ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

কাশ্মিরে টেলিফোন ইন্টারনেট  আংশিক চালু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন  করেছে পাকিস্তান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বলছে, ‘কাশ্মির-সংক্রান্ত সত্যটা পাকিস্তানকে মেনে নিতে হবে। এটাই সেই সময়। তারা কাশ্মির নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যেভাবে বিভ্রান্ত করছে তা বন্ধ করতে হবে।’ আর পাকিস্তান বলেছে, কাশ্মির ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ঈদুল আজহার আগে কাশ্মিরে কড়াকড়ি খানিকটা শিথিল করা হয়েছে। আংশিকভাবে চালু হয়েছে টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিসেবা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের অভিযোগ, গোটা বিশ্বের কাছে ভীতিকর এক ধরনের দ্বিপক্ষীয় চিত্র তুলে ধরছে ইসলামাবাদ। ভারত বলছে, ‘আমরা এটা ভাবছি যে, জম্মু-কাশ্মির নিয়ে ভারতীয় পদক্ষেপে পাকিস্তান কিছুটা দুর্বল। আমরা ভাবছি এটা কোনোভাবেই মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না, যদি জম্মু-কাশ্মিরে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মির নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতিটি পদক্ষেপ একপক্ষীয়।’

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এসব কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভিস কুমার। তিনি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মিরের মানুষের উন্নতির কথা মাথায় রেখেই সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে ইসলামাবাদ যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা পুনর্বিবেচনার আহŸান জানানো হচ্ছে।’

ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সমঝোতা এক্সপ্রেস বন্ধ করার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘এটা খুবই অনভিপ্রেত আমরা এর জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি।’ ভারত সরকার কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি বিশ্বের অন্য দেশ ও সংস্থাকে অবহিত করেছে বলেও জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র আরও জানান তারা কাশ্মির নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা একান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
কাশ্মির বিতর্কে এখনই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে না পাকিস্তান। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি ভারতের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে একথা বলেন। তবে পাকিস্তান ভারতের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলার অধিকার রাখে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কুরেশি বলেন, ‘আমরা সামরিক বিকল্পের কথা ভাবছি না। কিন্তু আমরা কি ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার রাখি না? পাকিস্তান রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আইনি বিকল্পের কথা ভাবছে।’

এদিকে কাশ্মির সংকট নিয়ে নিজেদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার কশ্মির নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মর্গান ওরটাগুস এমন তথ্য দিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তানকে শান্তি ও সংযম বজায় রাখতে আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন নীতি হচ্ছে, কাশ্মির হচ্ছেÑ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। কাজেই আলোচনার সুযোগ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ব এই দুই দেশের ওপরই বর্তায়। কাশ্মির সংকট নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপেই সমর্থন আছে যুক্তরাষ্ট্রের বলে জানান তিনি। কাশ্মির পরিস্থিতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান মর্গান ওরটাগুস।

অবশেষে থমথমে পরিবেশ কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হচ্ছে জম্মু-কাশ্মিরে। উপত্যকার অংশবিশেষে ফেরানো হয়েছে ইন্টারন্টে ও টেলি-সংযোগ। স্থানীয় মানুষ গতকাল সেনা পাহারায় জুমার নামাজ পড়েছেন। তবে এখনই বাড়তি সেনা সরানো হবে না। থাকছে কারফিউও। আগামী সোমবার ঈদ। বৃহস্পতিবার নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন বাইরে থাকা কাশ্মিরিরা যাতে ঈদের আগে ঘরে ফিরতে পারেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্র।

কাশ্মিরের বিখ্যাত জামা মসজিদ বন্ধ : টানা পাঁচ দিন থমথমে পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ থাকার পর প্রথমবারের মতো জম্মু-কাশ্মিরের অধিবাসীরা ঘর থেকে একটু বাইরে বেরোতে পেরেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটে চলাচল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে শ্রীনগরে অবস্থিত প্রধান মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেনি মুসলমানরা। ছোট ছোট মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি মিললেও বিখ্যাত জামা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। পাশাপাশি প্রায় সব মসজিদের আশপাশের অঞ্চলে প্রচুর নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়।

রাজ্য পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং জানান, রাজ্যের নিরাপত্তার খাতিরেই জামা মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে কাশ্মিরের অচলাবস্থার অবসান হতে চলেছে। আজ স্থানীয় মুসলমানদের জুমা আদায়ের জন্য মসজিদগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো বাধা নেই। তবে নিরাপত্তার খাতিরে প্রধান মসজিদটি খোলা হয়নি।’ নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটে চলাচল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও স্থানীয়দের নিজ নিজ এলাকার বাইরে অন্য অঞ্চলে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন দিলবাগ সিং।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]