলি, দুজনের বিকল্প আমাদের নেই-খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব আর অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির। এ দুজন ছাড়া সবারই বিকল্প আছে।’ মাশরাফির অবসর ইস্যুতে আরও একবার কথাটা বলেন বিসিবিপ্রধান, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুটি বড় চরিত্র। এক মাশরাফি, সর্বশ্রেষ্ঠ অধিনায়ক। দুই সাকিব আল হাসান, সর্বকালের সেরা পারফরমার। সেই সেরা অধিনায়কের জন্য আমরা চেষ্টা করব দেশের মাটিতে সম্ভাব্য সেরা বিদায়ের ব্যবস্থা করতে এবং (চাইব) সেটা যেন স্মরণীয় হয়।’
বিশ্বকাপের শেষভাগে এসে অবসর সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছেন মাশরাফি। জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের পরও আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাবেন। তবে বোর্ড চাইলে বিষয়টা নিয়ে নতুন করে ভাববেন। নাজমুল হাসান জানালেন, বোর্ডও মাশরাফির অবসরের বিষয়টা নিয়ে আলাদা করে ভাবছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘মাশরাফিকে দেশের মাটিতে স্মরণীয় বিদায় দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি। আমরা এমনভাবে (সিরিজ) আয়োজন করব, যাতে সে দেশের মাটিতেই বীরের মতো বিদায় নিতে পারে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মাশরাফির মতো একজন ক্রিকেট-বীরের এমন বিদায়ই প্রাপ্য।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]