ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯ ৩ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯

অবশেষে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা করল ‘চন্দ্রযান-২’
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯, ৭:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা করল ‘চন্দ্রযান-২’

অবশেষে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা করল ‘চন্দ্রযান-২’

প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় চেষ্টায় সফলভাবে চন্দ্রযান-২ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। মহাকাশযানটির আরও এক সপ্তাহ আগেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুর উদ্দেশ্যে রওয়ানা করার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছিল।

প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে এ অভিযানটি পরিচালনা করছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তুলনায় ২০ ভাগের একভাগ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এ অভিযানে সফল হলে ‘ইসরোর’ জন্য তা হবে বিরাট এক মাইলফলক। 

বিবিসি জানায়, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধওয়ন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাড থেকে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ০২টা ৪৩ মিনিটে  চাঁদের উদ্দেশে উড়ে গেছে চন্দ্রযান-২।

চন্দ্রযান-২ এর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের কথা রয়েছে। যদি সেটি সফলভাবে অবতরণ করতে পারে তবে চন্দ্রজয়ী দেশগুলোর তালিকায় চতুর্থ নাম হবে ভারত। এর আগে কেবল রাশিয়া (সোভিয়েত রাশিয়া), যুক্তরাষ্ট্র ও চীন চন্দ্রজয় করেছিল।

৬৪০ টন ওজনের, ১৫ তলা উঁচু অরবিটার বাহুবলী (এ জিএসএলভি এমকে থ্রি রকেট) চন্দ্রযান-২ কে চাঁদে নিয়ে যাচ্ছে। এর ল্যান্ডারের নাম ‘বিক্রম’ ও রোভারের নাম ‘প্রজ্ঞান’ রাখা হয়েছে।

২০০৮ সালে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়া ভারতের প্রথম মহাকাশযান চন্দ্রযান-১ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহে থাকা হাইড্রক্সিল আয়নের হদিস পেয়েছিল। এবারের দ্বিতীয় অভিযানের উদ্দেশ্য চন্দ্রপৃষ্ঠের বালিকণায় থাকা খনিজ ও মৌল পদার্থ সম্বন্ধে জানা।

চাঁদের যে অংশে চন্দ্রযান-২ এর নামার কথা এর আগে সেখানে কোনো দেশের কোনো মহাকাশযান নামেনি।

চন্দ্রযান-২ এর অরবিটার, ল্যান্ডার ও রোভার ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি, এ কারণে এ মহাকাশযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম পড়ছে।

চাঁদের বুকে পা রাখতে চন্দ্রযান-২ কে তিন দশমিক ৮৪ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। হিসাব অনুযায়ী, রওনা হওয়ার দেড় মাস পর চাঁদের পিঠে ‘বিক্রম’ এর নামার কথা। এরপর এ ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসবে ২৭ কিলোগ্রাম ওজনের ‘প্রজ্ঞান’।

ল্যান্ডারটি নেমে আসার সময় অরবিটারটি থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠের দূরত্ব থাকবে মাত্র ১০০ কিলোমিটার। চাঁদে অনুসন্ধান চালানোর পর রোভার ‘প্রজ্ঞান’ সেখানেই অকেজো হয়ে পড়বে; তবে তার তথ্য চলে যাবে ভারতের মহাকাশ কেন্দ্রে। অরবিটারটি এরপরও মহাকাশে থাকবে; চাঁদকে প্রদক্ষিণের পাশাপাশি পাঠাবে একের পর এক ছবি।

যে খরচে ভারতের এ চন্দ্রাভিযান হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে হলিউডের ব্লকবাস্টার ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার: এন্ড গেইম’ বানাতেই।

ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এবং ইসরোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একাউন্টে চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

উৎক্ষেপণের পর এক বক্তৃতায় ইসরো প্রধান কে শিভান বলেন, “এটা চাঁদের পথে ভারতের ঐতিহাসিক অভিযাত্রার শুরু।” তিনি এই অভিযানে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ অভিযানের প্রশংসা করেছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]