ই-পেপার শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

আমন চাষে ব্যস্ত বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা
গোদাগাড়ী(রাজশাহী)প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯, ৪:৫০ পিএম আপডেট: ১৬.০৭.২০১৯ ৪:৫৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 125

আমন চাষে ব্যস্ত বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা

আমন চাষে ব্যস্ত বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা

বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকরা আষাঢ়ে অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিন থেকে প্রকৃতিতে আষাঢ়-শ্রাবণের ধারা বইতে শুরু করেছে। আষাঢ়-শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টিতে মাঠের জমিতে জমতে শুরু করেছে আকাশের বৃষ্টির পানি। প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন গোদাগাড়ীর চাষিরা। তবে একই সঙ্গে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। তাই পুরো দমে চলছে আমন ধান রোপণের প্রস্তুতি।

আমনের আবাদের জন্য প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলেন চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে জমিতে আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও, বৃষ্টি অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি অনাবাদি পড়েছিল। আবার গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে বাড়তি খরচ করে জমি তৈরি করেছিলেন অনেক কৃষক। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আষাঢের শেষে শ্রাবণের আকাশে ঘটেছে মেঘের ঘনঘটনা। গত কয়েকদিন থেকে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে আষাঢের শেষে শ্রাবণের ধারা। জমিতে জমেছে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানি। আর এ সুযোগে বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে একই সঙ্গে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও।

গোদাগাড়ী উপজেলার আমন চাষি আব্দুর রশিদ বলেন, এখন আমরা আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছি কিন্তু মজুরের দাম অনেক বেশি। এমনিতে বৃষ্টির কারণে আমন ধান রোপেণ অনেকটা দেরি হয়ে গেছে তার উপর আবার শ্রমিক সংকট। যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু উপায় নেই জমি তো আর ফেলে রাখা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই ধান রোপণ করছি।তানোর উপজেলার দূবইল গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, এবার তিনি ৪০ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তবে আকাশের বৃষ্টি হওয়ার কারণে স্বস্তি নেমে এসেছে কৃষকদের মনে। কারণ কয়েকদিন আগের খরার কারণে আমরা জমি তৈরি করতে পারছিলাম না। আর আমন ধানে সেচ দিয়ে ধান চাষ করলে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হবেন না। কারণ এই ধানের ফলন তেমন একটা হয় না। আমন ধান রোপণ করতে দেরি হওয়ার কারণে সেচ দিয়ে জমি চাষ করা শুরু করি। কিন্তু সম্প্রতি আষাঢ়ের বৃষ্টির কারণে আর সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হচ্ছে না।তবে নারী শ্রমিক কাজল রেখা, উনিমা রানী, জেসমিন পাহান বলেন, সব সময় রিমঝিম বৃষ্টি হচ্ছে আর এই বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে আমরা ধান রোপণ করছি। আর বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেশি তাই মজুরি বেশি না নিলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবো কেমন করে। তাই আমরাও আমাদের কাজের মজুরি বৃদ্ধি করেছি।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর নাহার বলেন, চলতি আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েকদিনে বৃষ্টিতে কৃষকরা পুরোদমে আমান রোপণে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে আমনের আশানুরূপ ফলন পেলে চাষিরা এ মৌসুমে লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও চাপাইনবাবগঞ্জ সদর,নাচোল ভোলাহাট,নওগাঁর মহাদেবপুর ও পার্শ্ববর্তী পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পতœীতলা উপজেলায় রোপা আমন চাষ শুরু হয়েছে। রোপা আমনের জমি তৈরি, চারা উত্তোলন ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]