ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

সময়ের জানালা
ধর্ষণের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন
আসমা সুলতানা
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১১:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সব কিছু দেখেশুনে শুধু হতাশই হতে হয়। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে দেশে। শিশু-কিশোর-শিক্ষার্থীরাও ধর্ষণের শিকার! ঘরের বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখন নিরাপদ নয়। ঘরও এখন যেন নিরাপদ নয় শিশুদের জন্য। রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের শিশু সায়মা প্রতিদিনের মতো খেলতে গিয়েছিল। সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, শিশুটিকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে আশরাফুল আরিফ নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। ওই শিক্ষককে মদদ দেওয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষককেও আটক করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জেই ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পার্বতীপুর পৌর মেয়রসহ ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার সব আসামির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছে। ধর্ষণ এক জঘন্য অপরাধ। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের সারাটি জীবন অন্তহীন মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়েও নতুন করে নির্যাতিত হতে হয়। যেমন ঘটেছিল নুসরাত জাহান রাফির ক্ষেত্রে। তেমন ঘটনারই পুনরাবৃত্তি যেন ঘটল কুষ্টিয়ার খোকসায়। সেখানে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চার দিন পর গ্রাম্য সালিশে কয়েকশ লোকের সামনে মেয়েটির কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনা হয়েছে। এ সময় তাকে নানা প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়। একটি মহল সালিশের ভিডিও করে এলাকায় মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয়। এ কোন সমাজ আমাদের? প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ মামলায় অপরাধীর সাজা হয়। আইনে দ্রæত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিচার পেতে ভিকটিমকে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিচার না হওয়া কিংবা বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কি অপরাধীদের উৎসাহিত করছে? আমরা চাই ধর্ষণের সব মামলার বিচার দ্রæততম সময়ে করা হোক। দÐ কার্যকর করা হোক দ্রæততম সময়ে। তবে সমাজ থেকে সব অনাচার দূর করার ব্যবস্থাও নিতে হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]