ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯ ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা
বিদ্রোহী প্রার্থী ও মদদদাতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আ.লীগের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ১০:৫৯ পিএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১১:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ছবি পিআইডি

ছবি পিআইডি

দলীয় পদে থেকে বিগত উপজেলা নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তারা পদ হারাচ্ছেন। শিগগিরই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। বিদ্রোহের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারলে দল থেকেও বহিষ্কার হবেন। আর যেসব মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতা দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওই নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ইস্যুটি উত্থাপন করলে পুরো বৈঠক জুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্য শেষে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মোহাম্মদ নাসিম।

সাংগঠনিক প্রতিবেদনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের নাম ও তাদের অপরাধের মাত্রার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন ছাড়াও দলের ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তাদের বিষয়েও উল্লেখ আছে প্রতিবেদনে।

সম্পাদকমণ্ডলীর দুইজন নেতা শেখ হাসিনার উদ্বৃতি দিয়ে জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইন্ধন ও মদদ দিয়েছেন তাদেরকে সাসপেন্ড (বহিষ্কার) করা হবে। তবে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তাদের শোকজ (কারণ দর্শানো) করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে ওই নেতারা আরও বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দলীয় নেতাদের কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা না থাকলে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে পেছনে হাঁটতে হবে বলে শেখ হাসিনা বৈঠকে উল্লেখ করেন।

সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সকলকেই সাসপেন্ডের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী-এমপি বলে তাদেরকে ক্ষমা করা যায় কী না-বৈঠকে এই প্রশ্ন উঠে আসলে শেখ হাসিনা বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে সে যত বড় নেতাই হোক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে। এখানে কে মন্ত্রী, কে বড় নেতা, কে প্রভাবশালী, কে সংসদ সদস্য সেটা দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান দলীয় সভাপতি।

কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘শোকজের উত্তর পাওয়ার পরে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া সাংগঠনকে শক্তিশালী করতে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি। শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠন থাকলে সব থাকবে। সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়লে সব কিছু থেকে পিছিয়ে যেতে হবে।’

এই আলোচনা শেষে আসছে শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উদযাপন, ৮ আগস্ট শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উদযাপন, ১৫ আগস্ট শোকদিবস পালন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ, ২৪ আগস্ট নারীনেত্রী বেগম আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি দলের অঙ্গ-সংগঠনগুলোকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে শোকের মাসের কর্মসূচি পালনের বিষয়েও নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]