ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯ ৩ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯

নিহত রনি শর্মার বাড়িতে শোকের মাতম
রনির মৃত্যু স্বাভাবিক না হত্যা
ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবী পরিবার সহ এলাকবাসীর
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রনির মৃত্যু স্বাভাবিক না হত্যা

রনির মৃত্যু স্বাভাবিক না হত্যা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও এলাকায় নিহত রনি শর্ম্মার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।পরিবারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় নিহত রনির বাবা মা, শোকে স্তব্দ এলাকাবাসী। এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না নিহতের পরিবার সহ স্থানীয়রা!গত ০২-০৮-২০১৯ শুক্রবার কুলাউড়ার টিলাগাঁও এলাকায় ফরহাদ ট্রেডার্স এ রনি শর্মা (২৮) নামে এক দোকান শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার টিলাগাঁও বাজারের স্টেশন রোডে ফরহাদ ট্রেডার্স নামে একটি হার্ডওয়্যার এর দোকানে এ ঘটনাটি ঘটে। রনি টিলাগাঁও ইউনিয়নের বিজলী গ্রামের রণজিৎ শর্ম্মার বড় ছেলে। ঘটনার দিন মুমূর্ষু অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রনি শর্মাকে চিকিৎসার জন্য কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত রনি শর্মার পিতা রণজিৎ শর্মা বাদী হয়ে গত ০৮ তারিখ বৃহস্পতিবার আদালতে ফরহাদ ট্রেডার্স এর মালিক ফরহাদ হক (৪৫),তার দুই ভাই এমদাদুল হক (৩৫),লিটন হক (৩৩)এবং ফরহাদের স্ত্রী শারমিন হক (৩২) এর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।এলাকাবাসী এবং নিহত রনির পিতা মাতা জানান,রনি শর্মা দীর্ঘ আট বছর ধরে ফরহাদ ট্রেডার্স এ চাকরি করে।কিন্তু সম্প্রতি তাকে ব্যাবসায় পার্টনার করার কথা বলে জমি বিক্রি প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা নেয় ফরহাদ ট্রেডার্স এর মালিক ফরহাদ।নিহত রনির ভাই পার্থ শর্মা অভিযোগ করে বলেন দোকানের মালিক ফরহাদ প্রায় প্রতিদিনই রনিকে টাকা ঘাটতি দেখিয়ে শারীরিকভাবে অত্যাচার করতো। সে আরো জানায় মৃত্যুর দিন রনির মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল,নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিলো এবং দুই হাতের আংগুলগুলো থেতলানো ছিল। এ মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবী জানায় পার্থ শর্মা। এদিকে পাশের বাড়ির হাফিজুল নেছা (৪৫)কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন,রনি অসুস্থ ছিলোনা। সে খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে তার শরীরের আঘাতের চিহ্ন আর তার উপর অতীতে তার দোকান মালিক ফরহাদ কর্তৃক শারীরিকভাবে নির্যাতন করা এসব বিষয় বিবেচনা করলে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন শুধু আমি নই এলাকার সকলেরই একই কথা এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয় এটা হত্যা। আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝামেলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে!তিনি এ মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং বিচার দাবী করেন।

রনি টিলাগাঁও বাজারের স্টেশন রোডের দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ফরহাদুল হকের দোকানে কর্মচারির কাজ করে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ফরহাদ ট্রেডার্সে পার্শ্ববর্তী দোকানদাররা রনিকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দোকানের মালিক ফরহাদ ও রনির পিতা রণজিৎ শর্ম্মা সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়!কুলাউড়া থানা পুলিশ রনির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রনির মা কাঞ্চন রানী শর্মা বলেন, রনি আমার বড় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সে ওই দোকানে চাকুরী করছে। গত এক বছর ধরে প্রায়ই বাড়িতে আসত না। কান্না জড়িত কণ্ঠে কথা বলতে বলতে কয়েক বার অজ্ঞান হয়ে যান তিনি!তিনি বলেন গত একমাসের মধ্যে মাত্র একদিন বাড়িতে এসেছিলো রনি। রনিকে তার মালিক বাড়িতে আসতে দিতোনা।ঘটনার দিন থেকে একমাস বাড়ি আসেনি রনি আর ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে খবর পেয়ে প্রথমে দোকানে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি তাঁকে রবিরবাজার ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি কোন ডাক্তারর চেম্বারে নেই। পরে তাঁকে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাঁর মাথার পিছনে আঘাতের কারণে অনেক বড় ক্ষত দেখা যাচ্ছে। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে ফরহাদ,রনির কোনো অসুখও ছিলোনা!তিনি বলেন আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

কুলাউড়া সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বলেন রনির মাথার পিছনেআঘাতের চিহ্ন ছিল।
টিলাগাঁও এলাকার ব্যাবসায়ী নিতাই পাল বলেন,রনি শান্ত প্রকৃতির ছেলে!আজ পর্যন্ত কারো সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে এমনটি কেউ বলতে পারবেনা। তার এ মৃত্যুকে তিনিও অস্বাভাবিক মনে করছেন সেই সাথে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবী জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত দোকান মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যে!আমি ঘটনার দিন বাড়ি ছিলাম না।খবর পেয়ে একটি অনুষ্ঠান থেকে এসে দেখি এই অবস্থা!সাথে সাথে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছি একপর্যায়ে কুলাউড়া উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]