ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ ৫ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯

ফুলে সাজানো ঘরে বাসর হলো না সুমাইয়া-রাজনের
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৬:২৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়া গ্রামে রাজনের বাড়িতে মঙ্গলবার উৎসবের কথা ছিল। স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীদের নিয়ে নববধূকে বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল তার। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। রঙবেঙের ফুলে সাজানো বাসরঘর। সেসব ফুল তখনও সতেজ। বিয়েবাড়ির উচ্ছ¦াসে বাদ সাধল নির্মম নিয়তি। ট্রেনের এক ধাক্কাতেই ভেঙে গেল রাজন এবং সুমাইয়ার নতুন জীবনের স্বপ্ন। এখন তারা পরপারে। বাসরঘরটি আগের মতোই ফুলে ফুলে সাজানো আছে। নেই শুধু বর-কনে। বৌভাতের উৎসবের পরিবর্তে বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।
সোমবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা এই নবদম্পতি সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন শেখ (৩২) ও কনে উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (২১) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেনÑ বরের মামা কান্দাপাড়া গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে আলিফ ওরফে বায়েজিদ (৯), বরযাত্রী চুনিয়াহাটি গ্রামের ভাষা শেখ (৫৫), রামগাতি এলাকার আবদুল মতির ছেলে আবদুস সামাদ (৫০), তার ছেলে শাকিল (২০), বরের বন্ধু দিয়ারধানগড়া এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফুল ইসলাম (২৬), চাচাতো ভগ্নিপতি রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামের আলম শেখের ছেলে খোকন শেখ (৩৫), কনের বড়ভাই উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের আশরাফ আলীর স্ত্রী মমতা বেগম (৩৫), মাইক্রোবাস চালক কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের নূরে আলম স্বাধীন (৫৫) ও চালকের সহকারী সয়াধানগড়া এলাকার সুরুত আলীর ছেলে আবদুল আহাদ সুজন (২১)।
সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের সদ্যবিবাহিত বর রাজন শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় নিস্তব্ধ শোকাবহ পরিবেশ। চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত নারী-পুরুষ। সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা নেই কারও কাছেই। শুধু কান্দাপাড়া নয়, আশপাশ গ্রামগুলো থেকেও শিশু ও বৃদ্ধ সব বয়সি মানুষ আসতে থাকে। ওই বাড়িতে এসে এমন শোকাবহ পরিবেশ দেখে অজান্তেই চোখের অশ্রæ গড়িয়ে পড়ছে অনেকের।
প্রতিবেশীরা জানায়, আলতাফ হোসেন গরুর ব্যবসায়ী। তার ছেলে রাজন টুইস্টিং মিলের শ্রমিক। বড় মেয়ে স্বর্ণা খাতুনের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে রুপা পড়াশোনা করছে। বাপ-ছেলে মিলে সংসারটা ভালোই চালাচ্ছিল। সোমবার রাজনের বিয়ে হয়েছে উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে। বিয়ের জন্য দুপুরে দুটি মাইক্রোবাসে প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী নিয়ে যায় তারা। উৎসবমুখর পরিবেশে সেখানে বিয়েও হয়। কিন্তু ফেরার পথে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় বর-কনেসহ ১১ জন। দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করতে হলো চারজনকে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বর-কনেসহ ১১ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর (বাদ জোহর) পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠ, রামগাতি, কালিয়া হরিপুর, সয়াধানগড়া, দিয়ারধানগড়া ঈদগা ও এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের ঘাটিনা ঈদগা মাঠ ও রায়গঞ্জের উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেয়। শেষবারের মতো মৃতদেহগুলো দেখতে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ এসে ভিড় জমায়। পৃথক পৃথকভাবে সাতটি জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা শেষে তাদের বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোমবার উল্লাপাড়ার সেলপ নামক স্থানে অরক্ষিত একটি লেভেল ক্রসিংয়ে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১১ জন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]