ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, চরম দুর্ভোগ রাজধানীবাসীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১০:০৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সকাল থেকে বিরামহীন বৃষ্টি। বিকালের দিকে বেরসিক বৃষ্টি একটু কমলেও, পুরো থামেনি। গোটা দিনই ছিল মেঘলা আকাশ। শেষ আষাঢ়ে বর্ষাকালের আসল রূপ দেখেছে রাজধানীবাসী। এতে ঢাকার অধিকাংশ জায়গা তলিয়ে যায়। কোথাও কোমর আবার কোথাও বা হাঁটুপানি জমে যায়। ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। অনেকেই বের হতে পারেনি ঘর থেকে। টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত সোয়া ২ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আরও দু’দিন ভারি বৃষ্টি চলবে। গতকাল সকাল গড়িয়ে বৃষ্টি দুপুরে প্রবল বর্ষায় রূপ নেয়। এতে নাকাল রাজধানীবাসী। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, শ্যামলী, রোকেয়া সরণি, মিরপুর ১০, মিরপুর ১১, কালশী, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। এসব এলাকার লোকজনকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আজিমপুর কবরস্থানের দক্ষিণ গেটের সামনে থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিতে রাস্তা ডুবে গেছে। নিউমার্কেটের সামনে পার্কিং করা প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলগুলো ডুবুডুবু অবস্থায় পড়ে। রাস্তা পারাপারের জন্য ভ্যানচালকরা নেমে পড়ে। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সামনে বঙ্গবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিস মোড় পর্যন্ত সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এ সময় পানি ঠেলে যাওয়ার সময় অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বিকল হয়ে পড়ে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীতে যানজট কম থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি আর খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পানি জমে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। রাস্তা সংস্কার ও মেট্রোরেলের মতো উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় মালিবাগ ও রোকেয়া সরণির মতো এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ অবস্থা।
অন্যদিকে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারে হাঁটুপানি জমে যায়। ভারি বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুররা সবচেয়ে বাজে অবস্থায় পড়ে। বৃষ্টির কারণে তাদের স্বাভাবিক কর্মজীবন থেমে গেছে। বেশিরভাগই খারাপ আবহাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারেনি।

আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং খুলনাসহ দেশের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়।
যাত্রাবাড়ীতে স্রোতে ভেসেছে শত শত মিষ্টিকুমড়া : অন্যদিকে তীব্র পানির স্রোত সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়তের সামনে। সেখানে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে শত শত মিষ্টিকুমড়া। ভেসে যাওয়া কুমড়া উদ্ধারে পিছু পিছু ছুটেছে কয়েকজন নারী ও পুরুষ। অদূর থেকে উচ্চ কণ্ঠে কয়েক যুবক চিৎকার করে বলেছে, ‘হায় হায় রে, আহেন দেইখ্যা যান, যাত্রাবাড়ীতে ’৮৮ সালের বন্যা।’

শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়তের সামনে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। রাজধানীর অন্যতম কাঁচামালের এই আড়তে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূলের বেচাকেনা চলে। আড়তের ভেতর ছাড়াও বাইরে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে রাখা হয়। গতকাল মুষলধারে বৃষ্টিতে মূল সড়কের উত্তর পাশে অপেক্ষাকৃত একটু নিচু স্থানে অবস্থিত এই আড়তে বৃষ্টিতে পানি জমতে থাকে। এক পর্যায়ে পানি নেমে যাওয়ার সময় প্রবল স্রোত আড়তের বাইরে থাকা কুমড়া ও বিভিন্ন কাঁচা পণ্যসামগ্রী ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। বৃষ্টিতে ভিজেই এ সময় ব্যবসায়ীদের মালামাল পানি থেকে উদ্ধার করে আড়তের ভেতর নিয়ে যেতে দেখা যায়। অনেকেই এই বৃষ্টিকে ১৯৮৮ সালের বন্যার সঙ্গে তুলনা করেন।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]