ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

এভাবেও ফিরে আসা যায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০১৯ ১২:১৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

এভাবেও ফিরে আসা যায়

এভাবেও ফিরে আসা যায়

অস্ট্রেলিয়াকে বৃহস্পতিবার রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ইংলিশ অধিনায়ক উইয়ন মরগান হয়তো ভাবছেন চার বছর আগে যদি বলতাম, পরের বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলবে আমার দল ইংল্যান্ড, তা সত্যিই হাস্যকর শোনাত। এরপর ইংল্যান্ড হতো সব কৌতুকের পাঞ্চ-লাইন! মরগানরা মুখে বলেননি, কাজে করে দেখিয়েছেন। দেখিয়েছেন নৈরাশ্যবাদীদের একটা দল কীভাবে রাহুমুক্ত হলো, লিখল নাটকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। ধরাধামের ক্রিকেট খেলুড়ে সব দেশকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এভাবেও ফিরে আসা যায়।

অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছিল চরম ব্যর্থ। গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল মরগানের দল। চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশের কাছে হেরে আগেভাগেই দেশে ফিরেছিল তারা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট হয়েছিল ক্রিকেটের জনক দেশটি, ১২.২ ওভারেই ওই রান টপকে গিয়েছিল প্রতিপক্ষ। শ্রীলঙ্কাকে ৩১০ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েও ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও লড়াই গড়তে পারেনি তারা, বাংলাদেশের কাছে হেরেছিল শেষবেলায় পথ হারিয়ে।

ওই বিশ্বকাপে ক্রিকেটের বনেদি দলগুলোর সবাই যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে জায়গা করে নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে, ব্যতিক্রম ইংল্যান্ড সেখানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল স্কটল্যান্ড আর আফগানিস্তান ছাড়া আর কোনো দলকেই হারাতে পারেনি। সব মিলে আসরটা তাই ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সব থেকে হতাশার অতীত হয়ে আছে। আবার ওই হতাশার অতীতই ক্রিকেটের জনকদের দিয়েছে নতুন করে জেগে ওঠার তাগিদ। তারা জেগে উঠেছেও। নিজেদের বদলে ফেলেছে আপাদমস্তক।

নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তোলে ক্রিকেট মাঠে গর্জন আর অর্জনে ইংল্যান্ডবাসীদের আনন্দে মাতাচ্ছে মরগানের দল। তারা এখন ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে রোববারের সেই ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। সেই নিউজিল্যান্ড, ২৭ বছর আগে যাদের হারিয়েই শেষবারের মতো ফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড। যদিও শিরোপা জয়ের আজন্ম আক্ষেপ সেবারও ঘুচেনি। তবে ঘরের মাঠে এবার ঘুচবে মরগান ব্রিগেডকে নিয়ে এমন আশায়ই বুক বেঁধেছে ইংলিশরা।

২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলের অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব পাওয়া মরগান তার কৌশলি নেতৃত্বে মাঠে বদলে দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর কোচ হয়ে আসা ট্রেভর বেলিস কাজ করে গেছেন পেছন থেকে। এক ঝাঁক সাহসী ক্রিকেটারকে সামনে তুলে আনার কৃতিত্বটা এই অস্ট্রেলিয়ানেরই। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড হয়ে ওঠে দুর্বার। শিষ্যদের প্রতি তার পরামর্শ ছিল খোলসবন্দি হয়ে থেক না, যখন চাপে পড়বে তখন নিজেদের বিকশিত করতে আরও বেশি শট খেলবে!

জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, বেন স্টোকসরা সেই মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়েই হামলে পড়তেন প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর। একটা সময় ওয়ানডেতে যে দলটা ২৫০ থেকে ২৮০ রান করাটাকেই যথেষ্ট মনে করত, নিজেদের ভাবনায় বদল এনে সেই দলটিই ম্যাচের পর ম্যাচ রানোৎসব করছে। শীর্ষ ক্রিকেটারদের আইপিএলসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে খেলার সুযোগ করে দিয়ে ইসিবির ক্রিকেট পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসও ইংল্যান্ডের এই বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু করে ঘরের মাঠে এই বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে ওয়ানডেতে দুবার সর্বোচ্চ দলীয় রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৪৪, এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮১। মরগানের দল বুঝিয়ে দিয়েছে ওয়ানডেতে ৫০০ রানও এখন আর অসম্ভব নয়। বিবিসিকে মরগান বলেছেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপ, সেখান থেকেই বড় পরিবর্তনটা এসেছে, দলীয় স্কোর যতটা সম্ভব বড় করার। গড়ে ৩০০ থেকে ৩৩০ রান উঠছে এবং এর মানে হচ্ছে সবার মাসকিতাতেই বড়সড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।’

২০১৭ সালে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থ হওয়া, এরপর স্টোকস-হেলসের অনাকাঙ্খিত  কান্ডে জড়িয়ে পড়া; কোনোকিছুই ইংল্যান্ডের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে পারেনি। চলতি বিশ্বকাপের মাঝপথের ছন্দপতনটাও ‘বদলে যাওয়া ইংল্যান্ড’ সামলে উঠেছে অদম্য মানসিকতা দিয়েই। একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙছে দলটি। তবে বিশ্বকাপটা এখনও অধরা। আগেও তিনবার ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ড, প্রতিবারই হারের হতাশা নিয়ে শেষ করতে হয়েছে। এবার আর তেমনটা চায় না মরগানের দল। শেষটা রাঙাতে মরিয়া হয়ে আছে স্বাগতিকরা।

বিশ্বকাপে ১৯৯২ থেকে যে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের সামনে হয়ে উঠেছিল অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল, বৃহস্পতিবার সেই দেওয়াল গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠার পর অধিনায়ক মরগান বলেছেন, শিরোপা জিততে যা যা প্রয়োজন সবই করবে তার দল, ‘এটা একটা সুযোগ, অনেক বড় সুযোগ এটা। ফিরে তাকিয়ে দেখি, ২০১৫ সালে আমরা কোথায় ছিলাম। এই উন্নতিটা আসলেই নাটকীয়। ড্রেসিং রুমের সবাই এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। আমরা সুযোগগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার করতে চাই।’
রোববারের ফাইনালে মরগানের দল নিজেদের চাওয়া পূরণ করতে পারলে ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ গল্পটাও পরিপূর্ণ রূপ পাবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]