ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল ক্রেতা
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০১৯ ১২:১৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল ক্রেতা

পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল ক্রেতা

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল হতে হচ্ছে ক্রেতাদের। মাত্র দিনদশেকের ব্যবধানে নিত্যব্যবহৃত পণ্যটির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ২৫-৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ৫০-টাকায়। পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় কষ্ট বেড়েছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলছে, ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কেন এত বাড়ল, তা জানতে পেঁয়াজ আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহেই ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ জানতে এবং দাম কমানোর জন্য কী করা যায় সেসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার জন্যই তাদের ডাকা হবে। চলতি সপ্তাহের যেকোনো এক দিন তাদের সঙ্গে বৈঠক হবে।

বাণিজ্য সচিব আরও জানান, চাহিদার তুলনায় দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়। এ কারণে প্রতিবছরই মূলত ভারত থেকে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি, ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব হয়তো আমাদের দেশের বাজারেও পড়েছে। তবে দাম যাতে আরও না বাড়ে তার জন্য সরকার ভারতের পাশাপাশি চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫-৩০, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০, চায়না রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা করে। দোকানিরা বলছে, স্থানীয় বাজারে মজুদ সংকটের পাশাপাশি আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীতে মরিচের সরবরাহ কমেছে। এ কারণে মরিচ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।

কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায়। এ ছাড়া চায়না রসুন কেজিপ্রতি ১৬০, দেশি রসুন ১১০, আদা ১৪০, আলু ২০ ও মসুর ডাল (দেশি) বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা গত সপ্তাহে পাইকারি মোকামে পেঁয়াজ ও রসুন যা কিনেছি তিন দিন ধরে আমাদের অনেক বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। হঠাৎ করে দেশি পেঁয়াজ ও আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা বেশি দামে কিনছি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সামনে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম আরও বাড়বে।

বাজারে পণ্যের দাম কেমন এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার কাঁচা বাজারে কথা হয় বাজার করতে আসা চাকরিজীবী হুমায়রা হিমুর সঙ্গে। তিনি বলেন, আজ বাজারে প্রায় সবকিছুর দাম বেশি। এখানে আমরা দিন দিন অসহায় হয়ে পড়ছি। আমাদের যেন কিছুই করার নেই। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও বেগুন সবকিছুর দাম বেড়েছে। এত দাম বাড়লে আমরা কীভাবে বেঁচে থাকব। এই শহর যেন আমাদের জন্য দিন দিন অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

অন্যদিকে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কাঁচা বাজারে। কাঁচামরিচসহ বেশকিছু সবজির দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচামরিচে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম ৪০ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এ ছাড়া শসা ১০ টাকা বেড়ে ৭০, কুমড়া ১০ টাকা বেড়ে ৩০, পটোল ১০ টাকা বেড়ে ৪০, বেগুন ২০ টাকা বেড়ে ৬০, পুঁইশাক ২০, পেঁপে ৫ টাকা বেড়ে ২৫, টমেটো ১০ টাকা বেড়ে ৮০, ১৫ টাকা হালির কাঁচকলা বেড়ে হয়েছে ৩০ ও বরবটি ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

চড়া রয়েছে মাছের দামও। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০, পাঙাশ ৫০ টাকা বেড়ে ২০০, রুই মাছ ২৮০-৪০০, পাবদা ৫০০, টেংরা ৭০০ ও শিং ৫০০-৬০০ টাকা করে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংস, ব্রয়লার ও পাকিস্তানি কক মুরগির দাম। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫০, ব্রয়লার ১৩০ ও পাকিস্তানি মুরগি ২৪০ টাকায়।
অপরিবর্তিত রয়েছে চালের বাজার। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির চাল বিভিন্ন দরে বিক্রি হচ্ছে। রশিদ মিনিকেট (৫০ কেজি) ২৫৬০, এলসি মিনিকেট (২৫ কেজি) ২৫৪০, নাবিল মিনিকেট (৫০ কেজি) ২৫০০, মোজাম্মেল মিনিকেট (৫০ কেজি) ২৫৫০, সাকি-২৮ (৫০ কেজি) ১৯৮০, নূরজাহান পাইজাম (৫০ কেজি) ১৭৩০, দাদা-২৮ (৫০ কেজি) ১৮০০ ও শ্যামলী-২৮ (৫০ কেজি) ১৯০০ টাকা। এ ছাড়া তীর ময়দা ৫০ কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০০ টাকায়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]