ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আ.লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী
গণতান্ত্রিক ধারা থাকলে কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০১৯ ১২:১৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

গণতান্ত্রিক ধারা থাকলে কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে

গণতান্ত্রিক ধারা থাকলে কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। তারা নিশ্বাস নিতে পারে না। আজ আমরা দেশটাকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছি। এর মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন। সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করতে আরও জনমত সৃষ্টি করতে হবে। যেন আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। গতকাল বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকাল ৪টা-৬টা পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ ও ৬টা-৭টা পর্যন্ত কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

দেশের অগ্রগতিকে যারা অস্বীকার করেন, ভিত্তিহীন সমালোচনা করেন তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশে কিছু লোক থাকে যাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই, সবসময় এটাকে ভিন্ন চোখে দেখা কিছু লোকের অভ্যাস। তারা আসলে কখনও গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের যেন দম হওয়ার উপক্রম হয়। এমন একটা ভাব তাদের। তাদের কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। আমরা অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা এই নীতি নিয়ে আমরা কাজ করি বলেই আজ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম।

তিনি বলেন, এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদীভাঙন হতে পারে বা পাহাড়ে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারা দেশে কোথায় কী ঘটছে খবর নিচ্ছি এবং সেখানে যার যা দায়িত্ব সেটা দেওয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে যার যা দায়িত্ব সেটা পালন করে যাচ্ছে। এখানে কোনো শৈথিল্য নেই। কারণ তাদের সব কাজের মেসেজ আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হয়।
দুর্যোগ মোকাবেলায় বিএনপি সরকারের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ’৯১-এর ঘূর্ণিঝড়, তখন তো বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে। পার্লামেন্টে যখন আমি বললাম, এতবড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিলো, ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরে নাই।’ তখন আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম যে, ‘কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন’Ñ এ ছাড়া বলার মতো কিছু ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবেও জনগণের পাশে থাকে। অতীতেও ছিল।

আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারাটা কিন্তু ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি, আবার হঠাৎ করেও লাফ দেইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে দেশটাকে ধাপে ধাপে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা আরও সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই। সে পরিকল্পনা আমাদের আছে।
উন্নয়নের এই যাত্রাপথের নানা বাধা-বিপত্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এই চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাধা, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন ও নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে; আজকে বাংলাদেশটাকে আমরা সরকার গঠন করে এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি; সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ, তাদের সমর্থন। অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমত ছিল। সেজন্যই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। তিনি বলেন, উন্নয়নে সফলতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সরকার গঠনের আগে আওয়ামী লীগের কিছু পরিকল্পনা ছিল দেশকে নিয়ে।

সে কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নিজেদের একটা চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা ছিল। আমরা সরকারে এলে কী করব? কোথায় যাব? সেগুলোর সবকিছু মোটামুটি একটা তৈরি করা ছিল বলেই আমরা সরকারে আসার পর আমাদের কাজগুলো করতে পেরেছি। যে কারণে দেশটা আজকে এতদূরে আনতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব? সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা ও জনমত সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। এজন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, উপদেষ্টারা আমাদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্কের’ মতো। আপনাদের সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। আমাদের বিভিন্ন উপ-কমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং-সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]