ই-পেপার রোববার ২১ জুলাই ২০১৯ ৬ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২১ জুলাই ২০১৯

সর্বাধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে চুয়াডাঙ্গাকে
মাহফুজ মামুন চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন বলেছেন, দেশের সর্বাধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে চুয়াডাঙ্গাকে। জেলাবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় পৌঁছে দিতে চাই আমার পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমের ছোঁয়া। জেলা পরিষদ যে একটি সক্রিয় প্রতিষ্ঠান সে ভাবমূর্তি আমি প্রতিষ্ঠা করতে চাই সামগ্রিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। আমি চাই জেলা পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ আমাকে রাজনীতিতে আসতে পথ দেখিয়েছে। ১৯৬৭ সালে আমি চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা করতাম। সে সময় কলেজের বড়ভাইদের সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে রাজনৈতিক জীবনে খুব কাছ থেকে দেখা ও মেশার সুযোগ পেয়েছি। কলেজ শেষ করে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে ভর্তি হই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে আমার একটা আত্মিক সম্পর্ক হয়ে যায়। কয়েক মাস পর কেন্দ্রীয় নেতাদের মন জয় করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাই। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কাজে পুরোপুরি সক্রিয় হই। বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জেলায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছে আমার নিবিড় সম্পর্ক। নেতাকর্মীরা আমাকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য বলেন। তাদের নিরাশ না করে বললাম, তোমরা যদি আমার সঙ্গে থাকো তাহলে নির্বাচন করব। ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হই। চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া রাজনীতির পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছি। আমি রাজবাড়ী জুট মিল ও বাংলাদেশ হ্যাচারির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া জুট স্পিনিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও এফবিবিসিআইর জিবি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ সামসুল আবেদীন খোকন বলেন, আমার সঙ্গে রয়েছেন ২০ জন সদস্য। আমি এদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে জেলায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছি। এটি জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিচালিত একটি বিশাল উন্নয়ন কার্যক্রম। এ ছাড়া ১৪০টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, মন্দির, শ্মশান, শহীদ মিনার ও পাঠাগারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজস্ব ও এডিপির খাত থেকে ৩টি অর্থবছরে প্রায় ২২ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়। অনেক উন্নয়নমূলক কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় আড়াই বছরে ৯৩১টি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনও উন্নয়ন কার্যক্রম বাকি রয়েছে সেগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।
জেলা পরিষদ নিয়ে গৃহীত পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি ১০ তলা মার্কেট নির্মাণ, সীমানা গেট নির্মাণ এবং ডাকবাংলোগুলোর আধুনিকায়নসহ আরও নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সবগুলো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করা আমার উদ্দেশ্য। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া বাজেটের বরাদ্দ থেকেই জেলা পরিষদের এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
কথা প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, কখনও কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কিন্তু তাতে তিনি মোটেও ঘাবড়ে যান না। যখনই কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন তখন তিনি পরিষদের সব সদস্যের সঙ্গে বসে সে সমস্যার দ্রæত সমাধান করেন।

দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্নের ছোঁয়া আমি চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমে দেখতে চাই।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জেলাবাসীর কাছে শেখ সামসুল আবেদীন খোকন তার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বলেন, সুন্দর আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য সাধারণ মানুষ আমার মূলশক্তি হিসেবে কাজ করবে এটা আমার দাবি। দায়িত্বশীল ও উদ্যমী নাগরিককরা জেলা পরিষদের কার্যক্রমে তাদের ভ‚মিকা রাখতে এগিয়ে এলে আমি বিশ্বাস করি, এটি আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]