ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

বর্ষার কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

এ বর্ষণ এ গর্জন
মুহম্মদ নূরুল হুদা

গনগনে চুল্লি যারা বসিয়েছে দরিয়ার বুকে
তারা কারা, তারা কারা?
এখানে এসেছে কেন? কেন তারা খাড়া?

দিন নেই রাত নেই কেন তারা খোঁড়ে?
খুঁড়তে খুঁড়তে তারা ফুঁড়ে আসে কোন সে পাতাল?
তাদের আগুনে কেন মৎস্যনাভি,
শেওলার সবুজিমা পোড়ে?

সামান্য ধীবর-গোত্র, আমাদেরও বুকে এসে লাগে সেই তাপ
স্রোতের তরঙ্গ-ভঙ্গে পলকেই পড়ে ফেলি সব মতলব;
মালো যদি ভ্রাত্য আমাদের, জন্মে জন্মে দিয়েছেন বর
জলদেব খোয়াজ খিজির; হিম্মতে রেখেছে বেঁধে জালোর কলব।

তরল অনল যদি খুঁড়ে নিতে চাও, দাও ন্যায্য দাম;
আমরা পাহারা দেই জলশস্য, মাছেদের ঘাম,
আমরা পাহারা দেই ঘাটে ঘাটে বদর মোকাম।

এ সমুদ্র বাষ্প-মেঘ; মেঘের বর্ষণে যদি সব একাকার,
জলপুত্র জলকন্যা, আমাদের অস্ত্রে জ্বলে জলের হুঙ্কার।

শুনে সেই হাঁক
ঘূর্ণিঝড়ে দৈত্যের ডানায়
আগুনে বর্ষণ নামে নীল দরিয়ায়;
এ বর্ষণ এ গর্জন
সূর্যোদয় সূর্যাস্তের সীমানা ছাড়ায়।


ছায়া
কামাল চৌধুরী

শরীরময় অশরীরী কোন ছায়াটা তোমায় দেব
কোথায় গেলে দেখতে পাবে পথের ধূলির অনুসরণ
বাতাসমুখী বৃষ্টি ফোঁটা শ্যামা পাখির বর্ষাতিতে
কোন বাউলের অধীর গলা নিশীথে সুর জাগানিয়া।

ভাগ করেছি নিজের ছায়া শরীরে আজ বিহঙ্গকাল
পালকখানি উড়িয়ে দিয়ে ভ‚ত মিশেছে ভবিষ্যতে
হাত পেতেছি বর্তমানে উপচে পড়ে তীর্থ-ভাষা
রাতবিরেতে পালের নেশা ভাসিয়ে রাখে কীর্তিনাশা।


বর্ষা
বদরুল হায়দার

সব ঋতুতেই চেখে বর্ষা নামে।

ষড়ঋতুর মেয়েরা ফর্সা চোখে
বৃষ্টি দেখে ভয় পায়।
মনের বন্যায় বহুকাল ডুবে গেছে
সোনালি সকাল।
ফুল ও কাঁটার ঘাতে নিরিবিলি
বর্ষা ভাগাভাগি করে নেয় সুখ ও অসুখে।

আষাঢ় এলেই জলের অভুক্ত
বেদনার বুক সাঁতরায় বর্ষার শ্রীঘরে।

ভাসমান বদ্বীপ সমান শত শত মুখ
জেগে ওঠে। শুধু বর্ষা ঋতুস্রাবে
ঝরে ঝরে কাঁদে।

সব ঋতুতেই চোখে বর্ষা নামে।


স্বপ্ন
শারমিন সুলতানা রীনা

যে কথাটি কেউ জানে না
আজকে তোমায় বলি
কেন আমি আনমনেতে
একলা পথে চলি।

দিনটি ছিলো বৃষ্টিমুখর
মিষ্টি হাওয়ার দোলা
স্মৃতির মণিকোঠায় আজো
ভাঁজে ভাঁজে তোলা।

ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি যখন
চুইয়ে পড়ে গায়
দাঁড়িয়ে আছে কেউ পিছনে
নীরব দুটি পায়।

চমক ভেঙে আপন মনে
তাকিয়ে যখন দেখি
হৃদয়ে যার ছবি আঁকা
দাঁড়িয়ে আছে সে কি?

হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে
উঠছে দুলে ঘর
বুকের মধ্যে এক নিমিষে
বয় যে প্রেমের ঝড়।

নিজেই তখন আকাশ হয়ে
উঠাই সোনা রোদ
এতদিনের সব অপেক্ষার
হোক না তবে শোধ।

আলো এবং ছায়ার মাঝে
হারিয়ে গেলাম যেই
উধাও হলো স্বপ্ন হঠাৎ
কোথাও যে কেউ নেই।


নদী
স্বরূপ মÐল

তোমার ঢেউ উজান ধায়
পলিতে আমার নাও

এসব কিছু হওয়ার ছিলো
জোয়ার ভাটা তোমার অধীন
সকল কিছু বিফল বাধা
তোমার যতো উলট পুরাণ
এসব কিছু হওয়ার ছিলো

মনের বিজ্ঞ ভাবতে বসেন
উপায় খোঁজেন রোগের কারণ



বর্ষাবন্দনা
ফরিদ আহমদ দুলাল

স্বপ্নের পৃথিবী ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ার নিকষ আবরণে
নিঃসঙ্গ রাতের একাকিত্ব কাঁদে আঁধারে-নির্জনে।
বৃষ্টির বিরামহীন ছাঁট জানালার আর্শিতে আঘাত করে
অস্থিরতা উচাটন থাকে একা মায়াঅন্তপুরে।
শ্রাবণধারা পবিত্র বার্তা আনে জলের ফোঁটায়
বৃষ্টিজলে আমাদের জ্বরা-অসুস্থতা ধুয়ে যায়
মৃত্তিকার হঠাৎ অসুখ প্লাবনের জলে ডোবে
বর্ষায় সরব ডোবা জেগে ওঠে ব্যাঙের উৎসবে।

বর্ষা এনেছে ব্যাঙের প্রজনন ঋতু তাই ডাকাডাকি
বৃক্ষশাখায় আশ্রয় রচনা করেছে নিরাশ্রয় যত পাখি
বিপন্ন বর্ষাতি খুঁজে নেয় হতদরিদ্র জীবন
কর্দমাক্ত পথের দুর্গতি তবুও জীবনে বর্ষা প্রয়োজন।
বাঙালির বর্ষাঋতু প্রকৃতির মায়া-উপহার
ঘামের আবাদে চাষি ঘরে তোলে শস্যের সম্ভার।



রাখালজীবন
আসাদ মান্নান

অথচ বুকের নিচে অবিরল অজস্রধারায়
এ কেমন রক্তপাত শুরু হলো অখিল নিখিলে!
অদৃশ্য নেশার স্রোতে ভেসে ভেসে কোন আস্তাবলে
ডুবন্ত প্রেমের ঘোড়া ঠাঁই নেবে চরম আশায়?

অন্তরঙ্গ বাগানের আঙ্গিনায় ফুলের উৎসবে
হঠাৎ তোমাকে দেখে মনে হলো ফুলের চেয়েও
অধিক সুন্দর মুখ নিয়ে ফুটেছে জলের ফুল;
এ ফুল কোথায় রাখি! ডালা-কুলো হারিয়ে ফেলেছি
বহু দিন আগে; জনান্তিকে নিজেকে নিজের প্রশ্নÑ
উলঙ্গ অস্থির চিত্তে পথে নামা সাজে কি আমার?
 
তবুও তোমাকে ভাবি কালিদাস যেমন ভেবেছে,
যদিও বছর জুড়ে আর কোনো সাড়াশব্দ নেই;
অরণ্যে তাকিয়ে দেখি সবুজের পাহাড় জড়িয়ে
কী নিবিড় মগ্নতায় ডুবে আছো পাতার সংসারে!
শরীরে আষাঢ় নামে নর্তকীর নাচের মুদ্রায়Ñ
সহসা বৃষ্টির গন্ধে নড়ে ওঠে স্থবির কুয়াশা:
কতটা অধরা থেকে ঘুমে এসে স্বপ্নে ধরা দেবে
চাঁদের পোশাক পরে গোলগাল ফুলের বাহারে
নিজেকে ময়ূরী সাজে যে বালিকা নিজেকে সাজায়!

বাইরে তখনও বৃষ্টি; আমি চোখ বন্ধ করে দেখি
মনের কদম ডালে ঝুলে আছে ফুল নয় এক
বর্ষামুখো নীলাম্বরা; যে জল মেঘের ঢেউ ভেঙে
নেমে আসে বুকের নদীতে, তার জন্য প্রকৃতির
চোখ জুড়ে অনিদ্রার খেয়া ঘাটে আমি বসে আছি
পাড়ি দিতে দীর্ঘ এক আগুনের নদী ‘ভালোবাসা’ :
কেউ কি এমন নেই যে আমাকে অন্ধকার থেকে
সবুজ জ্যোৎস্নার চরে এনে দেবে রাখালজীবন?



বর্ষারানী
ইউসুফ রেজা

বর্ষা প্রথম এসেছিল
বয়স তখন ষোলো
আষাঢ় মাসে ফুল ফোটাবার
সময় যখন হোলো
অন্য অনেক ভ্রমর এসে
বাধায় গÐগোলও।
ও ফুল তোমার পাপড়ি শুধু
আমার জন্য খোলো
ভ্রমর তুমি অন্য হাওয়ায়
অন্য ফুলে দোলোÑ
বর্ষার ফুল তবুও তুমি
আমায় কেন ভোলো?




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]