ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ ৫ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯

নামছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ
কুড়িগ্রামে নামতে শুরু করেছে পানি : ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯, ৬:৩৮ পিএম আপডেট: ২২.০৭.২০১৯ ৬:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে নামতে শুরু করেছে পানি : ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ

কুড়িগ্রামে নামতে শুরু করেছে পানি : ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ


কুড়িগ্রামে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। সেই সাথে বেড়েছে দুর্ভোগ। এখনো ঘরে ফিরতে পরছে না দুর্গতরা। গত ১৩দিনে ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। বানভাসীদের জন্য অপ্রতুল ত্রাণের কারণে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। বিশাল এলাকা জুড়ে বন্যা হওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা পরেছে চরম বিপাকে। তারা পৌছাতে পারেনি সবার কাছেই। এ অবস্থায় সোমবার কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণ সহায়তা দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।
কুড়িগ্রামে নামতে শুরু করেছে পানি : ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ

কুড়িগ্রামে নামতে শুরু করেছে পানি : ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ


জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বন্যার ফলে ৫৭টি ইউনিয়নের ৮৯৪টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পরেছে। এতে প্রায় ২ লাখ পরিবারের ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে প্রায় ২ লাখ। ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর। বন্যায় ৫শ কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কি.মি বাঁধ ও ৪১টি ব্রীজ/কার্লভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৪ হাজার মানুষ ১৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। নলকুপ ক্ষতিগস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি।
বন্যা দুর্গতদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। ৫টি ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে বলে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা:এসএম আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতায় প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ সামর্থ অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করছেন। বেসরকারি এনজিওগুলো এখনো হাত গুটিয়ে বসে আছে। ডোনার সহায়তা না করায় তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অপরদিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে এগিয়ে আসলেও তা একেবারেই নগন্য। ফলে বানবাসীদেরর মধ্যে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান জানান, সকল বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে ৮শ’ মে.টন জিআর চাল, ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬ হাজার ৪২৮ মে.টন চাল  বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এ দিকে কুড়িগ্রামে টানা ১৩দিন ধরে বন্যার কবলে পরে প্লাবিত হয়ে আছে জেলার ৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৭টি ইউনিয়নের ৮৯৪টি গ্রাম। পানিবন্দী প্রায় ৮লাখ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী থাকায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ফসলী জমিন নিমজ্জিত হয়ে আছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত পাট, ভুট্টা, আউসধান ও বীজতলাসহ শাকসবজী জলমগ্ন হয়ে আছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার জানান, শাকসবজীর মধ্যে করলা, পটর, বেগুন, ঝিংগা, লালশাক, ডাটা, পাট, পুঁই, কলমিসহ ১ হাজার ৯৬২ হেক্টর সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হওয়ার পথে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকারচর এলাকার সবজি চাষী ফুলবর রহমান, জামাল, আজিজল জানান, হঠাৎ করে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় করলা ও পটলক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে দুই একর জমির সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।  একই অবস্থা মোগলবাসা উপজেলার সিতাইঝাড় এলাকার কৃষকদের মধ্যে। এখানে সবজি চাষ করেই লোকজন জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের সবার সবজিক্ষেত তলিয়ে আছে পানির নীচে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, চলতি বন্যায় জেলার ৩৩ হাজার ১২৭ হেক্টর ফসলী জমির মধ্যে ১৯ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। এখনেই কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমানটা বের করা যাবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]