ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

 অন্তরে নেফাক সৃষ্টি করে যে কাজ
এহসান বিন মুজাহির
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৭.২০১৯ ১১:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 100

ইসলামের দৃষ্টিতে গান-বাদ্য হারাম। গান-গাওয়া এবং শোনা উভয়টিই কবিরা গুনাহ। গান-বাদ্য মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে এবং পাপাচার কাজে প্রেরণা যোগায়। রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন- ‘এক শ্রেণির লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং কোরআন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (সুরা লুকমান : ৬)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-‘গানবাদ্য শ্রবণ করা কবিরা গুনাহ এবং গানের অনুষ্ঠানে বসা ফাসেকি আর এর দ্বারা আনন্দানুভব করা কুফরি।’ (আবু দাউদ : ৬৭৪)
পৃথিবীর শেষ সময়ে অর্থাৎ কেয়ামতের আগ দিয়ে মানুষের মাঝে গান-বাজনা, ব্যভিচার-ধর্ষণ ইত্যাদি ব্যাপকতা লাভ করবে এবং তা মানুষের মাঝে প্রিয় ও পবিত্র হয়ে উঠবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মাঝে এমন কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।’ (বুখারি : ৮৩)। রাসুল (সা.) গান-বাজনা খুব ঘৃণা করতেন। সাহাবায়ে কেরামও সর্বদা গানের আসর এড়িয়ে চলতেন। হজরত নাফে (রা.) বলেন, ‘আমি একদা হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সঙ্গে পথ চলছিলাম। তখন তিনি বাঁশির শব্দ শুনলে তার আঙুলদ্বয় কর্ণদ্বয়ে স্থাপন করলেন এবং রাস্তা ত্যাগ করে অন্য রাস্তায় অগ্রসর হলেন। কিছু দূরে গিয়ে বলেনÑ হে নাফে! তুমি কিছু শুনতে পাচ্ছ কি? আমি বললাম জ্বী না। তখন তিনি আঙুলদ্বয় কান থেকে সরালেন। অতঃপর বলেন, আমি একদা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন বাঁশির শব্দ শুনতে পেয়ে আমি যেমন করলাম তিনিও ঠিক তদ্রƒপ করেছিলেন।’ (আবু দাউদ: ৬৭৪)
যারা গান-বাজনা করে ও শ্রবণ করে তাদের প্রতি রাসুল (সা.) শক্ত অভিশাপ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘গায়ক ও গান শ্রবণকারীর ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (তিরমিজি : ৯৪২)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘গান মানব অন্তরে নিফাক ও কপটতা সৃষ্টি করে; যেমন পানি রবিশষ্য উৎপাদন করে।’ (রুহুল মাআনি: ৭/৬৮)। যারা বেশি বেশি গান শ্রবণ করে তাদের অন্তরে কপটতা সৃষ্টি হয়। সুতরাং অন্তরকে কোমল ও পবিত্র রাখতে গান-বাজনা এড়িয়ে চলা।
গান গাওয়া ও শ্রবণে কোনো কল্যাণ নেই। এতে অন্তর কলুষিত হয়, মানুষের মধ্যে বিষাদ ও অবসাদ তৈরি এবং এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতিই ত্বরান্বিত হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেনÑ ‘নিশ্চয় এই উম্মত যখন মদ পান করবে, গায়িকা দ্বারা গানের আয়োজন করবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে তখন তারা ভ‚মিধস, উৎক্ষেপণ ও বিকৃতি সাধনের শিকার হবে।’ (রুহুল মাআনি : ৭/৭৬)। তাই আমাদের কর্তব্য দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও অভিশাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং পাপের এই আয়োজন নির্মূল করতে সচেষ্ট হওয়া। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘আমরা বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।’ (আবু দাউদ : ৬৭৪)

লেখক : প্রিন্সিপাল, শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল
স্কুল, মৌলভীবাজার






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]