ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ূক
রাশেদ মো. সাজ্জাদুর রহমান
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 66

ঈদের খুব বেশি বাকি নেই। ঈদ-উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ঘরে ঘরে। ঢাকায় প্রায় দুই কোটি লোক বাস করে। ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। ফলে টার্মিনালগুলোতে রীতিমতো উপচে পড়ে ভিড়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য শত বাধা পেরিয়েও মানুষ শিকড়ের টানে ঘরে ফেরে। কিন্তু প্রতিবারের মতো পুরনো দৃশ্যই আমাদের দেখতে হয়। ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রির প্রথম দিনেই বাস-লঞ্চের সব টিকেট উধাও হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, ঈদ সামনে রেখে বাড়ানো হয় টিকেটের দামও। আবার অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে টিকেট মিললেও যানবাহনটি যে সঠিক সময়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই। রাজধানীতে যারা বাস করেন, যানজট তাদের কাছে নতুন না হলেও দূরপাল্লার বাসে মহাসড়কেও যখন যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয় তখন চেনা যানজটও দুঃসহ হয়ে ওঠে। অথচ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু যানজট কখনও এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে ঘরমুখো যাত্রীদের অনেককেই ইতঃপূর্বে ঈদের দিনও রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। এবারও যে তার ব্যতিক্রম ঘটবে, তা বলার উপায় নেই। কারণ ইতঃপূর্বে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোথাও কোথাও এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। কাজেই লক্ষণ ভালো নয়।
রাজধানী থেকে যে পরিমাণ মানুষ গ্রামে ফেরে সে তুলনায় যানবাহনের সংখ্যাও অপ্রতুল। এ কারণে বাসে, ট্রেনে, এমনকি লঞ্চেও অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লোকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। যদি সার্ভিস বাড়ানো যায়, তাহলে হয়তো এ দুর্ভোগ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু রাতারাতি তো আর সমস্যার সমাধান করা যায় না। এ জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। দুঃখজনক হচ্ছে, আমাদের দেশে সেই পরিকল্পনার বড়ই অভাব। না হলে প্রতিবছর ঈদে একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলেও সেগুলো সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেই কেন? দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের জন্য লঞ্চই অন্যতম ভরসা। লঞ্চ মালিকরা অগ্রিম টিকেট বিক্রির ঘোষণা দিলেও টিকেটের জন্য রীতিমতো হাহাকার সৃষ্টি হয় ঘরমুখো যাত্রীদের। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল করার কারণে নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে যাত্রীরা যারপরনাই উদ্বিগ্ন। ঈদে প্রতিবছরই লাখ লাখ মানুষ তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে উৎসব করতে। সেই যাত্রাকে যতটা সম্ভব বিড়ম্বনামুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভ‚মিকাই কাম্য। যাত্রাপথের বিড়ম্বনায় ঈদের আনন্দের সামান্য ঘাটতিও যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তের কর্তব্য।
অনেকে বলেন, ঈদ হলো শুধু ছোটদের। তারাই নতুন জামা-জুতা পরবে, আনন্দ করবে, ঘুরে বেড়াবে। কথাটা যে শতভাগ অসত্য এমনটা বলা যাবে না। কারণ ছেলেবেলায় ঈদের খুশিই থাকে অন্যরকম। বড় হয়ে দায়িত্ব বাড়ে। ছোটদের ঈদ আনন্দের সুযোগ সৃষ্টি করা তখন বড়দের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই বলে বড়রা যে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত কিংবা উৎসব থেকে অবসর নিয়েছেÑ বিষয়টি এমনও নয়। একেক বয়সে উৎসবের ধরন বদলে যায়। ঘরে বসে ঈদের উৎসবে নিকটজনদের সঙ্গে মেতে ওঠা তো রয়েছেই। সে জন্য ভালোমন্দ খাবার জোগানোর সুবন্দোবস্ত রাখতে হয়।
আবার বাইরে ঘোরাফেরাও আছে। বন্ধুদের বাসায় যাওয়া, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। ঈদ তো সবার, এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। তবে মানবিক কারণে একটু আশপাশেও তাকাতে হয়। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত, অথচ ঈদের বাড়তি ব্যয় করার সামর্থ্য যাদের নেই, তাদের জন্য ঈদ উপহার কেনার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ রয়েছে। এই আনন্দ ঈদ উপলক্ষেই পাওয়া। বাস্তবতা হলো এখন লোকের ক্রয়ক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে চাহিদা ও জোগানের নীতি অনুযায়ী ঈদ-পণ্যের প্রসার হচ্ছে, পসারও জমে উঠেছে বেশ। ঈদের আনন্দ একা একা করা যায় না। সবাইকে নিয়েই করতে হয়। সমাজের বিত্তহীন ও দুর্দশায় পতিত মানুষ বা পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ালে চিত্তসুখী অর্থবান মানুষের ঈদও
অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবেÑ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই উৎসব-প্রস্তুতিতে শুধু নিজের কথা নয়, ভাবতে হবে অসামর্থ্যবান উৎসব-উন্মুখ মানুষের কথাও। তার খুশি রচনার জন্য হতে হবে উদ্যোগী। কেননা মানুষ মানুষের জন্য। উৎসবের দিনেও এ কথা মনে রাখা চাই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]il.com