ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ ৪ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯

চাঁদপুরে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

চাঁদপুরে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি


চাঁদপুর জেলায় এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার কারণে কৃষকদের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর  উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ আবাদ হয়েছে। অাখের ফলন ও ভালো।ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আখ খুচরা ও পাইকারি বিক্রি। আগামী এক মাসের মধ্যে অধিকাংশ জমির আখ বিক্রি হয়ে যাবে।

চাঁদপুর জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলার আখ  লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৬৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৩৩৫ হেক্টর, মতলব উত্তর উপজেলায় ২১০ হেক্টর।

মতলব উত্তর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা সেচ প্রকল্পের আওতায় হওয়ার কারণে জমিগুলো কৃষি উপযোগী থাকে বছরজুড়ে। এছাড়াও সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৬৫ হেক্টর, মতলব দক্ষিণে ৫ হেক্টর, হাজীগঞ্জে ৮ হেক্টর, শাহরাস্তি ৩৫ হেক্টর, কচুয়া ৫ হেক্টর ও হাইমচর উপজেলায় ৭ হেক্টর।
                
ওই সব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোজ নিয়ে জানা গেছে, আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ চাষীরা  জমিতে কাজ করছেন। কেউ আখ তুলছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। আবার অন্য শ্রমিক এসব আখ সড়কে নিয়ে স্তূপ করে রাখছেন।
     
কচুয়ার মাঝিগাছা  এলাকার কৃষক শামসুল হক( ৫৫)  বলেন, তিনি এ বছর ৪০ শতাংশ জমিতে আখের  আবাদ করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে তার কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লাভ হবে।
               
ফরিদগঞ্জের  লোহাগড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল পাটওয়ারী( ৪৩) বলেন, তারা প্রায় ১৫ বছর আখের  আবাদ করেন। সেচ প্রকল্প হওয়ার কারণে তাদের আখেল ফলন খুবই ভালো হয়েছে। এ বছর তাদের জমিতে ২০৮ নম্বর যা ‌'চাঁদপুর গ্যান্ডারি' নামে পরিচিত এটিই তারা আবাদ করেছেন। চাঁদপুর গ্যান্ডারি স্থানীয়ভাবে খুচরা এবং পাইকারি দুইভাবে বিক্রি হচ্ছে। কারণ এই আখ খুব সহজেই চিবিয়ে খাওয়া যায়।
           
মতলব দক্ষিণের নায়েরগাঁও এলাকার কৃষক আবুল কালাম (৪৫) বলেন, আমাদের এলাকায় মাত্র আখ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১ মাসের মধ্যে সব আখ বিক্রি হয়ে যাবে। তবে কিছু উঁচু জমির আখ দেরিতে বিক্রি হয় এবং ওইসব কৃষক দামও ভালো পান। এখন পাইকাররা এসে পুরো জমির আখ একসঙ্গে ক্রয় করে নিচ্ছে।
            
মতলব উত্তরের নান্দুরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম ভুইয়া(৪৮)  বলেন, এ বছর আখের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। এই এলাকায় চাঁদপুর গেণ্ডারি, রং বিলাস, ইশ্বরদী বিএসআরআই-(৩৪), ৪১ ও ৪২ আবাদ হয়। স্থানীয় জাতের আখের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। আমি এসব আখ ক্রয় করে ঢাকা এবং নোয়াখালীতে নিয়ে বিক্রি করি।
                  
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নোয়াখেরুল ইসলাম বলেন, আবহওয়া ভালো থাকায় চাঁদপুরে আখার আবাদ খুবই ভালো হয়েছে। আখ লাভজনক হওয়ার কারণে কৃষকদেরও দিন দিন আখ আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। চাঁদপুর গেণ্ডারি নামক আখ এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]