ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

৭ দিনে ১৮ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৮.২০১৯ ১১:১৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 99

৭ দিনে ১৮ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

৭ দিনে ১৮ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১৮৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। জুলাই মাসে তা একলাফে ১৬ হাজার ২৫৩ জনে পৌঁছে। আর আগস্টের প্রথম আট দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ২০৭ জন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পুরো জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গুর মৌসুম সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এখনও বাকি। তাই আগামী দু’মাসে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঢাকা থেকে ডেঙ্গু এখন দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মশা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মধ্যে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ৩২৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। তারও আগের ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪২৮ জন। বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে বলে হিসাব দেখিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। শুক্রবার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দিন জানিয়েছেন, ৭ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে মজিবর রহমান মোল্লাকে (৫৫) বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হিসেবে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৪৭ জন। আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয় মোট ১ হাজার ১৫৯ জন। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ১৬৭ জন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮ হাজার ৭৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৪৬ জন। বাকি জেলাগুলোর বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৬৮৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও রোগমুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে গেছে। এসব জেলায় ভর্তি হয়েছে মোট ২৩৮ জন। আগের দিন ২৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৩, খুলনা বিভাগে ১৪৯, বরিশাল বিভাগে ১৬৭, রাজশাহী বিভাগে ১০৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০, রংপুর বিভাগে ৭৫  এবং সিলেট বিভাগে ২৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে গেছে। ডেঙ্গুর বাহক মশা এইডিস এজিপ্টি প্রধানত শহরে পাওয়া গেলেও মানুষের ভ্রমণসঙ্গী হয়ে যানবাহনে করে তা পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশে। ফলে কোরবানির ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সে অনুযায়ী সরকারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। কারও মধ্যে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা গেলে ঢাকার বাইরে যাওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া ডেঙ্গু রোগীদের ঈদের ছুটিতে গ্রামে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়া। পাশাপাশি হালকা জ্বর হলেও অবহেলা না করে রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক উত্তম বলেন, এখন মানুষ ঘরমুখো। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেও এ অবস্থায় গ্রামে ফেরা উচিত হবে না। কারণ যারা আক্রান্ত রোগী তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের দরকার। যে কারণে ঢাকায় থাকাই শ্রেয়। তাছাড়া তাদের মাধ্যমে গ্রামেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, সাধারণত এডিস মশা কামড়ানোর তিন থেকে চারদিন পর জ্বর হয়। যারা ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছেন, তারা আক্রান্ত কি না, তা না জেনেই যাচ্ছেন। তারা গ্রামে গিয়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ রকম অবস্থায় গ্রামে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব নয় বলে সেটা ভাবার বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ছাড়া গাইবান্ধা ও সাতক্ষীরার সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন গেলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নতুন করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে আরও চারজন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গাইবান্ধায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫ জন। ফলে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় বেশকিছু ডেঙ্গু রোগীকে বারান্দায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়েছে ১১ জন। ছাড়পত্র না নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে চারজন এবং দুই শিশুসহ ২৪ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সাতক্ষীরা : শুক্রবার পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলেছে। সিভিল সার্জন জানান, তাদের মধ্যে ৪৪ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। সিভিল সার্জন আরও জানান, চিকিৎসাধীন রোগীরা আশঙ্কামুক্ত।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]