ই-পেপার সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯

বিদিশার আবেগঘন  ফেসবুক স্ট্যাটাস
এজন্মে আর দেখা হলো না, হয়তো দেখা হবে অন্য এক দুনিয়ায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

‘এজন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমীর শরীফ আসলাম আর তুমিও চলে গেলে। এত কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।’ এভাবেই সাবেক স্বামী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে আবেগঘন কথা বলেন বিদিশা।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল পৌনে ৮টায় মারা যান এরশাদ। তার মৃত্যুর পরই তৃতীয় ও সাবেক স্ত্রী বিদিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এরশাদকে নিয়ে ওই স্ট্যাটাস দেন।
দেড় দশক আগে বিদিশার সঙ্গে এরশাদের বিয়ে ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত ঘটনা। এরশাদ-বিদিশার একমাত্র ছেলে শাহতা জারাব (এরিক এরশাদ)। বিয়ের পর বিদিশার জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘটনায় এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ রুষ্ট হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর এরিককে নিয়ে এরশাদ ও বিদিশার যুদ্ধ আদালতে গড়িয়েছিল। পরে আদালতের আদেশে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ।
প্রথম দেখার দিনই শেষ বিদায় : ক্যালেন্ডারের পাতায় ঘুরে ফিরে আসে ১৪ জুলাই। এ রকম একটি দিনেই এরশাদের সঙ্গে প্রথম দেখা বিদিশার। ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজন করেছিলেন একটি ডিনার পার্টি। সেখানে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত র‌্যানে বিদিশাকে পরিচয় করিয়ে দেন এরশাদের সঙ্গে। সেই প্রথম দেখা, প্রথম পরিচয়। এরপর ঘুরে ফিরে আবারও দেখা হয়েছে। নানা সময়ে, নানা জায়গায়। প্রথম দেখার পরে ঢাকায় ফিরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের বাড়ির ডিনারে দ্বিতীয় দেখাতে ফোন নাম্বার বিনিময়। পরদিন থেকেই প্রতি ভোরে বিদিশাকে ফোন করতেন এরশাদ। এরশাদের প্রতি মুগ্ধতা বাড়তে থাকে বিদিশার। এ নিয়ে বিদিশা লিখেছেন, ‘আমার জীবনে নতুন পুরুষ। একজন সংবেদনশীল মানুষ। বৃদ্ধ কিন্তু সক্ষম। জীবনে প্রথম ভালোবাসা পেলাম। এক সময় মনে হলোÑ আই অ্যাম ইন লাভ উইথ এরশাদ। আমি এরশাদের প্রেমে পড়ে গেছি।’ বিদিশার ঘর, স্বামী, সন্তান থাকলেও প্রেম বিচ্ছেদ ডেকে আনে প্রথম স্বামী পিটার উইসনের সঙ্গে। প্রেমের চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে এরশাদ-বিদিশা গোপনে বিয়ে করেন লন্ডনে। আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় ২০০২ সালের ২৭ মার্চ দুজনে সমাপ্ত করেন আনুষ্ঠানিকতা। তবে প্রেমের এই তীব্রতা টেকেনি বেশি দিন। এখানেও ভাঙন আসে। বিচ্ছেদ ঘটে তিক্ততার ভেতর দিয়ে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর এরশাদ চুরির মামলাও দিয়েছিলেন বিদিশার বিরুদ্ধে। তারপর দুজনে দুদিকে। তবুও মনের কোণে হয়তো রয়েছিল প্রেমের রেশ। ‘এরশাদই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রেমিক’ বলে স্বীকার করা বিদিশার প্রেমিক এরশাদ মারা গেলেন ১৪ জুলাই। দুজনের প্রথম দেখার দিনেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]