ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

কোরবানির গোশতের বিধান
মাহবুবুর রহমান নোমানি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৮.২০১৯ ১১:৩২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরবানির গোশতের বিধান

কোরবানির গোশতের বিধান

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তা থেকে (কোরবানিকৃত জন্তুর গোশত) আহার কর এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ (সুরা হজ : ২৮)। অন্য স্থানে বলেছেন ‘কোরবানির পশুর গোশত, রক্ত আল্লাহর দরবারে পৌঁছে না। তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ : ৩৭)। সুতরাং কোরবানির গোশত নিজে খাবে, আত্মীয়-স্বজনকে দেবে এবং গরিব-মিককিনদের দান করবে। মুস্তাহাব হচ্ছে, কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করা, এক অংশ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে দেওয়া আর এক অংশ নিজের পরিবারের জন্য রাখা। (ফাতওয়ায়ে শামি : ৫/২০৮)

গরিব-অসহায়দের না দিয়ে ডিপফ্রিজের গর্ভে সব গোশত ভরে রাখা অমানবিকতা। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নফসের দমন আর দরিদ্রের কষ্ট বিমোচনের জন্যই কোরাবানির বিধান প্রবর্তিত হয়েছেন। আত্মত্যাগ, আত্মবিসর্জন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রতি স্থাপন এবং গরিব-অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানো কোরবানি প্রধান উদ্দেশ্য। সুতরাং ফ্রিজের গর্ভে নিহিত গোশত যেন দুঃখী হৃদয়ে আহ্ সৃষ্টি না করে।

কোরবানির গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন নিয়ম চালু রয়েছে। যার কোনো কোনোটি শরিয়তসম্মত নয়। যেমন অনেক এলাকায় এই নিয়ম আছে যে, সমাজপতিরা কোরবানি দাতাদের একভাগ গোশত তাদের কাছে জমা দিতে বলেন। সেই হিসেবে সবাই একভাগ গোশত একস্থানে জমা করেন। এটাকে সামাজিক গোশত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এরপর সমাজপতিরা সেই গোশত ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবার মধ্যে সমান হারে বণ্টন করেন। এমনকি কোরবানি দাতাদেরও দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি সঠিক নয়।

কোরবানি দাতা তার গোশত বণ্টনের ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীন। সে গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে কারো কাছে দায়বদ্ধ নয়। বরং যাকে ইচ্ছা তাকে দিতে পারবে। এটিই কোরবানির গোশত বণ্টনের সঠিক পদ্ধতি। কিন্তু সমাজপতিরা যদি কোরবানি দাতাকে গোশতের এক অংশ সমাজে জমা দিতে চাপ সৃষ্টি করেন তাহলে তা ঠিক হবে না। তবে গরিবদের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য কোরবানি দাতারা যদি স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে এক অংশ গোশত এক জায়গায় জমা করেন আর সমাজপতিরা তা কেবল গরিব-মিসকিনদের মধ্যে দেন তা হলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা অবৈধ হবে না।

কোরবানির গোশত বিক্রি করা নাজায়েজ। যদি বিক্রি করা হয় তাহলে সে অর্থ সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। এমনিভাবে কোরবানির গোশত কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়; বরং হাদিয়া হিসেবে দেওয়া যাবে। (এমদাদুল ফতোয়া : ৩/৫৬৪)
অংশীদারি কোরবানির ক্ষেত্রে গোশত পাল্লা দিয়ে ওজন করে বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে বণ্টন করা যাবে না। পরস্পরে রাজি থাকলেও তা ঠিক না। কারণ কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তা সুদের শামিল। (ফাতওয়ায়ে শামি : ৫/২২৩)

কোরবানির গোশত রান্না করে, শুকিয়ে শুঁটকি করে কিংবা ফ্রিজজাত করে রাখাও জায়েজ আছে। অনেকে বলেন, কোরবানির গোশত তিনদিনের বেশি রাখা যাবে না, তাদের কথা সঠিক নয়; বরং সারাবছর জমা রেখেও খেতে পারবেন। এ মর্মে হজরত বিন আকওয়া (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন- ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোরবানি করবে, সে যেন তৃতীয় দিনের পর এমনভাবে সকাল না করে যে, তার ঘরে গোশত মজুদ রয়েছে। পরবর্তী বছর সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! গত বছর আমরা যেরূপ করেছি এই বছরও কি সেরূপ করব? নবীজি (সা.) বললেন, না, বরং তোমরা খাও এবং মজুদ রাখ। কেননা গত বছর মানুষ কষ্টের মধ্যে ছিল। আর আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাদের সাহায্য করবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)
লেখক : খতিব, আল মোহাজার জামে মসজিদ সাতাইশ, টঙ্গী





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]