ই-পেপার  বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯

হজে নারীদের বিশেষ লক্ষণীয়
মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

নারীরা সামর্থ্যবান হলে তাদের ওপরও হজ করা ফরজ। তবে হজ আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষভাবে পালনীয় কিছু বিধান রয়েছে; যা তাদের হজ পালনে সুবিধা ও পবিত্রতা রক্ষায় অধিক সহায়ক। পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে গমনকারী নারীদের হজের কার্যাবলী সঠিকভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে কিছু বিধি-বিধান পাঠকদের সমীপে তুলে ধরা হচ্ছেÑ
মাহরামের সঙ্গে হজে গমন : প্রত্যেক নারীকে অবশ্যই মাহরাম পুরুষের সঙ্গে হজে যেতে হবে। মাহরাম বলা হয় এমন পুরুষকে যার সঙ্গে দেখা করা জায়েজ। যেমন- পিতা, পুত্র, স্বামী, আপন ভাই, আপন চাচা, আপন মামা প্রমুখ। এ সম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো নারী যেন স্বীয় মাহরাম ছাড়া সফর না করে। অতঃপর এক সাহাবি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি জিহাদে যাওয়ার জন্য সৈন্যদলে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছি, আর আমার স্ত্রী হজে যেতে ইচ্ছা করেছে। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমিও তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজে যাও।’ (বুখারি : ১৭৪০)
পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা : ঋতুবতী অবস্থায় তাওয়াফ করা যাবে না; তবে হজের অন্যান্য আহকাম পালন করা যাবে। আর ঋতুস্রাব শেষ হলে গোসল করে তাওয়াফ করে নিতে হবে। উল্লেখ্য যে, এ কারণে তাওয়াফ বিলম্বিত হলে গুনাহ হবে না। হাদিসে এসেছে, ‘একদা হজরত আয়েশা (রা.) হজের সময় ঋতুবর্তী হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ হাজিগণ যা করেন তুমিও তা সবই কর, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করবে না।’ (বুখারি: ১৫৪৭)
পোশাকের ব্যাপারে সতর্কতা : ইহরাম অবস্থায় সাধারণ ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে এবং মাথা ঢেকে রাখতে হবে। আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করা বা চেহারা ঢেকে রাখা যাবে না। এখানে চেহারা না ঢাকার দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে, চেহারা সম্পূর্ণ খুলে রাখতে পারবে, বরং ইহরাম অবস্থায়ও পর্দার প্রতি সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা জরুরি। তাই মাথার ওপর ক্যাপ বা এ জাতীয় কিছু পরিধান করে তার ওপরে নেকাব ঝুলিয়ে দেবে; যাতে নেকাবের কাপড় চেহারা স্পর্শ না করে।
নারীরা পুরুষদের মতো মাথা মুÐাবে না। বরং চুলের আগা থেকে এক কর পরিমাণ ছেটে ফেলবে। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদেরকে মাথা মুÐন করতে নিষেধ করেছেন।’ (তিরমিজি : ৯১৬)। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় চুল একত্র করে তা থেকে আঙুলের এক কর পরিমাণ ছোট করবে।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ১৩০৬৫)
রমল ও ইজতেবা না করা : নারী হজ ও ওমরা আদয়কারী রমল ও এজতেবা করতে যাবে না। এ বিষয়ে ইবনে মুনজির (রহ.) বলেন, তাওয়াফ কিংবা সায়ী কোনো ক্ষেত্রেই নারীরা রমল এজতেবা করবে না। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো শক্তিমত্তা ও বীরত্ব প্রকাশ করা, যা নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অধিকন্তু পর্দা রক্ষা করাই তাদের মূল বিষয়। আর এ ক্ষেত্রে পর্দা লঙ্ঘিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। (সূত্র: ফাতাওয়ায়ে শামি, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, কিতাবুল হজ ইত্যাদি)
লেখক : খতিব, মাসজিদুল কোরআন জামে মসজিদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]