ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ ৪ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯

ধর্ষণ ও ব্যভিচার সম্পর্কে ইসলাম
শাহ মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

2
ধর্ষণের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতার মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় রোজই পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হিসেবে উঠে আসে ধর্ষণের পাশবিক ও নিষ্ঠুর খবর। ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরাও। মূলত বিচারহীনতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। কাজেই ধর্ষকদের অতি দ্রæত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণ বন্ধে এর কোনো বিকল্প নেই। ধর্ষকদের কোনোভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী বলে কোনো ধর্ষক যেন পার পাওয়ার সুযোগ না পায়, তা সুনিশ্চিত করা এবং এর জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
অবাধ যৌনাচারে ঘৃণাবোধ তৈরি: জিনা-ব্যভিচার খুবই কদর্য ও নিকৃষ্ট একটা অনাচার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল ও মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩২)। প্রচলিত আইনে ব্যভিচার ও অবাধ যৌনাচারের প্রতি ঘৃণাবোধ সৃষ্টি করা গেলে ধর্ষণও বন্ধ করা সহজ হবে। ব্যভিচার ও অবাধ যৌনাচার চালু রেখে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। উল্লেখিত আয়াতের তাফসিরে প্রখ্যাত তাফসিরবিদ ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচার কর না’ এর চেয়ে ‘ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না’ কথাটি অনেক বেশি কঠোর ও প্রতিরোধমূলক বাক্য। এর অর্থ হলো, যেসব বিষয় ব্যভিচার উসকে দেয় ও ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে সেগুলোও হারাম। ইসলামের নির্দেশনা মতে, কোনো ব্যক্তি শুধু ব্যভিচার থেকে দূরে থেকেই ক্ষান্ত হবে না, বরং এ পথে ধাবিতকারী বিষয় থেকেও দূরে থাকবে। (তাফসিরে কুরতুবি : সুরা বনি ইসরাঈলের ৩২নং আয়াতের তাফসির)
ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি : ধর্ষণের ক্ষেত্রে তিনটি অপরাধ সংঘটিত হয়। ১. ব্যভিচার; ২. বল প্রয়োগ; ৩. সম্ভ্রম লুণ্ঠন। ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরকরণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ^াসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সুরা নুর : ২)
হাদিসে এসেছে, ‘অবিবাহিতের ক্ষেত্রে শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাত ও রজম বা পাথর মেরে মৃত্যুদÐ।’ (মুসলিম: ৪৫১১)। ধর্ষণের অপরাধে ব্যভিচারের শাস্তির পাশাপাশি মুহারাবার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। মুহারাবা হলোÑ পৃথিবীতে গোলযোগ ও অশান্তি সৃষ্টি, ডাকাতি-লুণ্ঠন, নিরাপত্তা বিঘিœতকরণ, ত্রাসের রাজ্য কায়েম করা ইত্যাদি। এতে কেবল সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে, আবার হত্যা করা হতে পারে। আবার দুটোই হতে পারে।
মুহারাবার শাস্তি ঘোষণা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সুরা মায়িদা : ৩৩)। এ আয়াত থেকে বিখ্যাত মালেকী ফকিহ ইবনে আরাবি (রহ.) ধর্ষণের শাস্তিতে মুহারাবার শাস্তি প্রয়োগের মতো ব্যক্ত করেছেন। ধর্ষণ একটি পাশবিকতার নামান্তর কুকর্ম। তাই ধর্ষণকে জিনা-ব্যভিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কারণগুলোর সঙ্গে বিবেচনা করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। ডাকাতি বা ছিনতাই করার সময় যেমন নিরীহ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়; তেমনি জোরপূর্বক নারীর সতীত্ব হরণ বা লুণ্ঠন করা হলো ধর্ষণ। সমাজে এখন ধর্ষণ মহামারির আকার ধারণ করেছে। তাই সমাজ থেকে ধর্ষণ সমূলে নির্মূল করার লক্ষ্যে ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা জরুরি। কারণ ধর্ষণের বিরুদ্ধে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত শাস্তি। এ জন্য যেসব দেশে ব্যভিচারের অপরাধে ইসলামী আইন প্রয়োগ হয়, সেখানে ধর্ষণ প্রবণতা অনেক কম। পরিসংখ্যান তাই বলে।
ইসলামের শাস্তি অমানবিক নয় : ইসলামে ব্যভিচার ও অবাধ যৌনাচারের শাস্তি বা রজমের বিধানকে অনেকে বাড়াবাড়ি মনে করে। আসলে ব্যভিচার ও ধর্ষণ ক্যানসারের মতো একটি সংক্রামক ব্যাধি। কোনো অঙ্গে ক্যানসার হলে অন্য অঙ্গ সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে সেই আক্রান্ত অঙ্গ যেমন অপসারণ করা হয়, ঠিক ব্যভিচারী ও ধর্ষককে কঠিন শাস্তি দিয়ে সমাজ নামাক দেহটিকে সুস্থ রাখার জন্য আল্লাহ তায়ালা ব্যভিচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। এখানে অপরাধীর প্রতি কোনো দয়া ও অনুকম্পা দেখাতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ তাতে অনেকের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
লেখক : প্রাবন্ধিক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]