ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ঘরমুখো মানুষের ভিড়
ঈদযাত্রা নিরাপদ হোক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৮.২০১৯ ১০:২০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 50

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। শুক্রবার এবং আজ শনিবার সরকারি ছুটি। ঈদের মূল ছুটি রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাশে লাইনচ্যুত হয়। সুন্দরবন এক্সপ্রেসের একটি বগির দুটি চাকা বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপারে সেতুতে ওঠার আগে লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ট্রেনটি উদ্ধার করে লাইন সচল করতে যে সময় লাগে, তাতে ঈদের পুরো সময় জুড়ে পশ্চিম রেলের ট্রেনগুলোর সময়সূচিতে বড় বিপর্যয় তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রেলের এই বিপর্যয়ের সঙ্গে নাজুক সড়ক-মহাসড়কও ঈদযাত্রায় বিঘœ ঘটাতে পারে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, এবার বন্যায় সওজ অধিদফতরের ৮০১ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া এবং পশুবাহী ট্রাকের বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে বিভিন্ন মহাসড়ক ও রাজধানীর সড়কগুলোর স্থানে স্থানে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকে পুরোদমে হাট জমতে শুরু করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে। সব মহাসড়কের নাজুক অংশ সংস্কার করার কথা থাকলেও কাজের ধীরগতিই আশঙ্কার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থায়ী সংস্কারকাজ না করে ইট-বালু ফেলে কোথাও কোথাও সংস্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে এই অংশগুলো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আবারও সমস্যার সৃষ্টি করবে। শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় বলে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। শুক্রবার ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের দুইদিকেই জট তৈরি হয়। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গরুবোঝাই ট্রাক যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেহাল সড়কের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে ফেরি পারাপারের ঝঞ্ঝাট। ফেরি পারাপারে বিলম্বের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও মাওয়া-জাজিরা ঘাটের উভয় প্রান্তেই দীর্ঘ জট। এ ছাড়া পদ্মা-যমুনার তীব্র স্রোতের কারণেও ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। স্রোতের সঙ্গে পেরে উঠছে না দীর্ঘদিনের পুরনো ফেরি। সঙ্গে রয়েছে ফেরি সংকট। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এ রুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদে ফেরিতে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে যোগ হয় কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ। সব মিলিয়ে শত শত যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ ফেরির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগের কয়েক বছরের তুলনায় এবার যাত্রাপথে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবে সাধারণ মানুষ।

সমস্যা আরও আছে। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। নিকটজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় আন্তঃজেলা বাস কোম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। এ সময় বিআরটিসিও বিশেষ সার্ভিস চালু করে। কিন্তু ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। আবার ঈদের সময় দেখা যায়, আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক জায়গায় সড়ক-মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসে। ফলে এই হাটগুলোও যানজটের কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। এসব হাটে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ঢোকা ও বের হওয়ার পথে যানজটের সৃষ্টি হবেই। উদাহরণ হিসেবে ঢাকার গাবতলী পশুহাটের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই হাটের কারণে আমিনবাজার ব্রিজের দুই পাশে লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়।

তবে যেকোনো মূল্যে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে হবে। ভাঙাচোরা রাস্তা যেন কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। রাস্তা মেরামত করা গেলে ঈদযাত্রার দুর্ভাবনা থাকবে না। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় করতে হবে। ঈদে প্রতিবছরই লাখ লাখ মানুষ তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে উৎসব করতে। সেই যাত্রাকে যতটা সম্ভব বিড়ম্বনামুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভ‚মিকাই কাম্য। যাত্রাপথের বিড়ম্বনায় ঈদের আনন্দের সামান্য ঘাটতিও যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে কর্তব্য।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]