ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯ ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯

কালের গর্ভে বিলীন দরসবাড়ি মসজিদ
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

গাছগাছালি পরিবেষ্টিত চারপাশ। পাখির ডাকে মুখরিত পরিবেশ। সবুজ দুর্বাঘাসে আচ্ছাদিত মাঠ। মাঠের মাঝখানে সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দরসবাড়ি খ্যাত মসজিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ওমরপুরে মসজিদটির অবস্থান। এটি বাংলার প্রথম যুগের মুসলিম স্থাপত্য কীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। পাশেই ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। সোনা মসজিদ স্থলবন্দর থেকে মহানন্দা নদীর পাড় ঘেঁষে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ রাইফেলসের সীমান্ত তল্লাশি ঘাঁটি। ঘাঁটি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ‍দূরে ঘোষপুর মৌজায় অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের সুন্দর নিদর্শন দরসবাড়ি মসজিদ।

মসজিদটি এখন ভগ্নদশা হয়ে পড়ে আছে। ওপরের ছাদ ভেঙে পড়েছে আগেই। আশপাশটা বেশ নির্জন। কেমন গা ছমছমে ভাব। লাল ইট খসে পড়েছে অনেক জায়গার। দেওয়াল জুড়ে শ্যাওলার আধিক্য। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় ৫৪০ বছরের পুরনো মসজিদটির দেওয়ালে এখনও সুন্দর কারুকার্য স্পষ্ট। অনেক স্তম্ভ ধ্বসে পড়ে উঁচু হয়ে আছে। মসজিদের ভেতরও সবুজ দুর্বার গালিচা। খালি পায়ে হাঁটতে গেলে পা জড়িয়ে ধরে।কোনো কারণে একটা সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় মসজিদটি। অনেকদিন পর্যন্ত মাটির নিচেই চাপা ছিল। সত্তর দশকের প্রথমভাগে খনন করে এটিকে উদ্ধার করা হয়। পরিচর্যার অভাবে এখন যেন মৃতদশা। এর সংলগ্ন আরেকটি স্থাপনা হলো দারাসবাড়ি মাদ্রাসা। মসজিদে সঙ্গেই এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীঘির এক পারে মসজিদ এবং অন্য পারে মাদ্রাসা অবস্থিত।
মাটি খননকালে একটি আরবি শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়। শিলালিপি অনুযায়ী ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরি ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দিন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তারই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এই মসজিদের নাম ছিল পিরোজপুর মসজিদ। ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে যখন সুলতান হোসেন শাহ কর্তৃক দরসবাড়ি বিশ^বিদ্যালয় গঠিত হয়, তখন অত্র অঞ্চলের নাম দরসবাড়ি নামে প্রসিদ্ধ লাভ করে। পিরোজপুর জামে মসজিদ নাম হারিয়ে হয়ে যায় দরসবাড়ি মসজিদ।
ইট নির্মিত এই মসজিদের অভ্যন্তরের আয়তক্ষেত্র দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। পূর্ব পার্শ্বে একটি বারান্দা, যা ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি। বারান্দার খিলানে সাতটি প্রস্তর স্তম্ভের ওপরের ছয়টি ক্ষুদ্রাকৃতি গম্বুজ ছিল। মাঝের গম্বুজটি অপেক্ষাকৃত বড় ছিল। ওপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্নাবশেষ এখনও রয়েছে। উত্তর দক্ষিণে তিনটি করে জানালা ছিল। উত্তর পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজের জন্য প্রস্তর স্তম্ভের ওপরে একটি ছাদ ছিল। এর পরিচয়স্বরূপ এখনও একটি মেহরাব রয়েছে। এ ছাড়াও পশ্চিম দেওয়ালে পাশাপাশি তিনটি করে ৯টি কারুকার্য খচিত মেহরাব বর্তমান রয়েছে। মসজিদের চারপাশের্^ দেওয়াল ও কয়েকটি প্রস্তর স্তম্ভের মূলদেশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখানে প্রাপ্ত তোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কলকাতা জাদুঘরে রক্ষিত আছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]