ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

রাজশাহীর ১৪ স্পটে লার্ভা মিললেও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গতি নেই
শ.ম. সাজু রাজশাহী
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু জ্বর। এই রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভাও মিলেছে নগরীর ১৪টি স্পটে। এরপরও নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে গতি নেই। মশা নিধনে ওষুধ স্প্রের বদলে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেই দায় সারছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। নগরবাসী বলছে, দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না করলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে রাজশাহীতেও।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুলাই প্রথম এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। এরপর থেকে প্রতিদিনই রোগী ভর্তি হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শুক্রবার পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০০ জন। এদের মধ্যে একজন আছেন আইসিইউতে। তবে রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ মারা যায়নি।

ডা. সাইফুল ফেরদৌসের তথ্য মতে, শুক্রবার পর্যন্ত যে ২৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্য সবাই ঢাকা কিংবা তার আশপাশের এলাকায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে স্থানীয় সাংবাদিক ফেরদৌস সিদ্দিকী ঢাকায় না গিয়েও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। তাই বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্যরে উদ্যোগে নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতি আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে নগরীর ১০০টি স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে তাতে এডিস মশার লার্ভা আছে কি না তার পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ১৪টি স্পটে মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। এরপরও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মশা নিধন কার্যক্রমে গতি আসেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খোদ রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনি ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। রাজশাহীতে যেন ডেঙ্গু ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সম্প্রতি বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সভা করেছেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সেখানে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত হলেও সে কার্যক্রমে কোনো গতি আসেনি। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা একদিন করে মশা নিধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সেখানে ব্যানার নিয়ে আগাছা পরিষ্কারের ছবি তোলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আগাছা পরিষ্কার আর চলছে না।

এদিকে ‘পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর’ এমন যুক্তি দেখিয়ে ২০১৫ সালের পর থেকে নগরীতে মশা নিধনের জন্য ফগার মেশিনের ব্যবহার করা হয়নি। তবে সম্প্রতি মশা নিধন নিয়ে সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ফের ফগার মেশিন চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত ফগার মেশিনে মশা নিধনের স্প্রে কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, এখনও নগরীর ড্রেনগুলোতে খুব সামান্য পরিমাণে ডিজেল ও কোরোসিন তেলের মিশ্রণ ছিটিয়ে মশার ডিম নষ্টের চেষ্টা চলছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডকে ছয়টি ভাগে ভাগ করে এই কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন মাত্র ৫০০ মিলিলিটার তেল ছিটানো হয়। ছয়দিন পর পর একটি ড্রেনে তিন থেকে চার ফোটা করে তেল পড়ে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা।
এদিকে নগরীর কোন কোন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা রয়েছে সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই সিটি করপোরেশনের। কেননা, নগর সংস্থায় নেই কিট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। বেশ কয়েক বছর আগে এই পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। কিট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থাকলে তিনি গবেষণা করে বলতে পারতেন কোন এলাকায় এডিসের বংশ বিস্তার বেশি। ফলে সেসব এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা যেত। কিন্তু তা না হওয়ায় ধারণা করে তেল ছেটাচ্ছে সিটি করপোরেশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, কিট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থাকলে ভালো হতো। কিন্তু সিটি করপোরেশনে এই পদে কেউ আসতে চান না। কারণ, এখানে বেতন কম। তাই এই পদে কেউ কখনও যোগদান করেননি। তবে আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে।

তবে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, সারা দেশের মতো রাজশাহী নগরীর মানুষ যখন ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছে, তখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নামে যা হচ্ছে তা ‘আইওয়াশ’। ফটোসেশন ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ পরীক্ষা করে বলছে নগরীর ১৪টি স্পটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অথচ সেগুলো ধ্বংসের কোনো উদ্যোগ এখনও নেয়নি সিটি করপোরেশন। তাই নগরীতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আর এই কাজ যেন সুষ্ঠুভাবে হয় তার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহলের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]