ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

সময়ের জানালা
এই ধর্ষণ উপত্যকা আমার নয়
সেলিম আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১১:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণ। প্রতিদিন কাগজের পাতা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলেন আর টিভির পর্দাই বলেন, ঢু মারলেই চোখের সামনে ভাসে ধর্ষণের খবর। দেশে চরম বললে ভুল হবে মহাচরম আকারে বাড়ছে ধর্ষণ। ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধা, কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের কবল থেকে। ভোট না দেওয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রীকে ধর্ষণ, চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, প্রেমিকাকে ধর্ষণ, ভাবিকে ধর্ষণ, বø্যাকমেইল করে ধর্ষণ, যাত্রীকে ধর্ষণ, চারদিকে শুধু ধর্ষণ, ধর্ষণ, ধর্ষণ। একেকটি ধর্ষণের সংবাদ পড়লে গা শিউরে ওঠে। নাড়া দেয় বিবেককে।
এ নিয়ে মনের অনুভ‚তিগুলো বেশ কয়েকদিন লিখব বলে কম্পিউটারে বসি। কিন্তু লিখতে গেলে কি বোর্ডে হাত চলে না। চিন্তা করি, কী হবে এসব লিখে? কে পড়বে আমার লেখা? আমার লেখাপড়েতো আর জাগ্রত হবে না নরপশুদের বিবেক। তারপর আবার চিন্তা করি, নিজ অবস্থান থেকে আমাকেই রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ আমার বোন আছে, আমার মা আছে। তারাতো নিরাপদ নয় এই নষ্ট সমাজে। আজ যদি আমি রুখে না দাঁড়াই তাহলে তার খেসারত দিতে হবে আমার বোনকেও। ছোট্ট শিশু থেকে শতবর্ষী নারী কেউই রক্ষা পাচ্ছে না নরপশুদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে।
ধর্ষণের পর বর্বরভাবে হত্যা করা হচ্ছে। গ্রামের অক্ষরজ্ঞানহীন কৃষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হুজুর কারও কাছেই নিরাপদ নয় নারী। নিজ ঘরে, বাইরে এমনকি মজসিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজ কোথাও নিরাপত্তা বোধ করতে পারে না নারীরা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৩৯৯ জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মোট ১৬ জন শিশু মারা গেছে। ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৪০৮টি সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এই তথ্য পেয়েছে।
অপরদিকে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের হত্যা ও নির্যাতনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে ৮৯৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে যৌন হয়রানিসহ নানা কারণে ১০৪ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, ৪০ জন আত্মহত্যা করেছে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৯ জন শিশু। গত দুই সপ্তাহে দেশে কমপক্ষে ১৫টি যৌন অপরাধ ঘটেছে যার বেশিরভাগ ঘটনার শিকার শিশুরা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩১ জন। গণধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যাসহ অন্যান্য নির্যাতনের হারও ছিল অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।
এসব ধর্ষণের খবর উঠে এসেছে পত্রিকার পাতায় কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ পর্যন্ত। কিন্তু আরও অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা শুধু ধর্ষকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দাপটের জোরে প্রকাশিত হয় না। ধর্ষণের মামলা হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। পৃথিবীর নানা দেশে ধর্ষণের নানা মাত্রার শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে দেখা যাচ্ছে যে, যেসব দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদÐÑ সেসব দেশে ধর্ষণের হার অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি সুনির্দিষ্ট নয় এবং ধর্ষিতাকে হত্যা করা না হলে মৃত্যুদÐের বিধানও নেই। ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ বন্ধ করতে হলে অবশ্যই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান চালু করা দরকার। আসুন সবাই নিজের বোনের, নিজের মেয়ের, স্ত্রী কিংবা মায়ের নিরাপত্তার জন্য এক কাতারে দাঁড়াই। রুখে দাঁড়াই ধর্ষণের বিরুদ্ধে। কারণ এ ধর্ষণের উপত্যকা আমার বাংলাদেশ নয়।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]