ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

সময়ের জানালা
অস্থির সমাজকে স্থির করবে কে?
সাঈদ চৌধুরী
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১১:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় একজনের কোপে নিহত হয়েছেন তিনজন এবং আরও চারজন গুরুতর আহত! মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রী অপহৃত হয়েছে ১০ জুলাই। ছোট্ট শিশু ধর্ষণ, পারিবারিক কলহ, জনসমক্ষে খুন, ছিনতাই সবকিছু মিলেই কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছে সব! কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে চারদিকে ভাবা যায় না। স্কুল, কলেজ বা যেকোনো বিদ্যালয়ে পড়েও নৈতিক শিক্ষার কোনো কিচ্ছুই হচ্ছে না। ঘটনার ভেতরে ঢুকলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অযথা কারণেই ঘটে যাচ্ছে বড় বড় দুর্ঘটনা। কেউ কিছু বোঝার আগেই খড়গ নেমে আসছে একেকজন মানুষের জীবনে।
সময় এসেছে এসব পরিবর্তন নিয়ে ভাবার। সামাজিক অপরাধ বাড়ার এখন শীর্ষ পর্যায় বলা যেতে পারে। এখান থেকে মানুষকে ফেরাতে হবে।  নৈতিক শিক্ষার বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। যে যেভাবে শিখতে চায় তাকে শিক্ষাটা সেভাবেই দিতে হবে। সন্তানকে অনেকেই স্কুলে পাঠায় কিন্তু সন্তান জানেই না কেন সে স্কুলে যাচ্ছে। স্কুলে পড়লে শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় না এর সঙ্গে হওয়া যায়
ভালো মানুষও।
মানুষ হওয়ার সঠিক চিন্তাটা সন্তানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিন। তাকে জানান বিদ্যালয় মানে শুধু পেশা গ্রহণের পূর্বপ্রস্তুতি নয়। বিদ্যালয়ে যাওয়া মানে একটি নিয়মের মাধ্যমে চলা, বিদ্যালয়ে যাওয়া মানে অনেক মানুষকে সমান করা, তাদের সঙ্গে মার্জিত
আচরণ করা।
আমাদের দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে ক্লাসে পাঠদান হয় খুব কম সময়। সারা বছর পরীক্ষা আর অনুষ্ঠানেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ছুটির কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, এ বিষয়গুলোতে প্রশাসনিকভাবে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা প্রদানের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মানবিক আচরণ শেখানোর জন্য সন্তানের সঙ্গে মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে বারবার কথা বলুন। তাদের চেয়ে নিচের স্তরের মানুষ কেমন আছে তাদের কথা সন্তানের কাছে বলুন। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সন্তানদের নিয়ে বিকালে বা সন্ধ্যার পর বাইরে বের হয়ে সমাজের প্রতিটি উপাদান সম্পর্কে কথা বলুন। পরিবার থেকে যে নীতি কথা শেখা এটাই হলো আসল অর্জন। শিশুদের সহিংসতা থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
সমাজে বিশৃঙ্খল মানুষ কমিয়ে আনার জন্য কঠোর বিচারের পাশাপাশি মসজিদের খুতবার আলোচনায় সামাজিক অপরাধগুলোর বিষয়ে বয়ানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে দ্রæত। প্রতিটি এলাকায় তাদের ভালো কাজগুলোকে ছড়াতে হবে। সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কাজটি করতে পারে। তারা নিজেরা সমাজের কল্যাণের জন্য সেচ্ছাসেবী সংগঠন করে দিতে পারে। বিষয়টি এমন নয় যে, একটি সংগঠনের জন্য আবেদন করা হলো তারপর তা অনুমোদন দেওয়া হলো। বিষয়টি হতে হবে সমাজকল্যাণ অধিদফতরগুলো থেকে স্কুল ও কলেজের ভালো ভালো নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেমেয়ে দিয়ে প্রত্যেক এলাকায় একটি করে সংগঠন করে দেওয়া। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে আসবে নেশা থেকে মুক্তির কথা, তারা কাজ করবে সত্য উদঘাটনে তারা কাজ করবে মানবিক বোধ উন্নয়নে। সমাজ নিয়ে কোনো ভাবনাই কাজে দিচ্ছে না। যা চিন্তাও করা যায় না
সেগুলোই ঘটছে স্পষ্ট।
একজন রিকশাচালক যে কুপিয়ে হত্যা করেছে তিনজনকে। কী ভয়ানক লোকের বসবাস আমাদের চারপাশে! ছোট্ট শিশুকে খেলার ছলে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করল সে ফ্ল্যাটেরই একজন! আসলে আমরা যখন মনে করি, আমাদের উন্নতি হচ্ছে তখন আমরা ভুলে যাচ্ছি উন্নতির সঙ্গে সমসাময়িকভাবে আর কী কী কাজ আমাদের করা প্রয়োজন। অবকাঠামো উন্নয়নে যে এসডিজির কথা বলা হয় সেখানে সাসটেইনেবল মানসিকতা উন্নয়নের বিষয়গুলোও যুক্ত করতে হবে।
এখনকার এই অস্থির সময়গুলো স্থিরকরণে অনেকগুলো কাজকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। নীতিবোধ যেমনি জাগ্রত করতে হবে তেমনি আইনকে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের সচেতন হতে হবে শিশুদের নিয়ে। কিশোর অপরাধ কমাতে উদ্যোগী হতে হবে মা-বাবারই। ছোট বয়সে যদি সন্তানদের সঠিক পথে রাখা যায় তবেই শুধু সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কমন কথাগুলো যতটা কমন আসলে ততটা সহজ কাজ নয়। কাজগুলোকে সহজ করার জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই পারে সুন্দর কিছু উপহার দিতে। আসুন দেশটার জন্য ভাবি, কাজ করি দেশের জন্য। অস্থির সমাজকে স্থিরকরণে মূল্যবোধের শিক্ষার আলোর গাছ বুনি আর সে আলো ছড়িয়ে দেই প্রতিটি ঘরে ঘরে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]