ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

আরাফা দিবসের বিশেষ মর্যাদা
মাওলানা শামসুদ্দীন সাদী
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মহিমা ও মর্যাদার মাস জিলহজ। এই মাসে অগণিত পুণ্যের ফল্গুধারা প্রবাহিত হয়। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রোকন পবিত্র হজ পালিত হয়। এই মাসের প্রথম ১০ দিনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। এর মধ্যে ৯ জিলহজ, আরাফার দিনের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। এই দিনের মর্যাদা ও সম্মান এত বেশি যে মহানবী (সা.) এই দিনকে ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আরাফার দিন, কোরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনগুলো হচ্ছে ইসলামে আমাদের ঈদের দিন। এ দিনগুলো হচ্ছে পানাহারের দিন।’ (আবু দাউদ : ২৪১৯)। এ ছাড়া কোরআনের কিছু আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরাফার দিনের কসম খেয়েছেন। এর দ্বারা এ দিনের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা পরিস্ফুটিত হয়।
যারা পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেন তারা এই দিনে আরাফার ময়দানে সমবেত হয়ে হজের মূল ফরজ উকুফে আরাফা পালন করেন। যারা হজে যাননি তাদের জন্যও এই দিনে বিশেষ বিশেষ আমল রয়েছে। এ বিষয়ে নবীজি থেকে বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

রোজা রাখা : আরাফার দিন ৯ জিলহজ যারা হজে গমন করেনি তাদের জন্য রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। হজরত কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিমকে (সা.) আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। নবীজি (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘তা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’ (মুসলিম : ১১২৬)। একটি রোজার বিনিময়ে দুই বছরের গুনাহ মাফ পাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এই হাদিসে। তবে যারা হজে গমন করে আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এই দিন রোজা রাখা সুন্নত নয়। বরং হাজিদের এই দিন রোজা রাখতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।

বেশি বেশি ইস্তেগফার করা : আরাফার দিনে অতীতের গুনাহের জন্য বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রয়োজন।  আরাফার দিনে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাত দান করেন। আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের কাছাকাছি আসেন এবং জানতে চান যে, বান্দা তার কাছে কি চায়? হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আরাফার দিনের তুলনায় এমন কোনো দিন নেই, যে দিন আল্লাহ তায়ালা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তায়ালা নিকটবর্তী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেন, তারা কি চায়?’ (মুসলিম : ১৩৪৮)

এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা গেল যে, আল্লাহ তায়ালা এই দিন সবচেয়ে বেশি মানুষকে ক্ষমা করেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এবং মানুষের মনের আকাক্সক্ষা জেনে তা পূরণ করেন। সুতরাং আমাদের উচিত হবে এই দিনে বেশি বেশি তাওবা ইস্তেগফার করা। জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করা।

বেশি বেশি দোয়া করা : এমনিতে আল্লাহ তায়ালা সবসময় বান্দার দোয়া কবুল করেন। তবে বিশেষ বিশেষ সময় ও স্থানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। আরাফার দিনও একটি বিশেষ দিন। এই দিনে আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। হাদিস শরিফে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে উত্তম দোয়া করতাম তা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই ইন কাদীর।’ (তিরমিজি : ৩৫৮৫)
বেশি বেশি নেক আমল করা : জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন বেশি বেশি নেক আমল করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ জিলহজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এ দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি প্রিয় কোনো আমল নেই। অর্থাৎ জিলহজের দশ দিনের নেক আমল। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহও কি নয়? তিনি বললেন, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহও এ দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় নয়। কেবল সে ব্যক্তির আমল ব্যতীত যে স্বীয় জীবন ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে আর কিছু নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেনি।’ (আবু দাউদ : ২৪০০, মূলত আল্লাহ তায়ালা মাঝে মধ্যেই সুবর্ণ সুযোগ করে দেন, যেন তার বান্দাগণ শয়তানের প্ররোচনায় যেসব পাপকাজে জড়িয়ে গেছে সেগুলো থেকে তওবা করে পাপমুক্ত হতে পারে। আরাফার দিন এমনি একটি দিন। সুতরাং প্রত্যেকের উচিত হবে এর মর্যাদা অনুধাবন করে আমলের মধ্যে দিনটিকে অতিবাতি করা। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।
লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]