ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

শীর্ষ ঋণখেলাপিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
তারা জবাবদিহিতার বাইরে কেন?
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১১:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের অর্থনীতির জন্য বিপদসংকেত খেলাপি ঋণ। সরকারের নানা সাফল্যকে মøান করে দিচ্ছে ব্যাংকিং খাতের এই কালো দাগ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংক খাতে দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট। সরকারি-বেসরকারি কিংবা বিদেশি সব খাতের ব্যাংক থেকে তাদের নেওয়া ঋণ খেলাপি হওয়ার পরিমাণ দিন দিন শুধু বাড়ছেই। অথচ আদায় হচ্ছে না খেলাপি ঋণ। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করেছেন। তারপরও কোনোভাবেই ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায় হচ্ছে না। দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের অনেক ব্যাংকই আমানতের বিপরীতের ঋণ দিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছে। বর্তমানে অনেক ব্যাংক নগদ টাকার তীব্র সংকটে পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের প্রভাবে মূলধন ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি ব্যাংক। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের ১৮ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও বিশেষায়িত খাতের ছয়টি, বেসরকারি খাতের তিনটি ও বিদেশি একটি ব্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৪০ শতাংশই রয়েছে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সিআইবির (ঋণ তথ্য ব্যুরো) প্রকাশিত তালিকায়, ১০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান ১৭৭টি। এই তালিকায় রয়েছে দেশের বহুল সমালোচিত হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, ক্রিসেন্ট, এননটেক্স ও এসএ গ্রæপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত সাব স্ট্যান্ডার্ড ১০ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বাদে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৬৮ কোটি টাকা। অবলোপন করা খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এসব খেলাপি ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে শীর্ষ ১৭৭ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছে। খেলাপি ঋণের প্রতিষ্ঠানের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে এর বাইরে আরও রাঘববোয়াল রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণ আদায়ে উদ্যোগী হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, যা ছিল আমাদের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। এমনকি ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে দ্রæত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কথাও জানিয়েছিলেন, যা ছিল খুবই আশাব্যঞ্জক। অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘ব্যাংকের টাকা জনগণের, এ টাকা নিলে ফেরত দিতে হবে। দেশের জনগণের টাকা বেহাত হোক বা ফেরত না আসুক, এটি চাইতে পারি না। সরকারি বা বেসরকারি যে ব্যাংক থেকেই ঋণ নেওয়া হোক না কেন, ঋণের অর্থ ফেরত দিতে হবে।’ খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থমন্ত্রীর এ রকম দৃঢ় অবস্থানের মাঝেও আমরা এখনও এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ দেখতে পাইনি, যা প্রকারান্তরে ঋণখেলাপিদেরই উৎসাহিত করছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং সমৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র আমাদের উল্লসিত করলেও আমাদের সব উচ্ছ¡াস থেমে যায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্ক দেখলে। এ বিষয়ে সবাই সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। অথচ ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। খেলাপি ঋণ আদায়ে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। অস্বীকার করার উপায় নেই, ঋণখেলাপিদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত না করতে পারায় অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণখেলাপির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হবে। আর এ কাজটি সম্পন্ন করতে হলে প্রথমেই ঋণখেলাপিসহ ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে অর্থঋণ আদালতে ব্যাংকগুলোর করা মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনে স্পেশাল বেঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]