ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০১৯ ১২:০৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতি। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং
প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বান্দরবান : সাত দিনের টানা অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে পানি নেমে আসা সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে বৃষ্টির কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকার রাস্তা পানি নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ৪ দিনেও চালু হয়নি বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধস ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার জেলার সঙ্গে ৫টি উপজেলার আন্তঃসংযোগ সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যাইনি।

নীলফামারী : তিস্তা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে। শুক্রবার উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাটিতে তীরবেগে ধাবিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিস্তার পানি দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ ও ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট। ফলে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ও উপজেলার প্রায় ১৫টি চর গ্রাম হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

সিলেট : জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বেশিরভাগ নদ-নদীর পানির বেড়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি না থামায় শুক্রবারও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল। অব্যাহত পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও ধলাই এবং গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারির সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব পাথর কোয়ারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রবল বৃষ্টির ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। জেলা ও উপজেলা শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিভিন্ন নিচু এলাকার। এমনকি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সিলেটের অর্ধশত বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

রংপুর : প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্লাবিত হয়ে প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকাল ৩টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রায় চার হাজার পরিবার এবং কাউনিয়া উপজেলার প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পীরগাছা উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় পাঁচটি গ্রাম, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং একটি ক্লিনিক ভাঙনের মুখে পড়েছে।

গাইবান্ধা : জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা। আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তা মুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তলিয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের নিম্নাঞ্চলের বিশাল জনপদ। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্রমেই হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
শেরপুর : জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চলের কাঁচা ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধানের বীজতলা, সবজি, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

লালমনিরহাট : তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ব্যারাজ পয়েন্টে শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ২০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নদী তীরবর্তী পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সির্ন্দুনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও সদর উপজেলার খুনিয়া গাছ ও রাজপুর ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও ক্লাসে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আশংকা করছে শিক্ষার্থীরা।

কুড়িগ্রাম : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শুক্রবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬ সে.মি. ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২ সে. মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়ছে তিস্তা ও দুধকুমার নদীতেও। নদ-নদী অববাহিকার চর-দ্বীপচরগুলোতে সম্ভাব্য বন্যাবস্থায় নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ১১টি থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

কক্সবাজার : চকরিয়া ও পেকুয়ার বন্যার পানি কমে গেলেও খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার অন্তত ২ লাখ মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে এখনও পানিবন্দি রয়েছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ। রান্না করতে না পেরে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ তিনদিন ধরে অর্ধাহারে অনাহারে রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার সংগ্রহ করছে।

সুনামগঞ্জ : সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত তা কমে ৮৫ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়। তা ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৬৫ মিলিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নেত্রকোনা : জেলার সীমান্তবর্তী দূর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্লাবিত শতাধিক গ্রাম থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে এখনও অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আবার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নেমে আরও নিচু এলাকা জেলার বারহাট্রা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। বন্যার্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে এলাকার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সহকারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে দুইদিন ধরে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ উঁচুস্থানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের মাঝে শুক্রবার থেকে ত্রাণ দেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন থেকে ২০ টন চাল আর ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]