ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 59

চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া দেশে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা মানছে না অনেক বিক্রেতা। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা হচ্ছে। আরও উদ্বেগজনক খবর হচ্ছে, মিথ্যা ঘোষণায় নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক আমদানি করা হচ্ছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই অপরাধমূলক কাজটি করছে। শহরের পাড়া-মহল্লা ও উপজেলা পর্যায়ের ওষুধের দোকানে তুলনামূলক কম দামে এসব ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। অবৈধ এ কারবারের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিলেও প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের ১১টি চালান আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছেÑ কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মিথ্যা ঘোষণায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ওষুধ বেশি আমদানি করা হচ্ছে। দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা একাধিক বিদেশি চক্রের সহযোগিতা নিয়ে অবৈধ ওষুধের এ কারবার করছেন সুকৌশলে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরদারিতে চালান ধরা পড়লেও প্রকৃত আমদানিকারকদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করার জন্য নামিদামি দোকানে যান না। তারা শহরের পাড়া-মহল্লা ও উপজেলা পর্যায়ের দোকানে সরবরাহ করেন। তারা নিজস্ব লোক দোকানে দোকানে পাঠিয়ে আগ্রহী দোকান মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে রাখেন। এরপর সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হয়। আমদানি করা নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের মূল্য পরিশোধ করা হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে।
জীবন রক্ষায় অনিবার্য ওষুধ যে বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ওষুধ প্রস্তুত, আমদানি ও বিপণনের ব্যবসাটি অন্য আর দশটি ব্যবসার মতো নয়। ওষুধ একটি সেবাপণ্য। কাজেই এই পণ্য প্রস্তুত, আমদানি ও বিপণনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই, ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ থেকে যাচ্ছে। দেশের ভেতরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী যেমন নকল ও ভেজাল ওষুধ বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে, তেমনি আরেকটি চক্র চোরাইপথে বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসছে অনুমোদনহীন নানা ওষুধ। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ওষুধ নিয়ে দেশের মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। ওষুধ প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক আমদানিকারকদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সবাই কার্যকর ভ‚মিকা রাখবেÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
উম্মে কুলসুম




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]