ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ ৫ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯

খরার কবলে বরেন্দ্র অঞ্চলে সদ্য রোপনকৃত রোপা-আমন
গোদাগাড়ী(রাজশাহী)প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯, ৬:৪১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

খরার কবলে বরেন্দ্র অঞ্চলে সদ্য রোপনকৃত রোপা-আমন

খরার কবলে বরেন্দ্র অঞ্চলে সদ্য রোপনকৃত রোপা-আমন


বরেন্দ্র অঞ্চলে সদ্য রোপনকৃত রোপা-আমন খরার কবলে পড়েছে। টানা ১০ দিনের অধিক বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ও রোদের তাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে ধানের ক্ষেতে ফেঁটে চৌচির হতে বসেছে। এতে করে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের গভীর নলকূপ দিয়ে ধানের জমিতে পানি দিতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা।

ইরি-বোরে আবাদে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কমদামে ধান বিক্রয় করে বোরো আমন আবাদ করতে এসে অতি খরার কারণে জমিতে ফসল চাষের খরচ বেড়ে গেছে। হালচাষসহ জমিতে সেচের টাকা জোগাড় করতে ঋণগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকরা।

গোদাগাড়ী উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, যারা প্রায় ১ সপ্তাহ আগে জমিতে রোপা-আমন করেছে সে সব জমিতে পানি না থাকার ফলে জমির চারা মরে যাচ্ছে। ধান আবাদের জন্য বৃষ্টির পানি ধওে রেখে প্রস্তত করে রেখেছিলেন তাদের জমি শুকিয়ে গিয়েছে।

গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষক মামুন জানান, প্রায় ১২-১৪ দিন আগের বৃষ্টির পানিতে বোরো আমনের ধান জমিতে লাগাতে পেরেছি। কিন্তু গত ১০ দিন হতে আকাশের কোন বৃষ্টি না হওয়ার ফলে জমি শুকিয়ে ধান মরতে বসেছে।

তানোর উপজেলার কৃষক মিঠু জানান, আমাদের দিকে কিছু এলাকায় ধান জমিতে লাগানো আছে আর এখনো বেশীর ভাগ জমি বৃষ্টির পানির অভাবে জমিতে চাষ দিতে পারিনি ফলে ধানের আবাদ নিয়ে চিন্তিত রয়েছে। বিএমডিএর গভীর নলকূপ হতে পানি কিনে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকরা জানান। কেননা এই সময়ে জমি খরার কবলে পড়ে প্রচার পানি লাগে আর জমিতে পানি দেওয়ার জন্য অনেক সময় নিতে হচ্ছে। সিরিয়ালের জন্য ৫-৬ দিন পর্যন্ত ধ্যৈর্য ধরতে হচ্ছে। আবার কোন সময় সকালে পানি পাব বলে গেলে দিন গড়িয়ে রাতে পানি পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছে।

নাচোল উপজেলা নেজামপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল বলেন, আমাদের জমি পানির অভাবে চাষ দিতে পারিনি। বৃষ্টি ও গভির নলকূপের পানির না থাকায় এই চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে বলে তিনি জানান। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান জানান, গোদাগাড়ী উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৪৬ হেক্টর বোরো আমান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমি আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো ধান লাগানোর জন্য আরো উপযুক্ত সময় আছে। তিনি আরও শ্রাবণ মাসজুড়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই আমরা এটাকে খরা বলবো না । তবে রাজশাহী অতি খরাপ্রবণ এলাকা হওয়াতে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে কিছুদিন হতে বৃষ্টি নাই। তবে আগামী ২৫ জুলাইয়ের পর হতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে তখন এই সাময়িক ক্ষতিটা কাটিয়ে উঠা যাবে বলে জানান।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]